বিশ্বগণমাধ্যম যেভাবে দেখছে আওয়ামী লীগের বিজয়ের খবর

বিশ্বগণমাধ্যম যেভাবে দেখছে আওয়ামী লীগের বিজয়ের খবর

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট টানা চতুর্থবার এবং পঞ্চম মেয়াদে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আবারও সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের নির্বাচনের সংবাদ। গত কয়েক দিন ধারাবাহিকভাবে সংবাদ প্রকাশ করেছে বিশ্বের প্রভাবশালী গণমাধ্যমগুলো।

রোববারের এই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের জয়ের পর সেই সংবাদও বেশ গুরুত্ব পেয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর শিরোনামে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর সংবাদ শিরোনামে বলা হয়েছে- বিরোধীদলের নির্বাচন বর্জনের মধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানা চতুর্থবারের মতো বিজয় নিশ্চিত করেছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি নারী সরকারপ্রধান হিসেবে নিজের খেতাব বজায় রেখে টানা চতুর্থ মেয়াদে দায়িত্ব পাচ্ছেন শেখ হাসিনা।

নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম ছিল। প্রধান বিরোধীদল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নির্বাচন বয়কট করে। তারা নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন পরিচালনার দাবি জানিয়েছিল। 

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন শিরোনামে বলা হয়েছে- বাংলাদেশের নির্বাচন : ক্র্যাকডাউন, বয়কট এবং বিপর্যস্ত ভোট। গত ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দল আবারও ক্ষমতায় যাচ্ছেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন শিরোনামে বলা হয়েছে- বিতর্কিত নির্বাচনে টানা চতুর্থবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ এবং তার মিত্ররা ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২২৩টিতে জয় নিশ্চিত করার পরে শেখ হাসিনা আরও পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করতে চলেছেন। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৪০ শতাংশ ভোট পড়ার কথা বলা হয়েছে তবে সমালোচকরা বলছেন, ভোটার উপস্থিতির এই হার বাড়িয়ে বলা হতে পারে।

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। রয়টার্সের প্রতিবেদন শিরোনামে বলা হয়েছে- প্রধান বিরোধীদলের ভোট বর্জনের মধ্যে টানা চতুর্থ মেয়াদে নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধান বিরোধীদল নির্বাচন বয়কট করায় কম ছিল ভোটার উপস্থিতি। সরকারি হিসেবে এই নির্বাচনে প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছে। যদিও ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত গত নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৮০ শতাংশের বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েট প্রেস (AP)-এর সংবাদ শিরোনামে বলা হয়েছে- নির্বাচনকে ঘিরে নানা সহিংসতা এবং প্রধান বিরোধীদলের বয়কটের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা এবং তার দল আওয়ামী লীগ টানা চতুর্থ মেয়াদে নির্বাচিত হয়েছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন প্রধান বিরোধীদল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নির্বাচনকে মেনে নিতে অস্বীকার করেছে এবং বাংলাদেশের ভোটাররা সরকারের একতরফা নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করেছে বলে দাবি করেছে।