সবচেয়ে ব্যস্ততম রাজশাহী নগরের আরডিএ মার্কেটে আগুন

সবচেয়ে ব্যস্ততম  রাজশাহী নগরের   আরডিএ মার্কেটে আগুন

রাজশাহীতে নগরের সবচেয়ে ব্যস্ততম এলাকা সাহেব বাজার। এর প্রাণকেন্দ্রেই অবস্থিত আরডিএ মার্কেটে সোমবার সন্ধ্যায় আগুন লাগে। প্রায় এক ঘণ্টা ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা আবু সামা জানান, নগরের এই মার্কেটের প্রবেশপথের পাশে এক নম্বর গদিঘরের দোতলার ওপরের রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। সেখানে দুটি রান্নার চুলা ছিল।

আগুন ক্ষতিগ্রস্ত দোকানে ব্যবসায়ীরা।

একটি খড়ির চুলা আরেকটি গ্যাসের চুলা। তাঁরা ধারণা করছেন গ্যাসের চুলা থেকেই আগুনের সূত্রপাত। গদিঘরের দোতলায় মালামাল রাখার গুদাম রয়েছে। গুদামের সব মালামাল পুড়ে গেছে। তাঁরা সন্ধ্যা সাতটা ৩৫ মিনিটে খবর পেয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে গিয়ে সামনের ভূগর্ভস্থ জলাধার থেকে পানি নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। রাত সাড়ে আটটার মধ্যে তাঁরা আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন।

মার্কেটে প্রায় আড়াই হাজার দোকান রয়েছে। সারা দিনে এখানে কয়েক হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। সন্ধ্যার সময় দিনের মতোই এই মার্কেটে জমজমাট কেনাবেচা হয়। এই সময়ে মার্কেটে আগুন লাগায় ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক দেখা দেয়। মানুষ দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন।

খবর পেয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন ঘটনাস্থলে যান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এক নম্বর গদিঘরের দোতলার রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। আগুন যদি মূল মার্কেটের দিকে যেত তাহলে আর রক্ষা ছিল না। এ রকম একটা স্পর্শকাতর জায়গায় এই অরাজকতা চলতে দেওয়া যায় না। তাঁরা কয়েকবার সভা করে ব্যবসায়ীদের বলেছেন। তাঁরা আমলে নেন না। এখন দেখা যাচ্ছে, জনস্বার্থেই এই জায়গায় একটি পরিকল্পিত মার্কেট গড়ে তোলা উচিত। সেটা করতে পাঁচ বছর লাগলেও করা উচিত।

আরও পড়ুন

রাজশাহীর আরডিএ মার্কেট ভবনে ফাটল, বন্ধ ঘোষণারাজশাহী

রাজশাহী নগরের সাহেববাজার এলাকায় নির্মিত রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) বিপণিকেন্দ্রের ভবনের অনেক জায়গায় মারাত্মক ফাটল দেখা দিয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুরে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় মাইকে ঘোষণা দিয়ে আগামী রোববার পর্যন্ত বিপণিকেন্দ্রটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিপণিকেন্দ্রের ফটকে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান এবং রাজশাহী সদর আসনের সাংসদ ফজলে হোসেন ইতিমধ্যে ভবনটি পরিদর্শন করেছেন। রাজশাহী নগরের সবচেয়ে ব্যস্ততম এলাকা সাহেববাজার। এর প্রাণকেন্দ্রে ওই বিপণিকেন্দ্রটি অবস্থিত। এতে প্রায় দুই হাজার দোকান রয়েছে। খোলার দিনে এখানে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে। ব্যবসায়ীদের ধারণা, তিনতলা ভবনের ওপর অবৈধভাবে চারতলা করার কারণে এই ফাটল দেখা দিয়েছে। আজ এই বিপণিকেন্দ্রের ছাদ, বিম ও পিলারের অনেক জায়গায় ফাটল দেখে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভবনের দ্বিতীয় তলার ছাদ অনেক দূর পর্যন্ত আঁঁকাবাঁকা হয়ে ফেটে গেছে। পাশের একটি পিলারেও একই ফাটল দেখা দিয়েছে। পূর্বদিকের বিমের একাধিক জায়গায় মারাত্মক ফাটল দেখা গেছে। দ্বিতীয় তলার মেঝের টাইলস ফেটে উঁচুনিচু হয়ে গেছে। এরপর থেকে বিপণিকেন্দ্রের মসজিদের মাইক থেকে ব্যবসায়ীদের আগামী রোববার পর্যন্ত দোকান বন্ধ রাখার জন্য বলা হয়। নিরাপত্তার জন্য ভবনের দোতলার সিঁড়িতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দুপুরের দিকে রাজশাহী সদর আসনের সাংসদ ফজলে হোসেন বিপণিকেন্দ্র পরিদর্শন করে চতুর্থ তলার নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। এরপর রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান বিপণিকেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন। তিনি চলে যাওয়ার পর আরডিএর পুনর্বাসিত ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরিদ মাহমুদ হাসান মাইকে দোকানগুলো আগামী রোববার পর্যন্ত বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন। এ এইচ এম খায়রুজ্জামান বলেন, আগামী রোববার পর্যন্ত বিপণিকেন্দ্র বন্ধ রাখতে এবং চতুর্থ তলার নির্মাণকাজ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবনের ওপর থেকে সব নির্মাণ সামগ্রী নামিয়ে আনতে বলা হয়েছে।আগামীকাল শনিবার সকালে গণপূর্ত বিভাগ, রাজশাহী প্রযুক্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলীরা ভবন পরিদর্শন করবেন। তাঁরা যদি মনে করেন, চতুর্থতলা ভেঙে ফেলতে হবে, তাহলে তা ভেঙে ফেলা হবে। তবে নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এস্টেট অফিসার কামরুজ্জামান প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, ছাদের ও বিমের যেখানে ফাটল দেখা দিয়েছে, আসলে ওই জায়গাগুলো দুই দিকের সম্প্রসারণ মুখ। এসব জায়গায় সামান্য একটু ফাঁক ছিল। ব্যবসায়ীরা সৌন্দর্যের জন্য ওখানে প্লাস্টার করে দিয়েছেন। তাপমাত্রা বাড়ার কারণে এখন ফাটল দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, পিলারের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। এ জন্য উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, তত্কালীন আরডিএর চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার এর কাঠামো নকশা অনুমোদন করেন। বৈধভাবে এই ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির মতামত ছাড়াই চারতলার নির্মাণকাজ আরডিএ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৬-৮৭ সালের দিকে আরডিএ এখানে টিনশেড মার্কেট তৈরি করা করে। ২০০৪ সালের দিকে ওই স্থানে আরডিএ পুনর্বাসিত ব্যবসায়ী সমিতিকে দিয়ে পর্যায়ক্রমে দোতলা ও তিনতলা মার্কেট নির্মাণ করায়। এর ওপর এখন চারতলা করা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী, আগে নকশা অনুমোদন করে তারপর নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। এই ভবনটির মাটির ভার বহনের ক্ষমতার সঙ্গে নকশা ও বাস্তব নির্মাণ সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, কাঠামো নির্মাণ ও বাস্তব নির্মাণ অবস্থা সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা, পূর্বে নির্মিত তিনতলা ভবনের ওপর চার তলা নির্মাণ কারিগরি দৃষ্টিকোণ থেকে যথার্থ কি না, তা যাচাইয়ে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তত্কালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুর রহিম ২০১০ সালের ৭ জুলাই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের তত্কালীন প্রধান প্রকৌশলী সিরাজুম মুনীরকে এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন আরডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী আলী হোসেন মাছুদ, অথরাইজড অফিসার আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হায়াত মো. ফিরোজ, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহাকরী অধ্যাপক এন এইচ এন কামরুজ্জামান সরকার। এই কমিটি ২০১১ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, নিয়ম অনুযায়ী মাটির ভারবহন ক্ষমতা পরীক্ষা করে অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রকৌশলীর দ্বারা কাঠামো নকশা প্রণয়ন করে সেই মোতাবেক নির্মাণকাজ শুরু করার কথা, কিন্তু আরডিএ মার্কেটের এই ভবনের কাঠামো নকশায় মাটি পরীক্ষার কোনো সূত্র উল্লেখ নেই। এই ভবনের সঙ্গে মাটির ভার বহনের ক্ষমতা সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, এ ব্যাপারে কোনো মতামত এই তদন্ত কমিটি দিতে পারেনি। এই ভবনের নির্মাণকালে কংক্রিটের শক্তি পরীক্ষার কোনো প্রতিবেদন নেই। এতে ভবনটির বিম, কলাম, ছাদ, ভিত ইত্যাদির শক্তি বর্তমান প্রেক্ষাপটে তদন্ত কমিটি করতে পারেনি। এসব কারণে জনসমাবেশের স্থল হিসেবে পরিচিত তিনতলা ভবনের ওপরে চারতলা ভবন নির্মাণের বিষয়ে তদন্ত কমিটি কোনো মতামত প্রদান করতে অপারগতা প্রকাশ করেছে। এর পরও নির্মাণকাজ করা হচ্ছিল।

মার্কেট পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টা সেকেন্দার আলী স্বীকার করেন, মার্কেটটি অপরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হয়েছে। মার্কেটের সামনের রাস্তাও প্রশস্ত নয়। তিনি বলেন, এটা একটা ঘিঞ্জি মার্কেট হয়ে গেছে। এটাকে আধুনিক ও নিরাপদ করে নতুনভাবে গড়ে তোলার কথা বলতে গেলেই সাধারণ ব্যবসায়ীরা ভয় পান। তাঁরা মনে করেন, ভাঙলেই তাঁরা ‘পজেশন’ হারাবেন। তিনি বলেন, অনেক চেষ্টা করে গত বছর তাঁরা সামনের রাস্তায় রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে দিয়ে একটা ভূগর্ভস্থ জলাধার করে নিয়েছিলেন। তাতেই রক্ষা হলো।

আরও পড়ুন

অগ্নিনিরাপত্তা নেই আরডিএ মার্কেটে

রাজশাহী নগরের সবচেয়ে ব্যস্ততম এলাকা সাহেব বাজার। এর প্রাণকেন্দ্রেই অবস্থিত আরডিএ মার্কেট। এখানে প্রায় আড়াই হাজার দোকান রয়েছে। সারা দিনে কয়েক হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। এমন গুরুত্বপূর্ণ বিপণিবিতান নির্মাণ করা হয়েছে বিল্ডিং কোড অমান্য করে। এ নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি সুপারিশও দেয়, কিন্তু তা মানা হয়নি। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স বলছে, এই বিপণিবিতানের অগ্নিনিরাপত্তা নেই।

রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, গতকাল সোমবার সকালে আরডিএ মার্কেটের দ্বিতীয় তলার সিঁড়ির বাঁ পাশে একটি ব্যানার ঝুলিয়ে দিয়েছেন। তাতে লিখে দিয়েছেন, ‘আরডিএ মার্কেট অগ্নিনির্বাপণের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ।’ তিনি বলেন, একইভাবে তাঁরা রাজশাহী নিউমার্কেটেও এই ব্যানার টানিয়ে দিয়েছেন।

রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৬-৮৭ সালের দিকে এখানে টিনশেড মার্কেট তৈরি করা হয়েছিল। ২০০৪ সালে ওই জায়গায় আরডিএর পুনর্বাসিত ব্যবসায়ী সমিতিকে দিয়ে পর্যায়ক্রমে সামনের অংশ তিনতলা ও পেছনের অংশ চারতলা করা হয়। আগের টিনশেড মার্কেটের মধ্য দিয়ে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য জায়গা রাখা ছিল। এখন আড়াই হাজার দোকানের জন্য সামনে একটু অ্যাপ্রোচ সড়ক ছাড়া গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা নেই। এই বিপণিবিতানের সামনে সারা দিন যানজট লেগে থাকে।

