“বঙ্গবন্ধুর মতো বহুমাত্রিক নেতা বিরল”- নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত হয়েছে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবিনার ও ‘স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক অনলাইন কুইজ প্রতিযোগিতা। ওয়েবিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টের চেয়ারম্যান জনাব হাফিজুর রহমান খান ও প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী জনাব খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি এবং বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. এম সাইদুর রহমান খান  বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এম, ওসমান গনি তালুদার উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. আশিক মোসাদ্দিক-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই ওয়েবিনারে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো. মহিউদ্দিন, বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, কো-অর্ডিনেটর, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও ছাত্রছাত্রী যুক্ত ছিলেন ।

ওয়েবিনারে যুক্ত অতিথিরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কর্মের উপর আলোকপাত করে বক্তব্য প্রদান করেন। প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী জনাব খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি তার বক্তব্যে বলেন, ‘পৃথিবীর অনেক দেশে অনেক রাজনৈতিক নেতা আছে, বিপ্লবী নেতা আছে, জাতির পিতা আছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মত বহুমাত্রিক নেতা নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যে বলেছি বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা করবো, আমরা তার ঠিক দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছি। বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টের চেয়ারম্যান জনাব হাফিজুর রহমান খান বলেন, ‘ আমরা সব সময়ই বলি ১৫ আগস্ট বাঙ্গালির শোকের দিন। কিন্তু শোকটাকে কিভাবে আমরা শক্তিতে রূপান্তরিত করতে পেরেছি, অনুপ্রেরণায় রূপান্তরিত করতে পেরেছি, সেটাও আমাদের জন্য বড় পাওয়া। উপদেষ্টা প্রফেসর ড. এম সাইদুর রহমান খান তাঁর বক্তব্যে বাঙ্গালীর আরো অনেক বিখ্যাত নেতাদের সাথে তুলনামূলক আলোচনায় বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন দুরন্ত, সাহসী এবং প্রতিবাদী। অন্যায়কে কখনোই তিনি প্রশ্রয় দিতেন না। তিনি ছিলেন একাধারে সাহসী, নিঃস্বার্থ, মানবতাবাদী, অসাম্প্রদায়িক, উদার ও জাতীয়তাবাদী। জাতির পিতার সাহসিকতার উপর ভর করেই বাংলাদেশ আজ স্বাধীন হয়েছে। বিবিসির জরিপে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

অন্যান্য বক্তারা বলেন, বিশ্ব গণমাধ্যমের চোখে বঙ্গবন্ধু ক্ষণজন্মা পুরুষ। অনন্য সাধারণ এই নেতাকে ‘স্বাধীনতার প্রতীক’ বা ‘রাজনীতির ছন্দকার’ খেতাবেও আখ্যা দেওয়া হয়। বিদেশি ভক্ত, কট্টর সমালোচক এমনকি শত্রুরাও তাদের নিজ নিজ ভাষায় তাঁর উচ্চকিত প্রশংসা করে থাকেন। ওয়েবিনার ছাড়াও জাতীয় শোক দিবস ২০২১ পালনের অংশ হিসেবে আজ সকালে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আশিক মোসাদ্দিক এর নেতৃত্বে সীমিত পরিসরে কাজলা ভবন প্রাঙ্গনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয় । এরপর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা ভবন প্রাঙ্গনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬ তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে ১৫০ জন গরিব ও দুস্থ শিশুদের মাঝে খাদ্য বিতরণ করা হয়। খাদ্য বিতরণ কার্যক্রমে উদ্বোধন করেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আশিক মোসাদ্দিক। এ সময় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও ছাত্রছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। বরেন্দ্র বিশ্বদ্যিালয় জাতীয় শোক দিবসে ‘স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধু’ বিষয়ে অনলাইন কুইজ প্রতিযোগিতারও আয়োজন করেছে।