• রবি. অক্টো ১৭, ২০২১

বিশ্বে প্রথম করোনার টিকা হিসেবে অনুমোদন পেল ফাইজার

সেপ্টে ১, ২০২১

বিশ্বে প্রথম করোনার টিকা হিসেবে স্থায়ী অনুমোদন পেল ফাইজার-বায়োএনটেকের করোনার টিকা। এর আগে এটি শুধু জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন-ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) এ তথ্য জানিয়েছে। করোনার ডেল্টা ধরন রুখতে কার্যকারিতার প্রমাণ পাওয়ায় ফাইজারের টিকাকে স্থায়ী ছাত্রপত্র দেওয়া হলো।
এফডিএর কমিশনার জেনেট উডকক বলেন, এ সিদ্ধান্ত আমাদের কাছে একটি মাইলফলক। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা টিকা নেওয়ার জন্য আরও আত্মবিশ্বাসী হবেন। তার দাবি, মানবদেহে দীর্ঘমেয়াদি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্নেষণ করেই ফাইজারকে পূর্ণাঙ্গ ছাড়পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তাই যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ, ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সের সবার জন্য ফাইজার ভ্যাকসিনের পূর্ণ অনুমোদনের কথা ঘোষণা করল।
এ কমিশনার জেনেট উডকক সোমবার বিবৃতিতে আরও জানান, জনগণ এখন আশ্বস্ত হতে পারেন এফডিএ একটি দ্রব্য অনুমোদনের জন্য যে নিরাপত্তা, কার্যকারিতা ও গুণগত মান আশা করে, এ ভ্যাকসিন তা সফলভাবে অর্জন করেছে। গত ডিসেম্বর মাসে, ফাইজার-বায়োএনটেকের ভ্যাকসিনকে জরুরি ভিত্তিতে অনুমোদন দেওয়া হয়।
বহু বিশেষজ্ঞ এখন আশাবাদী যে ভ্যাকসিনের পূর্ণ অনুমোদন সন্দেহপ্রবণ লোকজনকে টিকা নিতে উৎসাহিত করবে। বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র যখন আরও দ্রুত সংক্রমণশীল ডেল্টা ভেরিয়েন্টের বিরুদ্ধে লড়ে যাচ্ছে।
স্থায়ী অনুমোদনের পর ফাইজার সংস্থার সিইও আলবার্ট বুরলা আশা করেন, এ সিদ্ধান্ত আমাদের ভ্যাকসিনের ওপর আস্থা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে, কারণ জীবন বাঁচাতে এই ভ্যাকসিনই সর্বোত্তম পন্থা বলে বিবেচিত।
এর গত ডিসেম্বরে আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জরুরি ভিত্তিতে ব্যবহারের জন্য ফাইজারের টিকাকে ছাড়পত্র দিয়েছিলেন। তার আগে ব্রিটেন, বাহরাইন, কানাডা, সৌদি আরব ও মেক্সিকো সরকারের জরুরি অনুমোদন পেয়েছিল ফাইজার। জানায় বিবিসি।
এর আগে গত ২৮ জুলাই ফাইজার ও অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকার দুটি ডোজ নেওয়ার পর দেহে তৈরি হওয়া সামগ্রিক অ্যান্টিবডির মাত্রা ছয় সপ্তাহের মধ্যেই কমা শুরু হতে পারে। আর ১০ সপ্তাহের মধ্যে তা ৫০ শতাংশ কমে যেতে পারে।
স্বাস্থ্যবিষয়ক সাময়িকী ল্যানসেটে প্রকাশিত এক গবেষণায় এমন তথ্য মেলে। গবেষণাটি করেছেন ব্রিটেনের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের (ইউএলসি) বিজ্ঞানীরা। তারা বলেন, যদি অ্যান্টিবডির মাত্রা এভাবে কমতে থাকে, তবে টিকার সুরক্ষা প্রভাবও হ্রাস পাওয়া শুরু করবে। বিশেষ করে নতুন ভ্যারিয়েন্টের ক্ষেত্রে এই আশঙ্কা বেশি দেখা দেবে। খবর এনডিটিভির।
তবে এই সুরক্ষা কতটা দ্রুত কমতে পারে, তা নিয়ে কোনো ভবিষ্যদ্বাণী করা যাচ্ছে না বলে দাবি করেন গবেষকেরা। ইউএলসির ভাইরাস ওয়াচ গবেষণা বলছে, ভারতে কোভিশিল্ড নামে পরিচিত অ্যাস্ট্রাজেনেকার দুটি ডোজের চেয়ে ফাইজারের দুই ডোজে অ্যান্টিবডির মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
বিজ্ঞানীরা বলেন, সার্স-কভ-২ সংক্রমণের আগের চেয়ে টিকা নেওয়ার পর মানুষের অ্যান্টিবডির মাত্রা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ইউএলসি ইনস্টিটিউট অব হেলথ ইনফোরম্যাটিকসের মধুমিতা শ্রুতি বলেন, অ্যাস্ট্রাজেনেকা কিংবা ফাইজারের দুটি ডোজ নেওয়ার পর প্রাথমিকভাবে মানুষের অ্যান্টিবডির মাত্রা অনেক বেশি থাকে।
করোনায় মারাত্মক অসুস্থতার ক্ষেত্রে মানুষ এ কারণেই খুব সুরক্ষিত থাকতে পারে এবং সেদিক থেকে পুরোপুরি টিকা নেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, কিন্তু আমরা দেখতে পেয়েছি, অ্যান্টিবডির এ মাত্রা ছয় সপ্তাহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ১৮ ও এর ওপরের বয়সের ৬০০ এর বেশি মানুষের ওপর গবেষণার ভিত্তিতে এ ফল পাওয়া গেছে এবং সব শ্রেণির সব মানুষের ক্ষেত্রেই তা একই বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

তবে এভাবে অ্যান্টিবডি কমে যাওয়ার বাস্তবিক প্রভাব কী, তা এখনো পরিষ্কার হওয়া সম্ভব হয়নি।