আরডিএ সূত্রে জানা গেছে, বিল্ডিং কোড অনুযায়ী, এ ধরনের বাণিজ্যিক ভবনের প্রায় ২০ শতাংশ পার্কিং ব্যবস্থা থাকার কথা। সেই হিসাবে এই নতুন ভবনের বেসমেন্টের পুরোটাই পার্কিংয়ের জন্য রাখার কথা। কিন্তু ভবনের নকশায় বেসমেন্টের মাত্র ৪০ শতাংশ পার্কিংয়ের জন্য রাখা হয়েছে। জানা গেছে, ভবনের নকশা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অনুমোদন করেননি। অভিযোগ রয়েছে, আরডিএর তৎকালীন চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার নিজেই অনুমোদন করেন।

এ ছাড়া বিপণিবিতানের ভবন দুটির মাটির ভার বহনের ক্ষমতার সঙ্গে নকশা সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাইয়ের জন্য আরডিএর তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুর রহিম গত বছর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী সিরাজুম মুনীরের নেতৃত্বাধীন এই কমিটি ২০১১ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে নানা অসংগতির কথা উল্লেখ করা হয়। আর পেছনের ভবনের নকশায় মাটি পরীক্ষার কোনো সূত্র তদন্ত কমিটি খুঁজে পায়নি। এসব অসংগতির কথা তুলে ধরে তদন্ত প্রতিবেদনে এই ভবনের কাঠামো পুনঃপরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করা হয়। সেই সঙ্গে বলা হয়েছে, জনগুরুত্বপূর্ণ জনসমাবেশস্থল হিসেবে এই ভবন বিল্ডিং কোড অনুসারে নির্মিত হওয়া আবশ্যক।

বিপণিবিতানে নিয়মিত কেনাকাটা করেন রাজশাহী নগরের কালু মিস্ত্রির মোড়ের গৃহবধূ আলিয়া রূপি। তিনি বলেন, মার্কেটের ভেতরে ঢুকলে দম বন্ধ হয়ে আসে। এই মার্কেটে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে মানুষকে উদ্ধারের কোনো পথ পাওয়া যাবে না। বিপণিবিতানের কয়েকজন দোকানি বলেন, তাঁরা এটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণের বিপক্ষে।

বিপণিবিতান পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টা সেকেন্দার আলী অপরিকল্পিতভাবে মার্কেটটি গড়ে তোলার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, মার্কেটের ভেতরে অক্সিজেন কম। অনেক দিন ধরে যাঁরা এখানে ব্যবসা করে আসছেন, তাঁদের অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁরা এ নিয়ে ভাবছেন। কয়েকবার আরডিএ এবং ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে তাঁদের বৈঠক হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস কিছু অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম দিয়েছিল, সেগুলোরও বোধ হয় মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।

সেকেন্দার আলী বলেন, এটা একটা ঘিঞ্জি মার্কেট হয়ে গেছে। এটাকে আধুনিক ও নিরাপদ করে নতুনভাবে গড়ে তোলার কথা বলতে গেলেই সাধারণ ব্যবসায়ীরা ভয় পান। তাঁরা মনে করেন, ভাঙলেই তাঁদের ‘পজেশন’ হারাবেন। এখন সবাইকে বুঝিয়ে একটা আস্থার জায়গায় নিয়ে আসতে হবে। আরডিএ এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বসে এমন একটা সিদ্ধান্তে তাঁরা আসতে চান, যাতে কারও ক্ষতি না হয় এবং মার্কেটটাও একটা শৃঙ্খলার মধ্যে আসে।

রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা শাহীদুল ইসলাম বলেন, আরডিএ মার্কেটের অগ্নিনিরাপত্তা নেই। এর আন্ডারগ্রাউন্ডে জলাধার নেই। আশপাশে পুকুরও নেই। ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢোকানোর মতো প্রশস্ত রাস্তা নেই। সাধারণত এত বড় বাণিজ্যিক ভবনগুলোর পাশে অন্তত ৩০ ফুট চওড়া রাস্তা রাখা দরকার। এই মার্কেটের পাশে ১৩-১৪ ফুট রাস্তা ছাড়া হয়েছে। জরুরি অবস্থায় মার্কেট থেকে বের হওয়ার জন্য বিকল্প সিঁড়ি থাকতে হয়, তা–ও এখানে নেই। ভেতরে ৩২টি ফায়ার এক্সটিংগুইশার রয়েছে। অন্যান্য ব্যবস্থা না করে শুধু এগুলো দিয়ে জরুরি অবস্থা মোকাবিলা করা যাবে না।

