বাংলাদেশে রোহিঙ্গারা প্রবেশ করেছিল ১০ লাখ, সংখ্যায় বেড়ে ১৪ লাখ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশে রোহিঙ্গারা প্রবেশ করেছিল ১০ লাখ, সংখ্যায় বেড়ে ১৪ লাখ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের উদ্দেশে বলেন, ‘বাংলাদেশে রোহিঙ্গারা প্রবেশ করেছিল ১০ লাখের মতো। এখন সেই জনগোষ্ঠী সংখ্যায় বেড়ে ১৪ লাখে উন্নীত হয়েছে। এতে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চল ধ্বংস হচ্ছে। এত বড় রোহিঙ্গা শিবিরের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া দুরূহ কাজ। তারা দিন দিন স্থানীয় লোকজনের প্রতি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে, যা সামলাতে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে সুইজারল্যান্ডসহ অন্যান্য দেশের সহযোগিতা একান্ত জরুরি’

সুইজারল্যান্ডের মন্ট্রিলে বিশ্ব স্বাস্থ্য কর্তৃক আয়োজিত ২২ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বব্যাপী রোগীদের চিকিৎসা নিরাপত্তার ওপর পঞ্চম আন্তর্জাতিক মিনিস্ট্রিয়াল সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি এই আহ্বান জানান।

সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলিয়ান বারসেট বিশ্বের ৮০টি দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের সম্মেলনটির উদ্বোধন করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুস। স্থানীয় সময় সকালে সম্মেলনের শেষ দিবসের আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ভিত্তিক নেতাদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
বিশ্ব স্বাস্থ্য খাতের নেতাদের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ‘বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র ও অসহায়। দরিদ্র দেশগুলো নানা রকম খাদ্য সমস্যায় ভোগার পাশাপাশি মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পায় না। উন্নত দেশগুলোর উচিত দরিদ্র দেশগুলোর স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে আরও বেশি ও কার্যকর ভূমিকা রাখা। তাদের মানসম্মত চিকিৎসাসেবা দিতে উন্নত দেশগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। দরিদ্র দেশগুলোয় হাসপাতালের অবকাঠামো নির্মাণ, উন্নত যন্ত্রপাতি কেনা ও প্রশিক্ষণ সেবা বাড়াতেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।’

বিভিন্ন দেশের হাসপাতালে রোগীদের সেবা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবল, জবাবদিহিপূর্ণ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা, সচেতনতা বৃদ্ধি করা, তথ্যের আদান-প্রদান করার বিষয়ে বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সম্মেলনে অংশ নেওয়া নেতারা কোভিড-১৯-এর করণীয় পরবর্তী বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন এবং ২০২১ থেকে ২০৩০ সাল ভিত্তিক অ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়নে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। সম্মেলনে জাপান, সৌদি আরব, ইতালি, সিঙ্গাপুর, মালেয়েশিয়া, হাঙ্গেরি, শ্রীলঙ্কা, ইরাক, কেনিয়া, জিম্বাবুয়ে, মোজাম্বিক, লিবিয়া, নামিবিয়া, পর্তুগাল, আরব আমিরাতসহ ৮০টি দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *