রাজশাহীস্থ বীর পুলিশ মুক্তিযোদ্ধারের সংবর্ধনা দিলো আরএমপি

রাজশাহীস্থ বীর পুলিশ মুক্তিযোদ্ধারের সংবর্ধনা দিলো আরএমপি

আরএমপি  উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস ২০২৩ উপলক্ষ্যে মহান
মুক্তিযুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধকারী রাজশাহী অঞ্চলের বীর পুলিশ মুক্তিযোদ্ধাদের
সংবর্ধনা দিয়েছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ।
আজ ১৮ ডিসেম্বর ২০২৩ সকাল সাড়ে ১১ টায় রাজশাহী পুলিশ পুলিশ লাইন্স ড্রিল শেডে
অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন
পুলিশের কমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার।


অনুষ্ঠানের শুরুতেই পুলিশ কমিশনার মহোদয়সহ আরএমপি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ
অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ফুলদিয়ে বরণ করেন এবং বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা
উপহার দেন। অনুষ্ঠানে ৩৪ জন পুলিশ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে এবং ১১ জন মৃত পুলিশ বীর
মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্যকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। এর আগে পুলিশ কমিশনার মহোদয়
রাজশাহী পুলিশ লাইন্‌স বধ্যভূমিতে শহীদ বীর পুলিশ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে ফুল দিয়ে
শ্রদ্ধা জানান। এরপর মহান মুক্তিযুদ্ধে পুলিশ লাইন্‌সে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর
বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরে আত্মত্যাগকারী শহীদ বীর পুলিশ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা
জানাতে সেখানে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। পরে সকল শহীদের বিদেহী আত্মার
মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
পুলিশ কমিশনার মহোদয় তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
এবং শহীদ বীর পুলিশ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে বলেন, জীবন বাজি রেখে
তাঁরা যুদ্ধ করেছে বলেই আমরা একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছি। মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ট্র
সন্তান। তাঁদের সম্মান জানাতে পেরে আমরা অত্যন্ত গর্বিত। পুলিশ বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ
আমাদের হিরো। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ সর্বদা বীর পুলিশ মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে ছিলো
এবং থাকবে। তিনি রাজশাহী পুলিশ লাইন্‌স বধ্যভূমিকে পরিকল্পিতভাবে সংক্ষণের কথা
ব্যক্ত করেন।


তিনি আরও বলেন, রাজশাহী পুলিশ লাইন্সে মহান মুক্তিযুদ্ধে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে রাজশাহী'র পুলিশ সদস্যরা
মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পরে। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ হতে ২৮ মার্চ তিন দিন রাজশাহী পুলিশ
লাইন্স হতে আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করতে
সক্ষম হয়। সেই যুদ্ধে একসাথে ১৮ জন পুলিশ সদস্য পাক হানাদার বাহিনীর হাতে শহীদ হন
এবং পুলিশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে দুই জন উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে শহীদ করেন।
যা মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের শহীদ হওয়ার ঘটনা রাজশাহীতেই ঘটেছে।

তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পুলিশ মুক্তিযোদ্ধাসহ সকল শহীদদের বিদেহী আত্মার
মাগফেরাত কামনা করে বক্তব্য শেষ করেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে অনেকেই এই মহান মুক্তিযুদ্ধের স্বাধীনতার সংগ্রামের
প্রত্যক্ষ ঘটনাবলী স্মৃতিচারণ করেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন অ্যান্ড
ফিন্যান্স) জনাব মো: রশীদুল হাসান, পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড
অপারেশনস) জনাব মোহাম্মদ হেমায়েতুল ইসলাম, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) জনাব মো:
সাইফউদ্দীন শাহীন ও আরএমপি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা পুলিশ
সদস্য এবং শহীদ পুলিশ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারবর্গ।