বাড়ছে ডেঙ্গু সংক্রমণ , ঝুঁকিতে শিশুরা

করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে রাজধানীতে বাড়ছে ডেঙ্গু সংক্রমণ  আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। প্রতিদিনই দুই শতাধিক রোগী ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশুরা। তারপরও নেই কাঙ্ক্ষিত সচেতনতা। অভিভাবকদের সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ওই বছর সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিল ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন।

দশ বছরের শাবাব। হেরে গেছে এডিসের কাছে। সোমবার ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হয় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে, শত চেষ্টায় সাধ্য কার তাকে বেধে রাখে। বুধবার (৪ আগস্ট) রাতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে শাবাব। চলতি বছরের শুরু থেকেই শঙ্কা ছিল বাড়বে ডেঙ্গু। ঘটছেও তাই। বিশেষ করে হাসপাতালের বিছানায় শিশুরাই বেশি। তবু টনক নড়ছে কই? দুই সিটির অভিযানে ঢুঁ মারলেই দেখা মেলে লার্ভার।
বিশেষ করে এখনো নির্মাণাধীন ভবনে নেই কাঙ্ক্ষিত মাত্রার সচেতনতা। বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) অভিযানে আরও কঠোর হওয়ার ঘোষণা উত্তরের মেয়রের।
উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, সবাইকে বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করব, আসুন আমরা আমাদের এলাকাটাকে পরিষ্কার করি। আমরা আমাদের কনস্ট্রাকশন যেখানে হচ্ছে সেখানে পরিষ্কার রাখি। অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন রাখাটা আমাদের অবহেলা, আমাদের অবজ্ঞা, আমরা ভাবি দেখি না কি হয়। এভাবে থাকলে জরিমানার পরিমাণ বেড়ে যাবে। সেক্ষেত্রে শিশুদের প্রতি আরও যত্নবান হতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে বর্তমানে ১০৭২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন। তাদের মধ্যে ঢাকার ৪১টি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১০২৫ ডেঙ্গু রোগী। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত ৩ হাজার ৪৪৬ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের মধ্যে ২ হাজার ৩৭০ রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। চলতি মৌসুমে ডেঙ্গু সন্দেহে ৪টি মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেলেও এখনও কোনো মৃত্যুই ডেঙ্গুজনিত বলে নিশ্চিত করেনি আইইডিসিআর।

 ডেঙ্গুর প্রকোপের এ সময়ে বাসাবাড়িতে অব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিসপত্রে পানি জমতে না দেওয়াসহ দিনে ও রাতে মশারি টানানোর পরামর্শ বিশেজ্ঞদের। প্রতিবছর বর্ষাকালেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোতে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ দেখা দেয়। ২০১৯ সালে দেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছিল।
দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৩০০ মানুষ প্রাণ হারান। তবে সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ১৭৯।