রাজশাহীতে প্রাচীর ধসে ১ শ্রমিকের মৃত্যু, আহত ৬

রাজশাহীতে নির্মাণাধীন একটি ভবনের পাশের দেয়াল ধ্বসে চাপা পড়ে এক নির্মাণ শ্রমিক মারা গেছেন। এই দুর্ঘটনায় ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৪ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠিয়েছে সার্ভিস কর্মীরা। শনিবার (১২ মার্চ) বিকাল ৩টার দিকে মহানগরীর ছোটবনগ্রাম উত্তরপাড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত নির্মাণ শ্রমিকের নাম রিয়াজুল ইসলাম (৩৫)। তিনি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বালিয়া ডাইং গ্রামের মাহতাব উদ্দিনের ছেলে। আহতরা হলেন- এনামুল হক (৩৫), ফিলীপ (৪০), কাজেম আলী (২৭) ও মনজুর আলম (৩৫)। তাদেরকে রামেক হাসপাতালের ৮ নং ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজনের বাড়ি গোদাগাড়ীর বালিয়া ডাইং গ্রামে। আর এনামুল হকের বাড়ি নগরের হেতেম খাঁ এলাকায়। আহত বাকি দুইজনকে ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকার এনতাজ আলী নামের এক ব্যক্তির জায়গায় গত দুইদিন ধরে বাড়ি নির্মাণের জন্য ভিত্তি খননের কাজ চলছিল। সেখানে ১৭ জন শ্রমিক এই কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। শনিবার বিকালে হঠাৎ নির্মাণাধীন বাড়ির পাশের দেয়াল ধ্বসে পড়ে। এতে ৭ জন শ্রমিক মাটির নিচে চাপা পড়ে। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা চালায়। এসময় ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা একজনকে মৃত অবস্থায় এবং বাকি ৬ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে। নির্মাণাধীন ভবনের শ্রমিক রাজিব হোসেন জানান, আমরা এখানে একটি বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্দেশ্যে ভিত্তির জন্য মাটি খোড়াখুড়ির কাজ করছিলাম। পাশেই বাউন্ডারি ওয়াল  ছিল। মাটি খোড়ার কারণে বাউন্ডারি ওয়ালটি ধসে যায়। ওয়ালের পাশেই ইটের খোয়া ছিল। বাউন্ডারি ওয়াল ধসে পড়লে ইটের খোয়াও এর উপরে পড়ে যায়। রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দপ্তরের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. আব্দুর রউফ বলেন, দেয়াল ধ্বসের খবর পেয়ে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। পরে আরও দুইটি ইউনিট উদ্ধার কাজের সঙ্গে যোগ দেন। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে আমাদের উদ্ধার কাজ শেষ হয়। আমরা একজনকে মৃত অবস্থায় এবং ৬ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হই। আহতদের মধ্যে চারজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকি দুইজনের অবস্থা গুরুতর না। তবে আহত সবাই আশঙ্কামুক্ত। রাজশাহী মহানগরের চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমরান হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ৫ জনকে উদ্ধার করে রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। এদের মধ্যে একজন মারা যায়। বাকি ৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য দুইজন নির্মাণাধীন ভবনের কাছেই রয়েছেন। এদের একজনের পায়ে জখম হয়েছে। বাকি একজন হাতে আঘাত পেয়েছে। তবে এই দুইজনের অবস্থা গুরুতর নয়।

Related Posts