• ঢাকা, বাংলাদেশ বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাজশাহী রুটে একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুন্না সিরাজগঞ্জে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত: ইসি ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েনে ইসির সিদ্ধান্ত বাতিল জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সমানভাবে হবে বিএনপির মধ্যে উগ্রতা নেই, প্রতিশোধ নেই : মির্জা ফখরুল ভোটের দিন ভিসা সেবা দেবে না সুইডেন ঋণখেলাপিদের জন্য পরবর্তী বাংলাদেশ জাহান্নাম বানিয়ে দেব : হাসনাত ভাষার মাস শুরু ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম কমালো সরকার নির্বাচন ঘিরে রাজশাহী অঞ্চলের সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বিজিবি

কাভার্ডভ্যান চাপায় নর্থ-সাউথ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

Reporter Name / ১৬৮ Time View
Update : শুক্রবার, ১ এপ্রিল, ২০২২

নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাইশা মমতাজ মীমের (২০) মৃত্যুর খবর এখনো জানেন না তার মা ও ছোট বোন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস থাকায় শুক্রবার (১ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর উত্তরা-৬ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে স্কুটি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন মীম।

পথিমধ্যে আনুমানিক সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কুড়িল বিশ্বরোড ফ্লাইওভারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন মীম। ধারণা করা হচ্ছে, কাভার্ডভ্যান চাপায় নিহত হয়েছেন তিনি। এরই মধ্যে সিসি টিভি ফুটেজ দেখে কাভার্ডভ্যানের নম্বর শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মীমের পরিবার সূত্রে জানা যায়, তার (মীম) ছোট বোনের নাম মৌ। আজ সকালে মৌ’য়ের মেডিকেল (২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ) ভর্তি পরীক্ষা ছিল। তাই খুব সকালে মৌকে নিয়ে তার মা পরীক্ষা কেন্দ্রে যান। তবে, মীমের মৃত্যুর খবর বিকেল পর্যন্ত তার ছোট বোন ও মাকে জানাননি পরিবারের সদস্যরা। অন্যদিকে, রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেল ৪টার দিকে পরিবারের কাছে মীমের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। দাফনের জন্য মীমের মরদেহ নিয়ে গাজীপুরে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন স্বজনেরা। স্বজনদের সঙ্গে মীমের ছোট বোন ও মাও গাজীপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দুই বোনের মধ্যে বড় মীম অত্যন্ত মেধাবী হওয়ায় পরিবারে সবার আদরের ছিলেন। ছোট বেলা থেকেই মীমের পছন্দের সাবজেক্ট ছিল ইংরেজি, স্বপ্ন ছিল নামিদামি কোনো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে ভালো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা। সেই অনুযায়ী মীমের বাবার প্রতিষ্ঠিত মৌচাক আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-ফাইভ পেয়ে ভর্তি হয়েছিলেন নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিন বছর ধরে মীম স্কুটি চালিয়ে বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত করেন।

মরদেহ নিতে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসা মীমের মামাতো ভাই অ্যাডভোকেট মো. নাবিল আলী কামরুল বলেন, মীমের বাবা মৌচাক আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা আর মা গৃহিণী। দুই মেয়েকে নিয়ে রাজধানীর উত্তরা-৬ নম্বর সেক্টরে থাকতেন তারা। বাসে যানজট ও ভিড় থাকায় যাতায়াতের সুবিধার্থ উত্তরা-৬ নম্বর সেক্টর থেকে নিজেই স্কুটি চালিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতেন মীম। তিন বছর ধরে মীম স্কুটি চালিয়ে আসছিল। এর আগে সে কখনো অ্যাক্সিডেন্ট করেনি। আজ সকালেও স্কুটি চালিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছিল মীম। শুনেছি, একটি কাভার্ডভ্যান কিংবা ট্রাক তাকে চাপা দেয়। এতে করে মীমের মাথায় আঘাত লাগে। হেলমেট থাকলেও ভেঙে গিয়ে মাথায় প্রচণ্ড আঘাত লাগে। বেপরোয়া গতির কারণে কাভার্ডভ্যানের চালক মীমের স্কুটি চাপা দেয়। এ ঘটনায় কাভার্ডভ্যানচালকের বিরুদ্ধে মামলা করবো- যোগ করেন কামরুল।

