সেই বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করল রাবি প্রশাসন

শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও সমালোচনার মুখে অবস্থান পরিবর্তন করলো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার প্রায় ৫০ বছর আগের নির্দেশনা শিক্ষার্থীদের ওপর বাস্তবায়নে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তা আবার সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭টি হলে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর লিয়াকত আলী স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তি টানানো হয়। এতে বলা হয়েছে শিক্ষার্থীদের কোনো সংগঠন করা যাবে না, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া মিছিল, মিটিং, পার্টি ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো যাবে না। ছাত্রদের রাত ৯টায় এবং ছাত্রীদের সান্ধ্য আইন মেনে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার মধ্যে হলে প্রবেশ করতে হবে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রতি রাতে খাবারের পর হলে রোলকল করা হবে। এই বিজ্ঞপ্তি হলে প্রকাশের পর থেকে ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেন শিক্ষার্থীরা।কয়েকজন শিক্ষার্থীএ অবস্থায় প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে জড়িতরা অবিলম্বে এই বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করার দাবি জানান। শিক্ষার্থীরা বলেন, রাত ৯টার আগে কোনোভাবেই হলে ফেরা সম্ভব নয়। যারা ক্যাম্পাস থেকে দূরে টিউশনি করে তাদের জন্য এটাতো আরও সম্ভব নয়। সবমিলিয়ে মনে হচ্ছে না এটা কর্যকর হবে রাকসু আন্দোলন মঞ্চ সমন্বয়ক আব্দুল মজিদ অন্তর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় তো শুধু পড়াশোনা জায়গা না, এখান থেকে শিল্পী তৈরি হবে, সংস্কৃতিক কর্মী তৈরি হবে, রাজনৈতিক নেতা তৈরি হবে। সে পরিবেশ তৈরি দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাশনের। কিন্তু তা না করে এভাবে যাদি শৃঙ্খলিত করা হয়, তাহলে তো এই সম্ভাবনাগুলো নষ্ট হয়ে যাবে।বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. গোলাম সাব্বির সাত্তার তাপু বলেন, নবাগত শিক্ষার্থীদের জানাতে ১৯৭৩ সালের বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা অধ্যাদেশের এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এর কার্যকারিতা না থাকায় তা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।গত ১৯ নভেম্বর এই বিজ্ঞপ্তি হলে প্রকাশের পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

Related Posts