যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনকে দমনে চীনের দ্বারে

যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনকে দমনে চীনের দ্বারে

লোহিত সাগরে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের দফায় দফায় হামলায় বিপর্যস্ত পশ্চিমারা। কোনোভাবেই ইরানপন্থি বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে থামাতে পারছে না তারা। এমন পরিস্থিতিতে হুতি যোদ্ধাদের হাত থেকে বাণিজ্যিক জাহাজ রক্ষায় প্রধান শত্রু চীনের দ্বারস্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ বিষয়ে বেইজিং তাদের কোনো ধরনের সহায়তা করেছে এমন লক্ষণ নেই।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেন অনুযায়ী, চলতি মাসে ওয়াশিংটন ডিসিতে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বিভাগের প্রধান লিউ জিয়ানচাও-এর সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা। বৈঠকে হুতিদের হামলা থামাতে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে চীনকে আহ্বান জানান মার্কিন কর্মকর্তারা।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধের জবাবে নরম সুরে একটি বিবৃতি দিয়ে দায় সেরেছে চীন। বিবৃতিতে লোহিত সাগরে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিতে সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।

গত অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হলে হামাসের প্রতি সমর্থন জানায় হুতি বিদ্রোহীরা। তাদের সমর্থনের অংশ হিসেবে নভেম্বর থেকে লোহিত সাগরে ইসরায়েলগামী ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জাহাজে হামলা করে আসছে তারা। নভেম্বরে ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট গ্যালাক্সি লিডার জাহাজ জব্দ করার পর থেকে অন্তত ২৬টি জাহাজে হামলা চালিয়েছেন হুতিরা। তাদের হামলার ভয়ে বিভিন্ন জাহাজ কোম্পানি হয় লোহিত সাগর এড়িয়ে ভিন্ন পথে গন্তব্যে যাচ্ছে নতুবা চুক্তিই বাতিল করে দিচ্ছে।

লোহিত সাগর দিয়ে প্রতিদিন তিন থেকে পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আনা-নেওয়া করা হয়। তবে হুতিদের হামলার জেরে এর পরিমাণ প্রায় ৪০ শতাংশের বেশি কমে গেছে।

এমন পরিস্থিতিতে জাহাজে হামলা ঠেকাতে ১১ জানুয়ারি থেকে ইয়েমেনে হুতিদের ওপর হামলা চালিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররা। মূলত ইরানপন্থি এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীদের সামরিক স্থাপনা নিশানা করেই হামলা করছে তারা। সবশেষ মঙ্গলবার মধ্যরাতে হামলা চালিয়ে ইরানপন্থি গোষ্ঠীটির দুটি জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে দেওয়ার দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, লোহিত সাগরে বিদেশি জাহাজে হুতিদের হামলার সক্ষমতা খর্ব করতে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটির বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা করেছে তারা।