৪২ শতাংশ নিষ্ক্রিয় নিবন্ধিত সিমের

৪২ শতাংশ নিষ্ক্রিয় নিবন্ধিত সিমের

দেশে মোট নিবন্ধিত মোবাইল ফোনের সিমের সংখ্যা ৩৩ কোটি ২৭ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭০টি। এর মধ্যে সক্রিয় ১৯ কোটি ৩৭ লাখ ৩০ হাজার সিম। এ হিসেবে নিবন্ধিত সিমের মধ্যে ১৩ কোটি ৯০ লাখ ২৬ হাজার ৯৭০টি নিষ্ক্রিয়। অর্থাৎ, মোট সিমের ৪১ দশমিক ৭৮ শতাংশ এখন নিষ্ক্রিয়। রাষ্ট্রায়ত্ত একমাত্র মোবাইল অপারেটর টেলিটকের নিবন্ধিত সিমের ৫৫ শতাংশই নিষ্ক্রিয়।

সোমবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে ময়মনসিংহ-৬ আসনের আব্দুল মালেক সরকারের প্রশ্নের জবাবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এ তথ্য জানান। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের তথ্য অনুযায়ী, গ্রামীণ ফোনের মোট নিবন্ধিত সিম ১১ কোটি ৯৫ লাখ ৬৭ হাজার ৯২৫টি। এর মধ্যে সক্রিয় ৮ কোটি ৩৯ লাখ ৫০ হাজার, নিষ্ক্রিয় ৩ কোটি ৫৬ লাখ ১৭ হাজার ৯২৫টি। বাংলালিংকের মোট নিবন্ধিত সিম ৯ কোটি ৭ লাখ ৬৫ হাজার ৯৬২টি। এর মধ্যে সক্রিয় ৪ কোটি ৪৭ লাখ ২০ হাজার, নিষ্ক্রিয় ৪ কোটি ৬০ লাখ ৪৫ হাজার ৯৬২টি। রবি আজিয়াটার মোট সিম ১০ কোটি ৭৯ লাখ ৬১ হাজার ৮০০টি। এর মধ্যে সক্রিয় ৫ কোটি ৮৫ লাখ ১০ হাজার, নিষ্ক্রিয় ৪ কোটি ৯৪ লাখ ৫১ হাজার ৮০০টি। টেলিটকের নিবন্ধিত সিম এক কোটি ৪৪ লাখ ৬১ হাজার ২৮৩টি। এরমধ্যে সক্রিয় ৬৫ লাখ ৫০ হাজার, নিষ্ক্রিয় ৭৯ লাখ ১১ হাজার ২৮৩।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে প্রচলিত কলরেটটি ২০১৮ সালে মার্কেট পর্যালোচনা করে আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে মার্কেট সংশ্লিষ্ট পর্যালোচনা চলমান রয়েছে। আপাতত কলরেট পুনঃনির্ধারণের বিষয়ে কোনও পরিকল্পনা নেই।

ঝিনাইদহ-২ আসনের স্বতন্ত্র এমপি মো. নাসের শাহরিয়ার জাহেদীর প্রশ্নের জবাবে পলক জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে লাইসেন্সধারী ইন্টারনেট সরবরাহকারীর সংখ্যা দুই হাজার ৬৫০টি।

সংরক্ষিত আসনের এমপি ফরিদা ইয়াসমিনের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০১৯ সালে বিটিসিএলের গ্রাহক ছিলেন ৫ লাখ ১৯ হাজার ৯২২ জন। বর্তমানে (২০২৪ সালের ১২ জুন পর্যন্ত) সে সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৯৫০ জন। অর্থাৎ গত ৫ বছরে বিটিসিএলের গ্রাহক সংখ্যা কমেছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯৭২টি।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোসা. তাহমিনা বেগমের প্রশ্নের জবাবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী বলেন, মোবাইল অপারেটরগুলো তাদের ব্যয়, গ্রাহকের চাহিদা, গ্রাহকের সেবা ব্যবহার ধরন প্রভৃতি বিবেচনা করে বিভিন্ন মেয়াদের বিভিন্ন ভলিউমের প্যাকেজ ডিজাইন করে। মোবাইল ইন্টারনেট ডাটা প্যাকেজের ক্ষেত্রে বিটিআরসি থেকে ৩ ধরনের (৭ দিন, ৩০ দিন এবং আনলিমিটেড) মেয়াদ নির্দিষ্ট করা হয়েছে। গ্রাহক স্বার্থ বিবেচনা করে বিটিআরসি থেকে ২০২২ সালের ২৮ এপ্রিল থেকে সকল অপারেটরের নির্দিষ্ট কিছু আনলিমিটেড (মেয়াদবিহীন) প্যাকেজ ডিজাইনের নির্দেশনা প্রদান করা হয়। বর্তমানে সকল অপারেটরের ২৫ জিবি, ৫০ জিবি ও ৭৫ জিবি মেয়াদের ৩টি আনলিমিটেড (মেয়াদবিহীন) প্যাকেজ বাজারে চলমান রয়েছে।