তিনি বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে মীমের মরদেহ আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এরপর হাসপাতাল থেকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে দাফনের জন্য গাজীপুরের মৌচাকে গ্রামে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছি আমরা।

রাত ১০টা নাগাদ জানাজা হবে জানিয়ে কামরুল বলেন, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছি আমরা। সঙ্গে মীমের বাবাসহ স্বজনেরা আছেন। তবে মীমের মা ও ছোট বোনকে এখনো বিষয়টি জানানো হয়নি। অন্য একটি বিষয় বলে মীমের মা ও বোনকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুন্সী সাব্বির আহমেদ বলেন, ফ্লাইওভার থেকে ৩০০ ফিট সড়কে নামার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতের শরীরের অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন না থাকলেও মাথায় রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে একটি কাভার্ডভ্যানকে দেখা গেছে। ফুটেজ নিয়ে কাজ চলছে। কাভার্ডভ্যানটির নম্বরও পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে সেটি এখনই প্রকাশ করতে চাচ্ছি না।

জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ থেকে ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়া খিলক্ষেত থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সজল সরকার বলেন, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে একজন পথচারী মীমকে রাস্তায় আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে নেওয়ার পরই কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ৯৯৯ থেকে ফোন পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে একজন পথচারী মীমকে রাস্তায় আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে পথচারীদের সহায়তায় গুরুতর আহত মীমকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর

৯৯ রান যোগ করেই শেষ রাজশাহী, রংপুরের বড় জয়জাতীয় ক্রিকেট লিগে তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল রংপুর বিভাগ। জয়ের জন্য চতুর্থ দিন দরকার ছিল রাজশাহীর চার উইকেট। প্রথম সেশনে রাজশাহীর গোলাম কিবরিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মঙ্গলবার রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০১ রান। কিন্তু আগের দিন ৬২ রান করা রাজশাহী আজ আরও ৯৯ রান যোগ করেই থেমে গেছে। তাতে ১০১ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। দলটির জয়ের নায়ক আরিফুল হক। সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তিনি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার জয়ের সুবাস নিয়েই খেলতে নেমেছিল রংপুর। লিগের চতুর্থ রাউন্ডে সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন ২৬৩ রানের লক্ষ্য দেয় তারা। কিন্তু শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ৬২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল আরও ৪ উইকেট। তার পর প্রতিপক্ষকে সহজেই ১৬১ রানে অলআউট করেছে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন গোলাম কিবরিয়া। ৬৫ বলে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে সানজামুলের ব্যাট থেকে (২৩) রান। রংপুরের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আরিফুল হক। তৃতীয় দিনে তার চমৎকার বোলিংয়ে মূলত ম্যাচে ফেরে রংপুর। ৩ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের জয়ের পথটা তিনিই তৈরি করেছেন। পরপর দুই বলে প্রিতম ও ওয়াসিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত যদিও কীর্তিটি গড়তে পারেননি। এছাড়া রবিউল হক, আব্দুল গাফফার ও আবু হাসিম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল রংপুর। প্রথম ইনিংসে আরিফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ভর করে ১৮৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। আরিফুল ছাড়া দলের সবাই ছিলেন ব্যর্থ। ১৬১ বলে ১০৩ রানে সতীর্থদের আসা যাওয়ার মিছিলের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। রংপুরকে অল্পরানে গুটিয়ে দেওয়ার নায়ক ছিলেন সাব্বির হোসেন। তিনি একাই নেন ছয়টি উইকেট। এরপর রাজশাহী তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ও রবিউল হকের বোলিংয়ে ১৮৯ রানে থামে দলটির ইনিংস। সাব্বির হোসেন ৪৭ ও ওয়াইসি সিদ্দিকি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস। জবাবে রংপুরের টপ অর্ডার ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেনি। অধিনায়ক আকবর আলী ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাছাড়া তানভীর হায়দার (৪০), মিম মোসাদ্দেক (৩৩), চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান (৩২) রানের ইনিংস খেলেছেন। তাদের অবদানে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২ রান।