র‍্যাব সদরদপ্তরে ২০ ঘণ্টা কাটালেন পরীমনি

রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানীর বিলাসবহুল বাসায় প্রায় চার ঘণ্টার অভিযানের পর বিপুল পরিমাণ মাদকসহ আটক নায়িকা পরীমনিকে র‍্যাব সদরদফতরে নিয়ে যাওয়া হয়। ২০ ঘণ্টার মতো র‍্যাবেই ছিলেন পরীমনি। র‍্যাব সদরদফতরে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পরপর তিনি লেবুর জুস চেয়ে খেয়েছেন। এছাড়াও জিজ্ঞাসাবাদে র‍্যাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার আচরণ ছিল স্বাভাবিক।

এর আগে র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, বুধবার বিকেলে সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে পরীমনির বাসায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় বিভিন্ন মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রযোজক ও অভিনেতা নজরুল ইসলাম রাজের বাসা থেকেও বিপুল পরিমাণ মাদক ও সিসার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এরপর রাতে একটি সাদা মাইক্রোবাসে র‍্যাব সদরদফতরের নিয়ে যাওয়া হয়। রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে ওই গাড়ি কুর্মিটোলায় র‍্যাব সদরদফতরে পৌঁছায়।

র‍্যাব সদরদফতরের একটি সূত্র  জানিয়েছে, পরীমনিকে র‍্যাব সদরদফতরের জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষে রাখা হয়। সেখানে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রাতে সদরদফতর পৌঁছানোর পর পছন্দমতো পরীমনি- দুটি সিদ্ধ ডিম, ভাত ও চায়নিজ সবজি খান। এছাড়া তাকে লেবুর জুস দেয়া হয়। এছাড়াও সকালে পরীমনিকে দেয়া হয় পরোটা, সিদ্ধ ডিম ও গরুর মাংস। পরীমনি দুপুরে খেয়েছেন ভাত, মুরগির মাংস ও সবজি-ডাল। র‍্যাব হেফাজতে কেমন ছিলেন পরীমনি? এমন একটি বিষয় জানতে চাওয়া হলে র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. খায়রুল ইসলাম বলেন, র‍্যাব সদরদফতরের জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষে রাখা হয়েছিল পরীমনিকে। তার আচরণ ছিল স্বাভাবিক। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি র‍্যাব কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করেছেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে পরীমনি ও রাজকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাদের সাত দিন করে রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ সোহেল রানা। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মামুনুর রশীদ প্রত্যেকের চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আজম মিয়া বলেন, বনানী থানায় র‍্যাবের করা মাদকের দুটি মামলা ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আদালত প্রাঙ্গণ থেকে ৯টার পর তাদের গাড়িতে করে ডিবি কার‍্যালয়ে নেয়া হয়। সেখানে মাদকের মামলায় চার দিনের রিমান্ডে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করবে গোয়েন্দা পুলিশ। এছাড়া রাজের পর্নোগ্রাফির একটি মামলা আমাদের কাছে আছে। সেটি তদন্তে কাজ চলছে।