বাম জোটের হরতালে পুলিশ মাঠে থাকবে

জ্বালানি তেল ও গণপরিবহনের ভাড়া বাড়ার প্রতিবাদে হরতাল ডেকেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) অর্ধ দিবস এ হরতাল পালন করবে জোটটি। তবে হরতালের সময় সতর্ক থাকবে পুলিশ। যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ মাঠে থাকবে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন (ডিএমপি) পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার যেহেতু কর্মদিবস। বিভিন্ন অফিস-আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে, তাই মোড়ে মোড়ে তৎপর থাকবে পুলিশ। বাড়ানো হবে টহল ও পেট্রল টিম। এছাড়া সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি রাখা হবে।

ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. শহীদুল্লাহ  বলেন, স্বাভাবিক ডিউটির পাশাপাশি কিছু এলাকায় বিশেষ ডিউটি রাখা হবে। এর মধ্যে শাহবাগ, প্রেস ক্লাব ও পল্টন রয়েছে। শাহবাগে হরতালের নামে কোনো রাজনৈতিক দল যেন সুযোগ না নিতে পারে সেজন্য বিপুল সংখ্যক পুলিশ সেখানে রাখা হবে। এছাড়া গোয়েন্দা নজরদারিও চলবে।

পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাহ উদ্দীন মিয়া বলেন, হরতালে কেউ যেন কোনো যানমালের ক্ষতি করতে না পারে সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি থাকবে পুলিশের। সড়ক বন্ধ করে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটালে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ বলেন, সকাল থেকেই বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে পুলিশ ডিউটিতে থাকবে। বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে আইনানুগ ব্যবস্থা।

এদিকে হরতালের আগের দিন বুধবার (২৪ আগস্ট) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, সরকার বর্তমান সংকটে মানুষ বাঁচাতে দায়িত্বশীল আচরণ না করে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে চলেছে। সম্প্রতি মোটা চালসহ অন্য চালের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। জ্বালানি তেল ও সারের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে মানুষের জীবন অতিষ্ঠ।

তিনি আরও বলেন, আমরা মনে করি সরকারের এসব সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এখনই রুখে না দাঁড়ালে মানুষের পকেট কাটার এই উৎসব চলতে থাকবে। মানুষ নিষ্পেষিত হতে থাকবে।

বাম জোটের সমন্বয়ক বলেন, এমন পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত রাজপথে থেকে অর্ধদিবস হরতাল সফল করার আহ্বান জানাচ্ছি। এরপরও সরকার দাম কমানোর পদক্ষেপ না নিলে আগামীতে আরও বড় ধরনের কর্মসূচির জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস ও মরদেহ বহনকারী গাড়ি, গণমাধ্যমের গাড়ি, ওষুধের দোকান এবং খাবার হোটেল হরতালের আওতার বাইরে থাকবে।

Related Posts