ব্লগার অনন্ত বিজয় হত্যা মামলা: পিছিয়েছে যুক্তিতর্ক

সিলেটে বিজ্ঞান লেখক, গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক ও ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশের চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় যুক্তিতর্ক পিছিয়েছে। ‘প্রস্তুতির অভাব’ জানিয়ে করা আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তিতর্ক পিছিয়ে দেন আদালত।

মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ আইনজীবী (পিপি) মুমিনুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এদিন সিলেট বিভাগীয় সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক নুরুল আমীন বিপ্লবের আদালতে উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের কথা ছিল। এজন্য সরকার ও বাদিপক্ষ প্রস্তুতি নিয়ে এলেও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা সময় প্রার্থনার আবেদন করেন। এই আবেদন গ্রহণ করে আদালত আগামী ৮ মার্চ মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পরবর্তী দিন নির্ধারণ করেন। এ তথ্য নিশ্চিত করে ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ আইনজীবী (পিপি) মুমিনুর রহমান জানান, আসামিপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে আরও সময় চাইলে বিচারক নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন। এ সময় মামলার আসামি আবুল খায়ের রশীদ আহমদ ও সফিউর রহমান ফারাবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এই মামলার অপর আসামিরা হলেন- আবুল হোসেন ওরফে আবুল হুসাইন, হারুনুর রশীদ ও ফয়সল আহমদ। এই তিনজন পলাতক রয়েছেন। অপর আসামি মান্নান ইয়াহিয়া ওরফে মান্নান রাহী গ্রেপ্তার হলেও কারান্তরীন অবস্থায় মারা যান। মারা যাওয়ার আগে মান্নান আদালতে স্বীকারোক্তিও দিয়েছিলেন।

এর আগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি আসামিপক্ষের তিনজনের সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণের পর আদালত যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন নির্ধারণ করেছিলেন। এ মামলায় ইতোমধ্যেই রাষ্ট্রপক্ষের ২৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। বাদি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মোহাম্মদ মনির উদ্দিন জানান, উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে আদালত রায় প্রদান করবেন। ২০১৫ সালের ১২ মে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে নগরীর সুবিদবাজারের নুরানি আবাসিক এলাকার বাসা থেকে কয়েকশ গজ দূরে অনন্ত বিজয়কে কুপিয়ে খুন করা হয়। এই ঘটনায় দায় স্বীকার করেছিল নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার বাংলা টিম। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই রত্নেশ্বর দাশ বাদি হয়ে অজ্ঞাত চারজনকে আসামি করে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন। ২০১৭ সালের ৯ মে সিআইডির পরিদর্শক আরমান আলী ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেন। ২০১৭ সালের ২৩ মে অভিযোগ গঠনের পর ২০২০ সালে এই মামলাটি সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয়।

Related Posts