ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

আগামী ১ নভেম্বর থেকে নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। গত বছর করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে টানা ১৯ মাস ধরে কঠোর এই নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছিল দেশটির কর্তৃপক্ষ। এই সময়ে কোনো নাগরিক দেশের বাইরে ভ্রমণে যেতে চাইলে প্রয়োজন হতো পৃথক অনুমতির। তবে নভেম্বর থেকে এই অনুমতির আর দরকার হবে না

বুধবার (২৭ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, দীর্ঘ ১৯ মাস ধরে বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর সীমান্ত আইনের মধ্যে কাটিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ানরা। দেশ থেকে করোনা মহামারি দূরে রাখাই ছিল এর লক্ষ্য। তবে আগামী ১ নভেম্বর থেকে দেশের বাইরে ভ্রমণের জন্য আলাদা করে আর কোনো অনুমতি নিতে হবে না অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের। অবশ্য করোনা টিকার ডোজ সম্পন্ন করা ব্যক্তিরাই এই সুবিধা পাবেন। অস্ট্রেলিয়ার সরকার জানিয়েছে, বিদেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে যে ছাড় দেওয়া হয়েছে তা এখন আপাতত অস্ট্রেলীয় নাগরিকরাই উপভোগ করতে পারবেন। তবে বিদেশিদের ব্যাপারে শিগগিরই কিছুটা ছাড় দেওয়া হবে। এক বিবৃতিতে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কারেন অ্যান্ড্রুজ বলেছেন, চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই করোনা টিকার ডোজ সম্পন্ন করেছেন এমন দক্ষ শ্রমিক ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আমরা স্বাগত জানাতে পারবো বলে আশা করছি। এর আগে দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন নাগরিকদের জন্য সীমান্ত উন্মুক্ত করে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদেরকে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে দেওয়ার সময় এসেছে। চলতি অক্টোবর মাসের শুরুতে তিনি এই ঘোষণা দিয়েছিলেন। করোনা মহামারি রুখতে ২০২০ সালের মার্চ থেকে সীমান্ত সম্পূর্ণরূপে বন্ধ ঘোষণা করেছিল অস্ট্রেলিয়ার সরকার। এ বিষয়ক সরকারি আদেশে সেসময় বলা হয়েছিল, মৃত্যুশয্যায় শায়িত নিকটাত্মীয়কে শেষ দেখা বা এ জাতীয় অতি জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত কোনো নাগরিক বাইরের কোনো দেশে যেতে পারবেন না। একইভাবে, বাইরের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের নিজ দেশে প্রবেশের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম জারি করা হয়। আর অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের অস্ট্রেলিয়া ত্যাগের সুযোগ রাখা হলেও বাইরের দেশের ভ্রমণকারীদের প্রবেশে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়, যা এখনও জারি আছে।

অনলাইন ডেস্ক