• রবি. অক্টো ২৪, ২০২১

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করল তালেবান

আগ ১৯, ২০২১

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের পতনের পর ভারতের সঙ্গে সব ধরনের আমদানি-রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে তালেবান। ভারতের কেন্দ্রীয় রপ্তানি সংস্থার (এফআইইও) মহাপরিচালক ড. অজয় সাহাই বলেন, পাকিস্তানের ট্র্যানজিট রুট দিয়ে কার্গো চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে তালেবান। এর মধ্য দিয়ে দেশটি থেকে ভারতের আমদানি বন্ধ রয়েছে।

বুধবার (১৮ আগস্ট) তিনি বলেন, আফগান পরিস্থিতির ওপর আমরা নজর রাখছি। আফগানিস্তান থেকে আমরা পাকিস্তানের ট্রানজিট ব্যবহার করে আমদানি করে থাকি। যেহেতু তালেবান কার্গো চলাচলই বন্ধ করে দিয়েছে সেহেতু আমদানিও বন্ধ। বাণিজ্যে ভারতের সঙ্গে আফগানিস্তানের সম্পর্ক অনেক পুরনো উল্লেখ করে সাহাই আরও বলেন, আফগানিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কে আবদ্ধ দেশের অন্যতম ভারত। ২০২১ সালে ভারত প্রায় ৮৩৫ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আফগানিস্তানে রপ্তানি করেছে। আফগানিস্তান থেকে আমরা প্রায় ৫১০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছি। আফগানিস্তানে আমরা প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার ইনভেস্ট করেছি, দেশটিতে বিভিন্ন ধরণের আমাদের প্রায় ৪০০ টি প্রজেক্টের কাজও চলছে। তিনি বলেন, কোন কোন পণ্য উত্তর-দক্ষিণ ট্রান্সপোর্ট করিডোর রুট হয়ে যায়, যেটা এখনো ঠিকঠাক আছে। কিছু কিছু পণ্য দুবাই রুটে যায়, সেটাও এখন সচল আছে। সাহাই জানান, ভারতের সঙ্গে আফগানিস্তানের স্বাস্থ্যকর বাণিজ্য সম্পর্কই ছিল এতদিন। ভারত থেকে আফগানিস্তানে চিনি, জামাকাপড়, ঔষধ, চা, কফি, মশলা এবং ট্রান্সমিশন টাওয়ার রপ্তানি করা হয়। এদিকে আমদানির বড় একটা অংশজুড়ে রয়েছে শুকনো ফল। এছাড়াও পেঁয়াজ ও আঠাও আমদানি করে থাকে ভারত।

তিনি বলেন, আমি মোটামুটিভাবে নিশ্চিত যে খুব কম সময়ে আফগানিস্তান বুঝতে পারবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ছাড়া কোন দেশ এগোতে পারে না। আমি মনে করি নতুন সরকারের রাজনৈতিক বৈধতা দরকার হবে  আর সেটার জন্য ভারতের ভূমিকা তাদের জন্য একান্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে আফগানিস্তানের ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য থেকে সরে আসায় অর্থনীতিতে খুব বড় পরিবর্তন না আসলেও পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ঘটার সম্ভাবনা নাকচ করা যাচ্ছে না বলে জানান এই কর্মকর্তা। এর আগে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল দখলের পর ভারতকে ধন্যবাদ দিয়েছে তালেবান। তবে একই সঙ্গে দিল্লিকে সামরিক তৎপরতা চালানোর ক্ষেত্রে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি। তালেবান মুখপাত্র সুহাইল শাহিন এক সাক্ষাৎকারে সম্প্রতি বলেছেন,  আফগানিস্তানে ভারতীয় সেনা উপস্থিতির পরিণতি ভালো হবে না। ভারতীয়রা আফগানিস্তানে অন্যান্য দেশের সামরিক উপস্থিতির পরিণতি স্বচক্ষে দেখেছেন। তবে ভারতের উপকারের কথা স্বীকার করেন তিনি। বলেন, আফগানিস্তানের অবকাঠামো নির্মাণ, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, পুনর্গঠন ও জনকল্যাণে ভারত যেসব কাজ করেছে সে জন্য আমরা তাদের ধন্যবাদ জানাই।উল্লেখ্য, গত দুই দশকে আফগানিস্তানের অবকাঠামো নির্মাণকাজে কয়েকশ’ কোটি ডলার খরচ করেছে ভারত। আফগানিস্তানে সালমা বাঁধ তৈরি থেকে শুরু করে পার্লামেন্ট, স্কুল, রাস্তা তৈরির জন্য প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করেছে ভারত। বিদেশি কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিয়ে যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে সে সম্পর্কে তালেবান মুখপাত্র বলেন, কূটনীতিকদের ব্যাপারে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার; তাদের কোনো ক্ষতি আমরা করব না। সাক্ষাৎকারে উগ্র জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে তালেবানের সম্পর্ক থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন সোহেল শাহিন। তিনি বলেন, ভারতসহ অন্য কোনো দেশে হামলা চালানোর কাজে আফগানিস্তানের ভূমি ব্যবহার করার অনুমতি দেবে না তালেবান। এদিকে তালেবান যোদ্ধারা আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে প্রবেশের পর ‘সাধারণ ক্ষমা’ ঘোষণা করেছে। তালেবানের রাজনৈতিক মুখপাত্র সুহাইল শাহিন এক ঘোষণায় পুরো আফগানিস্তানে ‘সাধারণ ক্ষমা’ ঘোষণা করেন।