• ঢাকা, বাংলাদেশ বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না আল্লাহ সুযোগ দিলে জনগণের চুরি করা টাকা পেট থেকে টেনে বের করবো: জামায়াত আমির সিরাজগঞ্জে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত: ইসি ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েনে ইসির সিদ্ধান্ত বাতিল জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সমানভাবে হবে বিএনপির মধ্যে উগ্রতা নেই, প্রতিশোধ নেই : মির্জা ফখরুল ভোটের দিন ভিসা সেবা দেবে না সুইডেন ঋণখেলাপিদের জন্য পরবর্তী বাংলাদেশ জাহান্নাম বানিয়ে দেব : হাসনাত ভাষার মাস শুরু ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম কমালো সরকার

চিকিৎসাসেবায় স্থবিরতা, সংকটে দেশের স্বাস্থ্য খাত

Reporter Name / ৩৪৫ Time View
Update : সোমবার, ১২ আগস্ট, ২০২৪

কুমিল্লা থেকে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন ফারুক হাসান নামে এক মুদি দোকানি। তার লিভারের সমস্যা ধরা পড়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এসেছিলেন। কিন্তু দুদিন চেষ্টা করেও ডাক্তার দেখাতে পারেননি। কারণ হাসপাতালে ডাক্তার অনুপস্থিত। শুধু তাই নয়, সাধারণ স্বাস্থ্য-পরীক্ষা করাতেও পারেননি তিনি। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবায় নেমে এসেছে স্থবিরতা। বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চিকিৎসক না আসায় বন্ধ আছে অস্ত্রোপচারও।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছে শেখ হাসিনার সরকার। গত ৫ আগস্ট দুপুরে পদত্যাগপত্র স্বাক্ষর করে তিনি দেশ ত্যাগ করেন। তার দেশ ত্যাগের পর দায়িত্ব নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা দেন সেনা প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। শেখ হাসিনার সরকার পদত্যাগের পরই ভেঙ্গে পড়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা। অফিস–আদালত খুলে দেওয়া হলেও কার্যত অকার্যকর হয়ে রয়েছে সবকিছুই।

আওয়ামী লীগ সমর্থিত সরকার পতনের পর প্রায় চিকিৎসক-কর্মকর্তাশূন্য হয়ে পড়েছে দেশের হাসপাতালগুলোতে। এসব হাসপাতালে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) সমর্থিত চিকিৎসকরা কর্মরত থাকলেও বর্তমানে তাদের কেউ নেই। তবে কিছু সাধারণ চিকিৎসক আছেন। ঊর্ধ্বতন কেউ নেই। বিএনপি সমর্থিত ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর কিছু সদস্যদের হাসপাতালে দেখা গেলেও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা কেউ অফিস করছেন না। ড্যাব নেতারা মিছিল-মিটিং করে নিজেদের জানান দিচ্ছেন।

স্বাস্থ্য খাতের অভিভাবক মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদফতরেও কেউ অফিস করছেন না। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন বিভাগের লাইন ডিরেক্টর, পরিচালকসহ বেশির ভাগ কর্মকর্তা অফিস করছেন না বলে অধিদফতরের স্টাফদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের কাজে নিয়োজিত একজন স্টাফ জানান, সরকার চলে যাওয়ার পর গতকালই প্রথম অফিস খোলা হয়। কেউই আসছেন না অফিসে। অনেকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। একটা প্রেক্ষাপট পাল্টালে তো অনেক কিছুই পাল্টে যায়। সবাই এখন দিকনির্দেশনাহীন অবস্থায় আছে। আমরাও কি করবো জানি না। তবে দফতর খোলা।

আওয়ামীপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সারা দেশে তাদের সদস্য আছেন সাড়ে ১৩ হাজারেরও বেশি। তারা সবাই চিকিৎসক। তাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা বিভিন্ন হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তারা এখন কেউ হাসপাতালে যাচ্ছেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্বাচিপ নেতা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সব জায়গায় হামলা হচ্ছে, চিকিৎসকরা কেউ নিরাপদ না। তাই অনেকেই নিরাপদে থাকার চেষ্টা করছেন।

ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কাউকে পাওয়া যায়নি। রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতাল, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল), জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতাল, জাতীয় কিডনি হাসপাতালসহ বেশ কিছু সরকারি হাসপাতালে আওয়ামী লীগের পদধারী ও সমর্থিত চিকিৎসকরা হাসপাতালে আসছেন না বলে সেখানকার অন্য চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অনেকে প্রাইভেট চেম্বারও করছেন না।

শুধু হাসপাতালের পরিচালক নন, অনুপস্থিত আছেন মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরাও। রাজধানীর বিএসএমএমইউ হাসপাতালেও অনুপস্থিত ছিলেন উপাচার্য।

তবে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. রেজাউর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, হাসপাতালের সেবা চালু আছে তবে রোগী কিছুটা কম।

তিনি বলেন, প্রথম দিকে কিছুটা সংকট তৈরি হয়েছিল। তবে আজকে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা এসেছিলেন। আলাপ-আলোচনা হয়েছে। হাসপাতালের সেবায় কোনও ঘাটতি নেই, আমাদের চিকিৎসকরা প্রস্তুত আছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।