বিদেশ পাঠানোর প্রলোভনে ধর্ষণ, গ্রেফতার দালাল

নারীকে বিদেশ পাঠানোর প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে মো. খলিল মিয়া (৪৫) নামে এক দালালের বিরুদ্ধে। পরে ওই নারী বিদেশ গেলেও সেখানে গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি ধরা পড়ায় তাকে দেশে পাঠিয়ে দেয় নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ।

ভুক্তভোগী নারী দেশে এসে তার অনাগত সন্তানের পিতৃ পরিচয় দাবি করলে খলিল পালিয়ে যান। এ ঘটনায় ওই নারী থানায় মামলা করলে র‌্যাব-৩ এর সদস্যরা মঙ্গলবার (১০ মে) খলিলকে গাজীপুর সদর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। তার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা থানার ঘোগা গ্রামে।

র‌্যাব-৩ এর স্টাফ অফিসার বিনা রানী দাস জানান, এক নারী সৌদি আরব যাওয়ার জন্য খলিল মিয়া নামে এক স্থানীয় দালালের কাছে তার পাসপোর্ট দেন। তিনি ওই নারীকে নিয়ে রিক্রুটিং এজেন্সিতে নিয়ে যান এবং তার মেডিকেলসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করতে সহায়তা করেন। গত বছরের ২৬ নভেম্বর বিকেলে খলিল ওই নারীকে ভিসা ও পাসপোর্ট নেওয়ার জন্য তার খিলগাঁও তালতলা এলাকার মেসে যেতে বলেন। সেখানে গেলে ওই নারীকে ধর্ষণ করেন তিনি। ঘটনাটি গোপন রাখার জন্য খলিল ওই নারীকে ভয়ভীতি দেখান এবং তার সৌদি আরব যাত্রা বাতিল করার হুমকি দেন। পরে ওই নারী তার বিদেশ যাত্রা বাতিল হওয়ার ভয়ে ঘটনা গোপন রাখেন।

তিনি বলেন, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ওই নারী সৌদি আরব চলে যান। সেখানে তার আকামার জন্য মালিকপক্ষ মেডিকেল টেস্ট করলে ওই নারী জানতে পারেন তিনি চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। পরে মালিকপক্ষ ৮ এপ্রিল ওই নারীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। দেশে ফেরত আসার পর ওই নারী রিক্রুটিং এজেন্সিকে বিষয়টি জানান এবং খলিলের কাছে তার অনাগত সন্তানের পিতৃপরিচয় দাবি করেন। তখন খলিল কৌশলে পালিয়ে আত্মগোপনে যান। পরে ওই নারী বাদী হয়ে খিলগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে র‌্যাব-৩ এর একটি দল মঙ্গলবার সকালে গাজীপুর সদর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে খলিলকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারীকে ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করেছেন গ্রেফতার খলিল।

Related Posts