রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ

মানববন্ধনে নাগরিক ঐক্যের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে পোষ্য কোটায় পাস নম্বর তুলতে না পারা ৪৬ জনকে এবং ২০২০-২১ শিক্ষবর্ষে ৪০ জনকে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এবার এই সংখ্যা ৬৭। তার মানে দেখা যাচ্ছে, আগের উপাচার্যের চেয়ে এই উপাচার্য অধিকসংখ্যক অকৃতকার্য শিক্ষার্থীকে ভর্তি করিয়েছেন। এই বিশ্ববিদ্যালয় স্বৈরতান্ত্রিক কাঠামো ও পরিবারতন্ত্রের আখড়ায় রূপান্তরিত হয়েছে। এখানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কোনো অধিকার নেই।

ছাত্র ফেডারেশনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মহব্বত হোসেন বলেন, কোটা হচ্ছে সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ছেলেমেয়েরা কি সুবিধাবঞ্চিত? আজ এই প্রশ্ন সামনে আসে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পাস নম্বর ৪০। যেখানে ৬১-৬২ নম্বর পেয়েও ভর্তি হওয়া যায় না, সেখানে ৪০–এর নিচে নম্বর পেয়ে ভর্তি হচ্ছে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছেলেমেয়েরা। এই বৈষম্যমূলক আচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতে পারে না। অনতিবিলম্বে এসব ভর্তি বাতিল করতে হবে। এই পোষ্য কোটা এই ক্যাম্পাস থেকে বাতিল করতে হবে।

রাকসু আন্দোলন মঞ্চের আহ্বায়ক আবদুল মজিদ মানববন্ধনে তিনটি দাবির ঘোষণা দেন। সেগুলো হলো—এই পোষ্য কোটা বাতিল করতে হবে; এই কোটায় ভর্তি হওয়া অকৃতকার্যদের ভর্তি বাতিল করতে হবে; এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু শিক্ষার্থী প্রক্সি জালিয়াতি করে ভর্তি হয়েছে, তাঁদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।

মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রচিন্তার প্রতিনিধি আশিক উল্লাহর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন রাকসু আন্দোলন মঞ্চের সদস্যসচিব আমানুল্লাহ আমান, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাইমুল ইসলাম, শিক্ষার্থী আজাদ রহমান প্রমুখ।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৬ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রশাসন ভবনের কনফারেন্স কক্ষে উপাচার্য গোলাম সাব্বির সাত্তারের সভাপতিত্বে ভর্তি পরীক্ষার উপকমিটির সভা হয়। এ বছর পোষ্য কোটায় অধিকাংশ আসন ফাঁকা থাকায় সভায় ভর্তি পরীক্ষা উপকমিটির সিদ্ধান্তেই পাস নম্বর শিথিল করে পোষ্য কোটাভুক্ত শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়। এ ছাড়া উপকমিটির সভায় পরবর্তী সময়ে এ কোটায় ৩ শতাংশ আসন বরাদ্দের পাশাপাশি ন্যূনতম পাস নম্বর না রাখার জন্য অধিকাংশ সদস্য প্রস্তাব দেন বলে জানা গেছে। এবারের ১০০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষায় ন্যূনতম পাস নম্বর ছিল ৪০। তিনটি ইউনিটে কোটাসহ আসনসংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৬৪৬। এর মধ্যে পোষ্য কোটায় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সন্তানদের জন্য বরাদ্দ ছিল মোট আসনের ৫ শতাংশ। সে হিসাবে প্রতিবছর এই কোটায় ২০১ শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ রয়েছে। যেখানে ন্যূনতম পাস নম্বর পেলেই ভর্তির সুযোগ পান পোষ্য কোটাভুক্ত শিক্ষার্থীরা। তবে এবার ভর্তি পরীক্ষায় পোষ্য কোটা থাকা শিক্ষার্থীদের পাস নম্বর করা হয়েছে ৩০।

ভর্তি পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ও সহ–উপাচার্য মো. সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, ভর্তি পরীক্ষায় ন্যূনতম পাস নম্বর না পাওয়া শিক্ষার্থীদের পোষ্য কোটায় ভর্তি করা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য লজ্জাজনক। এবার অনেকগুলো আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সিদ্ধান্তে ন্যূনতম নম্বর ৩০ করা হয়েছে। এ ছাড়া পোষ্য কোটা ৫ থেকে ৪ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। এর পরের বছর এ বিষয়ে আগে থেকেই তাঁরা সভা করবেন। তাঁরা চান না ন্যূনতম ৪০ নম্বরের নিচে কাউকে ভর্তি করাতে।

৩০ নম্বরের নিচেও কিছু শিক্ষার্থীকে ভর্তি করার কথা শোনা যাচ্ছে, এ বিষয়ে তিনি বলেন, খেলোয়াড়দের মধ্যে যাঁরা আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী তাঁদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল সভায়। তাঁদের কয়েজনকে হয়তো বিবেচনা করা হয়েছে।

Related Posts