• রবি. অক্টো ১৭, ২০২১

মানিকগঞ্জে করোনা উপসর্গ নিয়ে স্কুল শিক্ষার্থীর মৃত্যু

সেপ্টে ২৩, ২০২১

মানিকগঞ্জে করোনার উপসর্গ নিয়ে সুর্বনা ইসলাম রোদেলা নামে এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়ার পথে সে মারা যায়। রোদেলা মানিকগঞ্জ শহরের সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।‘ক’ শাখায় তার রোল নম্বর ছিল এক।

এ দিকে করোনার উপসর্গ নিয়ে ওই ছাত্রীর মৃত্যু হওয়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এ প্রসঙ্গে জেলা সদরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) কাজী এ কে এম রাসেল বলেন, একজন ছাত্রীর করোনায় আক্রান্তের খবর ছড়িয়ে পড়লে বুধবার রাতে ওই বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক তাদের সন্তানদের নমুনা পরীক্ষা করানোর জন্য মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন।

জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি এবং বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অসুস্থ থাকায় গত ১৫ সেপ্টেম্বরের পর থেকে রোদেলা বিদ্যালয় আসা বন্ধ করে দেয়। গত তিন দিন ধরে রোদেলার জ্বর এবং শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে ওষুধ খাওয়ানো হচ্ছিল। গত শনিবার দুপুরের পর থেকে রোদেলার শ্বাসকষ্ট, গলা ও বুকে ব্যথা বেড়ে গেলে দ্রুত তাকে জেলা সদরের গিলন্ড এলাকায় মুন্নু জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। রোদেলার শারীরিক অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে দ্রুত রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক। মানিকগঞ্জ থেকে ঢাকায় যাওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সে রোদেলা নিস্তেজ হয়ে পড়ে। পরে তাকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসকরা রোদেলাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মুন্নু জেনারেল হাসপাতালের উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, রোগীর অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক ছিল। সিটি স্ক্যান পরীক্ষার পর ছাত্রীর ফুসফুসে সংক্রমণ শনাক্ত হয়। তার রক্তে অক্সিজেনে মাত্রাও খুবই কম ছিল। সংকটাপন্ন অবস্থা হওয়ায় তাকে দ্রুত রাজধানীর কুর্মিটোলা বিশেষায়িত হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তার করোনার উপসর্গ ছিল।

সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সরকারি বালিকা বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে ওই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্রী করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় গত শনিবার থেকে বুধবার পর্যন্ত ওই শ্রেণির পাঠদান বন্ধ রাখা হয়। পরবর্তীতে তার ৫৮ জন সহপাঠিকে করোনা পরীক্ষা করোনো হয়। তবে কারও করোনা শনাক্ত না হওয়ায় এবং আক্রান্ত শিক্ষার্থী সুস্থ হওয়ায় বৃহস্পতিবার থেকে ওই শ্রেণির পাঠদান ফের চালু হয়েছে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আরজু খানম বলেন, রোদেলা গত ১৫ সেপ্টেম্বর সর্বশেষ স্কুলে গিয়েছিল। তখন তার শরীরে কোন সমস্যা ছিল না। ওই ছাত্রী বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল।  বির্তক, আইসিটিসহ অনেক বিষয়ে সে পারদর্শী ছিলো। এমন এক ছাত্রীর মৃত্যুতে বিদ্যালয়ের সকলেই শোকাহত।

জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আবদুল লতিফ বলেন, করোনার উপসর্গ নিয়ে রোদেলার মৃত্যু হয়েছে। তবে করোনায় মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।