আরডিএর চেয়ারম্যান বজলুর রহমান বলেন, ‘আরডিএ মার্কেট নিয়ে কিচ্ছু বলার নেই। অসহায়ের মতো তাকিয়ে থাকা ছাড়া কিচ্ছু করার নেই। আমি বাংলাদেশের অন্যতম প্রকৌশলীকে দিয়ে ১৫ তলাবিশিষ্ট একটি পরিকল্পিত ভবন তৈরির জন্য নকশা তৈরি করেছিলাম। কিন্তু আরডিএ মার্কেটের আড়াই হাজার দোকানের ১০ হাজার কর্মচারী আছে। তাদের আগে পুনর্বাসন করতে হবে। সেটাই করা যাচ্ছে না।’

বজলুর রহমান আরও বলেন, শহরের ঢাকা বাস টার্মিনাল এলাকায় আরডিএর ১৩ বিঘা জমি আছে। টার্মিনালটা সরিয়ে সেখানে বহুতল ভবন করে ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন করা যায়। কিন্তু তা করতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে। আর ব্যবসায়ীরা তাতে রাজি হবেন কি না, সেটা নিয়েও ভাববার বিষয়। এ বিষয়ে মেয়রের সহযোগিতাও লাগবে।

রাজশাহীর আরডিএ মার্কেট ভবনে ফাটল, বন্ধ ঘোষণারাজশাহী

রাজশাহী নগরের সাহেববাজার এলাকায় নির্মিত রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) বিপণিকেন্দ্রের ভবনের অনেক জায়গায় মারাত্মক ফাটল দেখা দিয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুরে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় মাইকে ঘোষণা দিয়ে আগামী রোববার পর্যন্ত বিপণিকেন্দ্রটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিপণিকেন্দ্রের ফটকে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান এবং রাজশাহী সদর আসনের সাংসদ ফজলে হোসেন ইতিমধ্যে ভবনটি পরিদর্শন করেছেন। রাজশাহী নগরের সবচেয়ে ব্যস্ততম এলাকা সাহেববাজার। এর প্রাণকেন্দ্রে ওই বিপণিকেন্দ্রটি অবস্থিত। এতে প্রায় দুই হাজার দোকান রয়েছে। খোলার দিনে এখানে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে। ব্যবসায়ীদের ধারণা, তিনতলা ভবনের ওপর অবৈধভাবে চারতলা করার কারণে এই ফাটল দেখা দিয়েছে। আজ এই বিপণিকেন্দ্রের ছাদ, বিম ও পিলারের অনেক জায়গায় ফাটল দেখে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভবনের দ্বিতীয় তলার ছাদ অনেক দূর পর্যন্ত আঁঁকাবাঁকা হয়ে ফেটে গেছে। পাশের একটি পিলারেও একই ফাটল দেখা দিয়েছে। পূর্বদিকের বিমের একাধিক জায়গায় মারাত্মক ফাটল দেখা গেছে। দ্বিতীয় তলার মেঝের টাইলস ফেটে উঁচুনিচু হয়ে গেছে। এরপর থেকে বিপণিকেন্দ্রের মসজিদের মাইক থেকে ব্যবসায়ীদের আগামী রোববার পর্যন্ত দোকান বন্ধ রাখার জন্য বলা হয়। নিরাপত্তার জন্য ভবনের দোতলার সিঁড়িতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দুপুরের দিকে রাজশাহী সদর আসনের সাংসদ ফজলে হোসেন বিপণিকেন্দ্র পরিদর্শন করে চতুর্থ তলার নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। এরপর রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান বিপণিকেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন। তিনি চলে যাওয়ার পর আরডিএর পুনর্বাসিত ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরিদ মাহমুদ হাসান মাইকে দোকানগুলো আগামী রোববার পর্যন্ত বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন। এ এইচ এম খায়রুজ্জামান বলেন, আগামী রোববার পর্যন্ত বিপণিকেন্দ্র বন্ধ রাখতে এবং চতুর্থ তলার নির্মাণকাজ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবনের ওপর থেকে সব নির্মাণ সামগ্রী নামিয়ে আনতে বলা হয়েছে।