লবণ উৎপাদনে রেকর্ড

৬১ বছরের ইতিহাসে চলতি মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ লবণ উৎপাদন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, চাষযোগ্য জমি এবং চাষির সংখ্যা বাড়ায় এ সাফল্য। আমদানি বন্ধে ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় খুশি প্রান্তিক চাষিরা।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, মিল মালিকদের একটি সিন্ডিকেট লবণ মজুতের মাধ্যমে দেশে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং আমদানির পাঁয়তারা করছেন। তীব্র গরমে মাঠের পর মাঠে লবণ তৈরি করছেন চাষিরা। এরপর পানি ঢুকিয়ে উৎপাদন করেন লবণ।

চলতি মৌসুমে উৎপাদিত হয়েছে রেকর্ড পরিমাণ অপরিশোধিত লবণ, যা চাষিদের অনেকেই গর্ত করে মজুত করেছেন মাঠে। এখন রোদ পাওয়ায় সেই লবণ উত্তোলন, বিক্রি ও মিলে স্থানান্তরের পালা চলছে। আবার অনেকেই ট্রাক ও ট্রলারযোগে লবণের চালান সরবরাহ করছেন বিভিন্ন স্থানে। তবে চলতি মৌসুমে লবণ আমদানি বন্ধের কারণে মাঠপর্যায়ে লবণের ন্যায্যমূল্য পেয়ে দারুণ খুশি প্রান্তিক চাষিরা। গত মৌসুমের অবশিষ্ট অবিক্রীত লবণ মজুত রয়েছে প্রায় ১ লাখ মেট্রিক টন। সব মিলিয়ে এসব লবণ দিয়ে দেশের চাহিদা পূরণ সম্ভব।

তবে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, মিল মালিকদের একটি সিন্ডিকেট লবণ মজুতের মাধ্যমে দেশে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি লবণ আমদানির পাঁয়তারা করছে।
কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক আবিদ আহসান সাগর বলেন, এই মুহূর্তে আমদানির প্রয়োজন নেই। যেহেতু ৭ মাস পরেই আমরা নতুন লবণ পাচ্ছি সুতরাং সংকটের কোনো কারণ নেই। এ ধরনের আমদানিতে গেলে আমাদের ফরেন রিজার্ভের ওপর আসলেই প্রেশার পড়বে। কক্সবাজার লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি শামশুল আলম আজাদ বলেন, মিল পর্যায়ে লবণ যে নেই তা না। মিল পর্যায়ে যা আছে আমাদের রিকোয়ারমেন্ট অনুযায়ী আছে।

তবে বিসিক বলছে, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও লবণ আমদানির পাঁয়তারার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। কক্সবাজার বিসিকের উপমহাব্যবস্থাপক মো. জাফর ইকবাল ভুঁইয়া বলেন, আমরা এ বিষয়ে অবশ্যই সতর্ক আছি। কেউ যেন লবণ মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে। এ ব্যাপারে আমরা নিয়মিত মনিটরিং করছি। এবার ৬৩ হাজার ২৯১ একর জমিতে লবণ চাষ করেছেন ৩৭ হাজার ২৩১ জন চাষি। আর চলতি মৌসুমে লবণ উৎপাদিত হয়েছে ১৮ লাখ ৩২ হাজার মেট্রিক টন।

Related Posts