সংলাপে আসুক না আসুক ইসি গঠন থেমে থাকবে না: ওবায়দুল কাদের

সংলাপে আসুক না আসুক ইসি গঠন থেমে থাকবে না: ওবায়দুল কাদের

কেউ সংলাপে আসুক বা না আসুক নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন থেমে থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বুধবার নিজ বাসভবনে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। ‘রাষ্ট্রপতির সংলাপ অর্থহীন এবং এ সংলাপে সংকটের সমাধান হবে না’-বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এর আগে নির্বাচন কমিশন গঠনে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে এবারও সেই পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। নেতিবাচক রাজনীতি থেকে সরে এসে শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনে বিএনপি এগিয়ে আসবে বলে আশা করছি।’

তিনি বলেন, এর মধ্য দিয়েই প্রমাণিত হবে বিএনপি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন চায়, নাকি বিতর্ক সৃষ্টি করতে চায়। বিএনপির তালিকা থেকে একজন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, মিডিয়ায় বক্তব্য দিয়ে শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন করা যাবে না, নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হলে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। সেতুমন্ত্রী বলেন, বিএনপির বহুদলীয় তামাশা আর ভোটারবিহীন নির্বাচনই দেশকে গণতন্ত্র থেকে ছিটকে দিয়েছিল। সোয়া এক কোটি ভুয়া ভোটার সৃষ্টি করে বিএনপিই গণতন্ত্রের কবর রচনা করতে চেয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আপাদমস্তক অগণতান্ত্রিক এবং লুটপাটের রাজনীতির জনক বিএনপি মুখে গণতন্ত্রের বুলি ছাড়লেও অন্তরে সাম্প্রদায়িকতা আর সুবিধাবাদ লালন করে। বিএনপিই এ দেশকে ধর্মান্ধ, উগ্রবাদী ও সাম্প্রদায়িক দেশ হিসাবে চিহ্নিত করেছিল। সেখান থেকে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে বিশ্ব-দরবারে সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক শক্তি হিসাবে প্রতিষ্ঠা করেছেন।’ ‘সরকার খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে মিথ্যাচার করছে’-বিএনপি নেতাদের এমন অভিযোগের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকার নয়, মিথ্যাচার আর বিএনপি এখন সমার্থক শব্দ। বিএনপি নেতাদের অবিরাম মিথ্যাচারের দাপটে এখন আর তাদের বক্তব্যে সত্যের লেশমাত্র খুঁজে পাওয়া যায় না। খালেদা জিয়ার মামলার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত তারা মিথ্যাচার আর অপরাজনীতির ওপরই ভরসা করে চলেছে। তিনি বলেন, বন্দি খালেদা জিয়া অধিকতর শক্তিশালী-এ দর্শন প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে তারা মুক্তির চেষ্টাও করেনি। আইনগত লড়াইও তেমনটা করেনি। তাদের উদ্দেশ্যমূলক অপরাজনীতির দাবার ঘুঁটি হয়েছেন খালেদা জিয়া। বিএনপি নেতারা খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়েও অতি রাজনীতি করছেন দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তারা চিকিৎসার চেয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলকেই অধিকতর গুরুত্ব দিয়েছে, বরং শেখ হাসিনাই খালেদা জিয়ার প্রতি উদারতা এবং মানবিকতার নজির স্থাপন করেছেন। অথচ সেই কৃতজ্ঞতাবোধও বিএনপির নেই। তিনি বলেন, বিএনপির সিনিয়র নেতারা এখন সাইড লাইনে, যার বা যাদের নির্দেশে দল চলছে, তারা মাঠের বাস্তবতা বোঝে না, জনগণের সঙ্গেও তাদের সম্পৃক্ততা নেই। যেনতেন উপায়ে ক্ষমতা দখল এবং লুটপাটই এখন বিএনপির একমাত্র টার্গেট। পরে ওবায়দুল কাদের সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

অনলাইন ডেস্ক