আগামীকাল শনিবার সকালে গণপূর্ত বিভাগ, রাজশাহী প্রযুক্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলীরা ভবন পরিদর্শন করবেন। তাঁরা যদি মনে করেন, চতুর্থতলা ভেঙে ফেলতে হবে, তাহলে তা ভেঙে ফেলা হবে। তবে নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এস্টেট অফিসার কামরুজ্জামান প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, ছাদের ও বিমের যেখানে ফাটল দেখা দিয়েছে, আসলে ওই জায়গাগুলো দুই দিকের সম্প্রসারণ মুখ। এসব জায়গায় সামান্য একটু ফাঁক ছিল। ব্যবসায়ীরা সৌন্দর্যের জন্য ওখানে প্লাস্টার করে দিয়েছেন। তাপমাত্রা বাড়ার কারণে এখন ফাটল দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, পিলারের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। এ জন্য উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, তত্কালীন আরডিএর চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার এর কাঠামো নকশা অনুমোদন করেন। বৈধভাবে এই ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির মতামত ছাড়াই চারতলার নির্মাণকাজ আরডিএ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৬-৮৭ সালের দিকে আরডিএ এখানে টিনশেড মার্কেট তৈরি করা করে। ২০০৪ সালের দিকে ওই স্থানে আরডিএ পুনর্বাসিত ব্যবসায়ী সমিতিকে দিয়ে পর্যায়ক্রমে দোতলা ও তিনতলা মার্কেট নির্মাণ করায়। এর ওপর এখন চারতলা করা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী, আগে নকশা অনুমোদন করে তারপর নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। এই ভবনটির মাটির ভার বহনের ক্ষমতার সঙ্গে নকশা ও বাস্তব নির্মাণ সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, কাঠামো নির্মাণ ও বাস্তব নির্মাণ অবস্থা সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা, পূর্বে নির্মিত তিনতলা ভবনের ওপর চার তলা নির্মাণ কারিগরি দৃষ্টিকোণ থেকে যথার্থ কি না, তা যাচাইয়ে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তত্কালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুর রহিম ২০১০ সালের ৭ জুলাই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের তত্কালীন প্রধান প্রকৌশলী সিরাজুম মুনীরকে এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন আরডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী আলী হোসেন মাছুদ, অথরাইজড অফিসার আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হায়াত মো. ফিরোজ, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহাকরী অধ্যাপক এন এইচ এন কামরুজ্জামান সরকার। এই কমিটি ২০১১ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, নিয়ম অনুযায়ী মাটির ভারবহন ক্ষমতা পরীক্ষা করে অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রকৌশলীর দ্বারা কাঠামো নকশা প্রণয়ন করে সেই মোতাবেক নির্মাণকাজ শুরু করার কথা, কিন্তু আরডিএ মার্কেটের এই ভবনের কাঠামো নকশায় মাটি পরীক্ষার কোনো সূত্র উল্লেখ নেই। এই ভবনের সঙ্গে মাটির ভার বহনের ক্ষমতা সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, এ ব্যাপারে কোনো মতামত এই তদন্ত কমিটি দিতে পারেনি। এই ভবনের নির্মাণকালে কংক্রিটের শক্তি পরীক্ষার কোনো প্রতিবেদন নেই। এতে ভবনটির বিম, কলাম, ছাদ, ভিত ইত্যাদির শক্তি বর্তমান প্রেক্ষাপটে তদন্ত কমিটি করতে পারেনি। এসব কারণে জনসমাবেশের স্থল হিসেবে পরিচিত তিনতলা ভবনের ওপরে চারতলা ভবন নির্মাণের বিষয়ে তদন্ত কমিটি কোনো মতামত প্রদান করতে অপারগতা প্রকাশ করেছে। এর পরও নির্মাণকাজ করা হচ্ছিল।