রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেবে যুক্তরাষ্ট্র

মিয়ানমারে গণহত্যার শিকার হয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (২৫ আগস্ট) রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সামরিক অভিযান ও বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ঢলের পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেয়া এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিংকেন।

ব্লিংকেন বলেন, ‘বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চল থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পুনর্বাসন বাড়াতে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র। যাতে তারা (রোহিঙ্গারা) যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে জীবন গড়তে পারে।’ তবে কবে থেকে কিংবা কতজন রোহিঙ্গাকে যুক্তরাষ্ট্রে নেয়া হবে সে বিষয়ে কিছু বলেননি তিনি।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সবশেষ অভিযান চালায় দেশটির কুখ্যাত সেনাবাহিনী। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করতে তাদের ওপর বর্বর নিপীড়ন, হত্যা-ধর্ষণ চালায় তারা। এর আগেও একাধিকবার মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের অত্যাচার-নির্যাতন করে তাড়িয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশে।

নৃশংস নির্যাতন-নিপীড়ন, জ্বালাও-পোড়াও ও হত্যাযজ্ঞের মুখে দেশ ছেড়ে পালাতে শুরু করে রোহিঙ্গারা। ২৫ আগস্ট দলবেঁধে তারা বাংলাদেশে ঢুকতে শুরু করে। কয়েক মাসের মধ্যে সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের কক্সবাজারে এসে পৌছে। আগে থেকে আশ্রিত আরও সাড়ে তিন লাখের বেশি রোহিঙ্গার সঙ্গে যোগ দেয় তারা।

মানবিক বিবেচনায় পালিয়ে আসা বিশাল এ জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেয় বাংলাদেশ। বর্তমানে কক্সবাজারে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী হিসেবে অবস্থান করছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার রোহিঙ্গাকে নোয়াখালির ভাসানচরে উন্নত পূনর্বাসনকেন্দ্রে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

মানবিক কারণে আশ্রয় দিলেও শুরু থেকেই বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল যত দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি। ২০১৭ সালের নভেম্বরেই মিয়ানমারের সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চুক্তি সই করে বাংলাদেশ। কিন্তু মিয়ানমার সরকারের নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণের কারণে তাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা যায়নি।

এরপর মিয়ানমার সরকার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বারবার তাগিদ দিয়ে আসলেও প্রতিশ্রুতি ছাড়া আর কিছুই মেলেনি। এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাকেও তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন সম্ভব হয়নি।

এর মধ্যে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সুচি’র সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। মূলত মিয়ানমারের এ জান্তা সরকারের অনিচ্ছার কারণেই থমকে আছে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া।

এরমধ্যে সম্ভব হলে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ সরকার। তবে গণহত্যার প্রায় পাঁচ বছর পর প্রথম দেশ হিসেবে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার ঘোষণা দিলো যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে চলতি বছরের মার্চে রোহিঙ্গা নিপীড়নকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় দেশটি।

Related Posts