সিলেটে ছোটমনি নিবাসে শিশু হত্যা, ১৯ দিন পর আয়া গ্রেপ্তার

সিলেটে সমাজসেবা অধিদপ্তরের ছোটমনি নিবাসে আড়াই মাসের এক এতিম শিশুকে বিছানা থেকে ছুড়ে ফেলার পর বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শিশুদের দেখভালের দায়িত্বে থাকা আয়া সুলতানা ফেরদৌসী সিদ্দিকা তাকে গত ২২ জুলাই রাতে হত্যা করেন। সেসময় অসুস্থতায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল বলে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হয়। কিন্তু পরে পুলিশের সন্দেহ হলে সিসিটিভির ফুটেজ দেখে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে আয়া সুলতানাকে গত বৃহস্পতিবার রাতে আটক করা হয়।

কোতোয়ালি থানার ওসি এসএম আবু ফরহাদ জানিয়েছেন, হত্যার ঘটনায় এসআই মাহবুব বাদী হয়ে সুলতানার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। শুক্রবার তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আয়া সুলতানার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ এলাকায়। নিহত শিশুটির নাম নাবিল আহমদ। তাকে দেড় মাস আগে সিলেটের গোয়াইনঘাট থেকে নগরীর বাগবাড়ী এলাকার ছোটমনি নিবাসে নেওয়া হয়। সে প্রতিবন্ধী এক নারীর সন্তান ছিল। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, গত ২২ জুলাই রাত ১১টার দিকে ছোটমনি নিবাসে শিশু নাবিল কান্নাকাটি করছিল। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে দায়িত্বে থাকা আয়া সুলতানা। এ সময় সে বিরক্ত হয়ে নাবিলকে বিছানা থেকে তুলে ছুড়ে ফেলে। খাটের স্টিলের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে মাটিতে পড়ে যায় শিশুটি। এতে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এরপর তার মুখে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করে আয়া সুলতানা। ঘটনা আড়াল করতে পরদিন অসুস্থতায় নাবিলের মৃত্যু হয়েছে জানিয়ে কোতোয়ালি থানায় অপমৃত্যুর মামলা করে কর্তৃপক্ষ। ওইদিনই ময়নাতদন্তের পর শিশুটির লাশ দাফন করা হয়। কিন্তু শিশুটির মৃত্যু নিয়ে পুলিশের সন্দেহ হয়। এরপর থেকে বিষয়টি তদন্তের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতির জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছিল।

ঘটনার ১৯ দিন পর বৃহস্পতিবার রাতে কোতোয়ালি থানা পরিদর্শন করেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিসি উত্তর) আজবাহার আলী শেখ। তাকে নাবিলের মৃত্যুর বিষয়টি রহস্যজনক বলে জানানো হলে অন্যদের নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান তিনি। ছোটমনি নিবাসের সিসিটিভির ফুটেজ যাচাই করলে রোমহর্ষক হত্যার ঘটনাটি বেরিয়ে আসে। এ সময় হত্যার অভিযোগে আয়া সুলতানাকে আটক করা হয়।

এ ব্যাপারে সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নিবাস চন্দ্র দাশ বলেন, ঘটনার পরপরই শিশুটির মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়। সেই তদন্ত এখনও চলমান আছে।

তবে এ বিষয়ে ছোটমনি নিবাসের তত্ত্বাবধায়ক (ভারপ্রাপ্ত) রোকন দের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।