যমুনার ‘হুর’ হবিগঞ্জে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিলো

যমুনার ‘হুর’ হবিগঞ্জে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিলো

হবিগঞ্জে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা দিয়েছে যমুনা গ্রুপ। শুক্রবার (৭ জুন) বিকালে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার যমুনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে যমুনা গ্রুপের লাইফস্টাইল ব্রান্ড ‘হুর’র আয়োজনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।

‘হুর’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুমাইয়া রোজালিন ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- যমুনা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম ইসলাম, ১০ মিনিট স্কুলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আয়মান সাদিক।

ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেছেন, ‘অনেকেই এমপি হয়, কিন্তু সবার কপালে যমুনা জোটে না। আমি এমন ভাগ্যবান এমপি যে, আমার কপালে যমুনা জুটেছে। আপনারা বলেন যে, কিসের জন্য আমার এত আত্মবিশ্বাস। কিসের জন্য আমি সারা বাংলাদেশে বুক ফুলিয়ে কথা বলি। কারণ আমি জানি, আমার এলাকায় যমুনা আছে। বিপদে পড়লে যমুনা পাশে দাঁড়াবে। শুরুতেই যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা নুরুল ইসলাম সাহেবের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। আমার একটি ইচ্ছে ছিল, তিনি জীবিত থাকতে যদি আমি এ এলাকার এমপি হতে পারতাম তাহলে তার সঙ্গে আমার দেখা হতো। বাংলাদেশে অর্থনীতিতে তার অনেক অবদান আছে।’

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘আপনারা যারা জিপিএ-৫ পেয়ে এখানে এসেছেন ১৯টি স্কুলের শিক্ষার্থী। আপনারা কারা জানেন? আমাকে যদি কেউ জিজ্ঞেস করে আপনার কাছ থেকে এমপি পদটি নেবে কে? কে হবে আমার পর এমপি। আমার বিশ্বাস হয় এ ১৯টি স্কুলেরই কেউ না কেউ আমাকে বিদায় দেবে। আমি আপনাদের স্বাগতম এখনই জানাচ্ছি। আমার একটি বিশ্বাস আমার ছেলে মেয়ে আমার কাছ থেকে এমপি পদ নিলে যতটুকু খুশি হবো তার চেয়ে বেশি খুশি হবো রক্তের উত্তরাধিকার না সক্ষমতার উত্তরাধিকার থেকে যদি আপনারা কেউ এমপি হন। যমুনার জন্য দোয়া করে দিয়ে যাচ্ছি। আমি কখনওই এসে বলবো না যে আমাকে একটু ভাগ দেন। এ টাইপের এমপি আমি না। আপনাদের যা লাগে এক এমপি হিসেবে বেতন ছাড়া যমুনার কর্মচারী হিসেবে যমুনাকে আমি প্রটেক্ট করবো। কেন করবো, আমার স্বার্থ কী? কারণ যমুনা যদি ভালো থাকে যমুনা যদি বেঁচে থাকে তাহলে আমার যে দায়িত্ব ১০০ জন ছেলে মেয়েকে পাঠিয়ে বলতে পারবো যে তাদেরকে একটি চাকরি দেন।’

যমুনা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম ইসলাম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘এই জিপিএ-৫ পাওয়ার পেছনে যাদের বেশি অবদান তারা হলেন মা-বাবা। তারা হচ্ছে গাছের মতো। যেই গাছ ছায়া দিয়ে আছেন। যতদিন এই বাবা মা বেছে থাকবেন, ততদিন এই ছায়া তারা দিয়ে যাবেন। সঙ্গে সঙ্গে তোমাদের যে শিক্ষকরা যারা বিচ বুনে দিয়েছেন, তোমাদের ফাউন্ডেশন তৈরি করে দিচ্ছেন, তোমরা এই ফাউন্ডেশনের জোরে জীবনে উন্নতি করবে। যমুনা গ্রুপের দরজা তোমাদের জন্য সব সময় খোলা থাকবে।’

যমুনা গ্রুপের পরিচালক ও লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড ‘হুর’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুমাইয়া রোজালিন ইসলাম বলেন, ‘যমুনা গ্রুপ যা করি সব মানুষের জন্যই করি। মাধবপুরে যমুনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে ৩০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এক লাখ ৫০ হাজার লোক এখানে সংযুক্ত থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আজ যাকে সবচেয়ে বেশি মিস করছি, তিনি আমাদের শ্রদ্ধেয় বাবা যমুনা গ্রুপের স্বপ্নদ্রষ্টা নুরুল ইসলাম। ওনার কঠোর পরিশ্রমের ফলই হচ্ছে, আজকের হবিগঞ্জের যমুনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক। ২০১৯ সালে ওনার হাত ধরেই এ ব্র্যান্ড যাত্রা শুরু করে। আমার একমাত্র মেয়ে হুরের নামে ওর নানা এ ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা করেন। হুর অলরেডি বাংলাদেশের সব মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে। হুর অতি শিগগিরই সিলেটে একটা নতুন ব্রাঞ্চ করবে। সব শিক্ষার্থী জন্য আমরা সবসময় একটা বিশেষ ছাড় রাখবো। যাতে শিক্ষার্থীরা হুরের প্রোডাক্ট খুব কম মূল্যে কিনতে পারে। হুরের প্রোডাক্ট সবসময় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্র্যান্ডকে ফলো করে। যারা একবার হুর কিনবে, সবসময় নিয়মিত কাস্টমার হয়ে যাবে। এছাড়া যমুনা গ্রুপ দুস্থ, অসহায়, গরিব যারা আছে, তাদের সঙ্গে আছে এবং থাকবে।’

ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন ও আয়মান সাদিকের প্রশংসা করে দৈনিক যুগান্তরের উপ-সম্পাদক বি এম জাহাঙ্গীর তাদের কাছে যমুনা গ্রুপের জন্য দোয়া ও সহযোগিতা চান। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা শপথ নেবেন চাকরি করবো না, চাকরি দিবো। ভবিষ্যতে এমপি সুমন হবো, আয়মান সাদিক হবো।’