ভোটের হার বেশি পাহাড়ে

ভোটের হার বেশি পাহাড়ে

দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সমতলের তুলনায় পাহাড়ে ভোটের হার বেশি পড়েছে। পাশাপাশি দুর্গম উপজেলাগুলোতেও তুলনামূলকভাবে ভোটের হার বেশি ছিল। এদিকে ব্যালটের চেয়ে ইভিএমে ভোটের হার কম পড়েছে। বুধবার (২২ মে) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের তৈরি সমন্বিত ফলাফল থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

দ্বিতীয় ধাপের ভোট শেষে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সমন্বিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (২১ মে) দ্বিতীয় ধাপে ১৫৬টি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ৩টিতে চেয়ারম্যান পদে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। নির্বাচন কমিশন থেকে ১৫৩টি উপজেলার ফলাফল সমন্বয় করা হয়েছে। এ ধাপে গড় ভোট পড়েছে ৩৭.৫৭ শতাংশ।

দ্বিতীয় ধাপে ১৫৩টি উপজেলার মধ্যে পাবর্ত্য তিন জেলার আটটি উপজেলায় নির্বাচন হয়েছে। আটটি উপজেলায় ৪ লাখ ৬০ হাজার ৪৩৩ জন ভোটারের মধ্যে ২ লাখ ৫৮ হাজার ২৭৩ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। পার্বত্য অঞ্চলের এই ৮ উপজেলায় গড় ভোট পড়েছে ৫৬ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। এ আট জেলার মধ্যে সবচেয়ে কম হারে ভোট পড়েছে কাপ্তাই উপজেলায়। সেখানে ভোট পড়েছে ৪২ দশমিক ৬৮ শতাংশ— যা দ্বিতীয় ধাপের গড় ভোটের চেয়ে ৪ শতাংশ বেশি। দ্বিতীয় ধাপের সর্বোচ্চ হারে ভোট পড়া উপজেলাটিও পাহাড়ের। খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলায় এ ধাপে সর্বোচ্চ ৭৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে গড় ভোটের চেয়ে প্রায় ২০ শতাংশ ভোট বেশি পড়েছে এখানে।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরাপত্তা বিবেচনায় দেশের ২৫টি জেলার ৭৩টি উপজেলাকে দুর্গম ঘোষণা করেছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পার্বত্যসহ দেশের হাওর, চর ও নদী বেষ্টিত অঞ্চলের দুর্গম ঘোষিত এই ৭৩টি উপজেলার মধ্যে পাহাড়ের ৮টিসহ ১৬টি উপজেলায় দ্বিতীয় ধাপে ভোট হয়েছে। এই দুর্গম অঞ্চলের ভোটের হারও সমতলের চেয়ে তুলনামূলক বেশি। ১৬টি উপজেলার গড় ভোট ৪৮ দশমিক ৭২ শতাংশ। এ সব উপজেলায় ১৫ লাখ ৪৭ হাজার ২২০ জন ভোটারের মধ্যে ৭ লাখ ৫৩ হাজার ৮৩৭ জন তাদের ভোট দিয়েছেন। হাওর, চর ও নদী বেষ্টিত ৮ উপজেলায় দ্বিতীয় ধাপে গড় ভোট পড়েছে ৪৫ দশমিক ৬০ শতাংশ। অবশ্য পাহাড় ও দুর্গম এলাকায় ভোটারের সংখ্যা স্বাভাবিক উপজেলার তুলনায় বেশ কম।

প্রথম ধাপের ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় ধাপেও ব্যালটের চেয়ে ইভিএমে ভোটের হার কম হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে ২৩টি উপজেলায় ইভিএমে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৪৮ লাখ ৬ হাজার ৬৯৫ ভোটারের মধ্যে ১৫ লাখ ৪৬ হাজার ৪৩১ জন ভোট দিয়েছেন। ইভিএমে ভোটের হার ৩২ দশমিক ১৭ শতাংশ। ইভিএমে সব চেয়ে বেশি হারে ভোট পড়েছে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে। এখানে ভোট পড়েছে ৪৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

এদিকে ইভিএমের তুলনায় ব্যালটে ভোটের হারের ব্যবধান প্রায় দ্বিগুণ। ব্যালটে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন ভোটের হারের ব্যবধান ৫৭। অপরদিকে ইভিএমে এই ব্যবধান হচ্ছে ৩০।

অপরদিকে সব চেয়ে কম ভোট পড়েছে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায়। ব্যালটে অনুষ্ঠিত এ উপজেলায় ভোটের হার ১৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ। অপরদিকে ইভিএমে সব চেয়ে কম হারে ভোট পড়েছে পাবনার চাটমোহর উপজেলায়। এ উপজেলায় ভোটের হার ১৮ দশমিন শূণ্য ১ শতাংশ।

গত ৮ মে অনুষ্ঠিত প্রথম ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৩৬ দশমিক ১৮ শতাংশ। এর মধ্যে ইভিএমে ভোট নেওয়া ২১ উপজেলার ভোটের হার ৩১ দশমিক ৩১ শতাংশ। আর ব্যালটে ভোট পড়ার হার ৩৭ দশমিক ৩১ শতাংশ।

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে রেকর্ড সংখ্যক কম ভোটার উপস্থিতির পর দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনেও ভোটের হারের তেমন উন্নতি হয়নি। ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় ও প্রার্থীদের কাছে ভোটের পরিবেশ তুলে ধরে কেন্দ্রে ভোটাদের আনার ব্যাপারে জোর দেওয়া হলেও সেই উদ্যোগ কাজে আসেনি। প্রথম ধাপের তুলনায় এক-শতাংশের মতো ভোট দ্বিতীয় ধাপে বেড়েছে।