ধসে পড়লো ৩০ মিটার এলাকা ,শহররক্ষা বাঁধ হুমকির মধ্যে

৩০২ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা নদীর তীর সংরক্ষণের কাজ চলছে। এর মধ্যেই ধসে পড়েছে দুটি পয়েন্টের ৩০ মিটার এলাকা। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক দেখা দেওয়ার পাশাপাশি শহররক্ষা বাঁধ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গত শুক্রবার বিকেলে রাজবাড়ী শহরতলির গোদারবাজার এলাকায় এ ভাঙন দেখা দেয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন জরুরি ভিত্তিতে বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করছেন।
গতকাল রোববার পর্যন্ত মোট এক হাজার ২৩৪টি বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত ভাঙন রোধের কাজ করার কথা রয়েছে। এ ছাড়া পদ্মা নদীর তীরে দুর্বল জায়গাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে যেন কোনোমতেই ধসে না পড়ে, সেজন্য ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, নদীর আশপাশে প্রভাবশালীদের অনেক বালুর চাতাল রয়েছে। এগুলোর কারণে ভাঙন সৃষ্টি হতে পারে।  রাজবাড়ী পাউবো সূত্র জানায়, জেলা শহরের অনতিদূরেই পদ্মা নদী। পদ্মার তীর প্রতিরক্ষার জন্য ৩০২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের আওতায় সাড়ে চার কিলোমিটার এলাকায় পদ্মা নদীর তীর প্রতিরক্ষামূলক কাজ করার কথা রয়েছে। এ ছাড়া একই এলাকায় ড্রেজিং করা হবে। ড্রেজিংয়ে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩৫ কোটি টাকা। কাজটি প্রথমে খুলনার শিপ ইয়ার্ড পেলেও পরে তারা দুলাল ব্রাদার্স লিমিটেড (ডিবিএল) নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে হস্তান্তর করে।
শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সরেজমিন দেখা যায়, গোদারবাজার মূল ঘাটের বাঁ দিকে ১০০ মিটার দূরে শহররক্ষা বেড়িবাঁধ সংলগ্ন পদ্মা নদীর তীর সংরক্ষণের কাজ করা হয়েছে সিসি ব্লক দিয়ে। এই কাজের দুটি পয়েন্ট থেকে সিসি ব্লক ধসে পদ্মায় চলে গেছে। যেখানে এখন রয়েছে শুধুই বালুর বস্তা। নদীতে তেমন স্রোত না থাকলেও নদী বক্ষ দিয়ে চলাচল করছে বালুবাহী বড় বড় বাল্ক্কহেড। ধসে যাওয়া স্থানে বালুর বস্তা ফেলার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন অর্ধশতাধিক শ্রমিক। স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করেন, নদীর তীর রক্ষা কাজ করার সময় এই এলাকায় ভালোভাবে ডাম্পিং করা হয়নি। তাড়াহুড়া করা হয়েছে। এতে করে বর্ষার শুরুতেই ভাঙন দেখা দিয়েছে। গোদারবাজার এলাকার বাসিন্দা রমজান খান, সাদ্দাম হোসেন, আজমত আলীসহ অনেকেই বলেন, যেখানে ভেঙেছে, সেখান থেকে শহররক্ষা বেড়িবাঁধের দূরত্ব মাত্র ১০ মিটার। এখনও বর্ষা মৌসুম পুরোদমে শুরু হয়নি। তাতেই ভাঙনের এ অবস্থা। ভবিষ্যতে কী হবে তা নিয়ে তারা খুবই শঙ্কিত। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডিবিএলের প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার এসএম গোলাম সারোয়ার বলেন, নদীর চরিত্র বোঝা কঠিন। নদীর নিচে কী হচ্ছে তা বোঝা সম্ভব নয়। তবে নদীর নিচ থেকে ইরেশন হয়ে এগিয়ে আসতে পারে এবং এটি ভাঙনের একটি কারণ হতে পারে। ভাঙন শুরু হওয়ার পর থেকেই তারা ভাঙন প্রতিরোধে কাজ করছেন। যে কোনো সময় যে কোনো কিছুর প্রস্তুতি তাদের আছে। যথাযথ ডাম্পিং না করার অভিযোগ সঠিক নয়। রাজবাড়ী পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান জানান, ২০২০ সালে কাজটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে শেষ হয়নি। তবে ইতোমধ্যে ৯৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল আহাদ বলেন, তারা শুক্রবার রাত থেকে প্রায় এক হাজার ৫০টি সিসি ব্লক ও বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেছেন। রানিং কাজে কোনো কারণে স্লাইড ধসে গেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানেরই কাজটি মেরামত করার কথা। তারা সেটা করছে। ভাঙন এলাকায় একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পাউবোর কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন। ভাঙনের কারণ সম্পর্কে প্রকৌশলী আব্দুল আহাদ বলেন, নদীর চর আগে এক কিলোমিটার দূরে ছিল। চরের ডিরেকশন চেঞ্জ হয়েছে। সেটা হিট করতে পারে। নদীর চারপাশজুড়ে প্রভাবশালীদের বালুর চাতাল। এসব বালুর চাতালের নিচ থেকে পানি বের হয়। তারা বালুর চাতাল সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করেছেন। কিন্তু চাতাল-সংশ্নিষ্টরা তাদের কথা শোনেননি। বালুর চাতালের যে ওয়েট, তা নদী রাখতে পারছে না।

Related Posts