মিয়ানমারের আরও ২ সেনা ঘাঁটি বিদ্রোহীদের দখলে

মিয়ানমারের আরও ২ সেনা ঘাঁটি বিদ্রোহীদের দখলে

মিয়ানমারের কাচিন প্রদেশে সেনাবাহিনীর আরও দুটি ঘাঁটি দখলে নেওয়ার দাবি করেছে বিদ্রোহীরা। সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিদ্রোহীদের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম মিয়ানমার নাউ।

মিয়ানমার নাউয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাচিন ইন্ডিপেনডেন্টস আর্মি (কেআইএ) ও কাচিন পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ)-এর যৌথবাহিনী কাচিন রাজ্যের এইচপাকান্ত এবং মানসি শহরে দুটি জান্তা ঘাঁটি দখল করেছে।

কাচিন রাজ্যটি মিয়ানমারের সর্বউত্তরে অবস্থিত। রাজ্যটির উত্তর ও পূর্বদিকে চীন, দক্ষিণে শান রাজ্য এবং পশ্চিমে সাগাইং অঞ্চল ও ভারত।

গত ২ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টায় কেআইএ ও কাচিন পিডিএফের যোদ্ধারা সেনাবাহিনীর নামতিন ঘাঁটি ঘেরাও করে হামলা চালায়। জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহীর মধ্যে একটানা ৪ ঘণ্টা পাল্টাপাল্টি হামলা চলে। একপর্যায়ে জান্তা বাহিনীর সেনারা রণেভঙ্গ দিলে বিদ্রোহীরা ঘাঁটিটি দখলে নেয়। নামতিন ঘাঁটি ছাড়াও এদিন মানসি শহরের আরেকটি ঘাঁটি দখলে নেয় বিদ্রোহীরা।

অন্যদিকে থাইল্যান্ডভিত্তিক মিয়ানমারের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইরাবতী জানায়, মিয়ানমারজুড়ে চলমান সংঘাতের মধ্যে গত তিন দিনে সশস্ত্র বিদ্রোহীগোষ্ঠীগুলোর কাছে কয়েকটি সেনা ঘাঁটি এবং ৬২ জন সেনা হারিয়েছে জান্তা সরকার। দখল হওয়া ঘাঁটিগুলো মিয়ানমারের সাগাইং, ম্যাগউই, মান্দালয় জেলা এবং কাচিন ও কারেন প্রদেশে অবস্থিত।

২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি এক সেনা অভ্যুত্থানে শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সু চি নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে দেশের ক্ষমতা দখলে নেন সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং। এরপর তিন বছর পার হয়ে গেছে। তবে এত দিন পার হলেও এখন সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় রয়েছেন জান্তাপ্রধান। গত অক্টোবরে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো জোট বেঁধে জান্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযানে নামলে একের পর এক এলাকার নিয়ন্ত্রণ হারাতে থাকে সেনাবাহিনী। বিদ্রোহীদের সঙ্গে সশস্ত্র লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে গণতন্ত্রপন্থি যোদ্ধারাও।