বিরাট ক্ষতিতে রাজশাহীর কয়েক হাজার আলুচাষি

শিক্ষকতার পাশাপাশি হিমাগারে আলু রাখেন আফজাল হোসেন ও মামুনুর রশীদ। আবাদ মৌসুমে জমি থেকে আলু কিনে হিমাগার ভাড়া করে এবারও ৩০০ বস্তা আলু রেখেছিলেন তারা। এ বছর আলুর দাম অস্বাভাবিক কমে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কেজিপ্রতি ৪ টাকা হারে প্রায় ২৫ হাজার কেজি মজুত আলুতে তাদের ক্ষতি হবে ১ লাখ টাকা।

রাজশাহীর অনেক চাষি আবাদ মৌসুমে কম দামের কারণে হিমাগার ভাড়া করে আলু রাখেন। তারাও এবার বিপুল ক্ষতির মুখে পড়েছেন। হিমাগার থেকে আলু ছাড়িয়ে বাজারে বিক্রি করার সাহস পাচ্ছেন না। দাম কমে যাওয়ায় হিমাগার ভাড়ার টাকাও পরিশোধ করতে পারছেন না। রাজশাহীর কয়েক হাজার আলুচাষি অর্থ সংকটে আসন্ন মৌসুমে আবাদ করতে পারবেন কিনা-তাও অনিশ্চিত। রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্র থেকে জানা গেছে, গত মৌসুমে রাজশাহীতে ৩৯ হাজার ৬২৯ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়। মৌসুম ভালো থাকায় আলুর ফলন হয়েছিল ৯ লাখ ৭৫ হাজার টন। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতি মৌসুমের মতো গত মৌসুমেও চাষিরা রাজশাহীর ৩৭টি হিমাগারে ৯৪ লাখ বস্তা আলু মজুত রেখেছিলেন। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে বছরের অধিকাংশ সময় হাটবাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও সামাজিক-রাজনৈতিক অনুষ্ঠানাদি বন্ধ ছিল। ফলে রাজশাহী থেকে রাজধানী ঢাকাসহ অন্য জেলাগুলোতে আলুর চালান হয়নি। ফলে মজুত আলুর বেশির ভাগই হিমাগারে পড়ে আছে।

রাজশাহীর তানোরের বাণিজ্যিক আলুচাষি হারুনুর রশীদ ও শরিফুল ইসলাম বলেন, প্রকারভেদে প্রতি বস্তায় আলু থাকে ৬০ থেকে ৮০ কেজি। গত মৌসুমে তারা হিমাগার থেকে নিম্নে ৩০ টাকা ও ঊর্ধ্বে ৪০ টাকা কেজিদরে আলু বিক্রি করেছিলেন। এ বছর হিমাগারে সর্বোচ্চ দাম মিলছে কেজিতে ১২ থেকে ১৩ টাকা। এক কেজি আলু আবাদে তাদের খরচই হয়েছে ১১ থেকে ১২ টাকা। তার ওপর এক বস্তা আলুর পরিবহণ খরচ ৩০ টাকার সঙ্গে ২৫০ টাকা হিমাগার ভাড়া রয়েছে। গত মৌসুমে ৮০ কেজির প্রতি বস্তা গড়ে বিক্রি করেছেন ২ হাজার ৮০০ টাকা দরে। এ বছর এখন পর্যন্ত ৮০ কেজির বস্তা বিক্রি হচ্ছে ৯৬০ থেকে ১ হাজার ৫০ টাকা করে। ফলে প্রতি বস্তায় তাদের ক্ষতি দাঁড়াচ্ছে অন্তত হাজার টাকা। মোহনপুরের আলুচাষি আব্দুল মজিদ প্রামাণিক জানান, তিনি একটি হিমাগারে হাজার বস্তা আলু রেখেছিলেন। এখন আলু বিক্রির মৌসুম হলেও অধিকাংশ আলু হিমাগারেই আছে। ক্রেতা নেই। বাজারে আলুর খুচরা কেজি ২০ থেকে ২২ টাকা। আর পাইকারি দাম ১১ থেকে সাড়ে ১২ টাকা। আবাদ মৌসুম শুরু হলে কিছু আলু বীজ আকারে বিক্রি হবে, কিন্তু এখনই মজুত আলু বিক্রি করা দরকার। হিমাগার ভাড়া পরিশোধ না করলে কর্তৃপক্ষ নিলাম করে ভাড়ার টাকা তুলে নেবে। আমার মতো অনেক আলুচাষি এখন পড়েছেন বিপাকে।