বান্দরবানে গুলিতে নিহত ৪, মেলেনি পরিচয়

বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার সাঙ্গু নদীর পাড় থেকে উদ্ধার হওয়া গুলিবিদ্ধ চার পাহাড়ি যুবকের মরদেহ নিতে আসেননি কোনো স্বজন। আর নিহতদের পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় মামলা দায়ের করতে পারেছে না পুলিশ।

সোমবার (৭ মার্চ) বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গেই ছিল মরদেহগুলো। এর আগে রোববার (৬ মার্চ) সকালে রোয়াংছড়ি উপজেলার তারাছা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মংবাইতং পাড়া এলাকা থেকে মরদহগুলো উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহতদের পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় মামলা দায়ের করতে বিলম্ব হচ্ছে। মরদেহের আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গার প্রিন্ট) নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র সার্ভারের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পরিচয় শনাক্তের পর মামলা দায়ের করা হবে। ছাড়া, ওই চার যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছে নিরাপত্তা বাহিনী। স্থানীয়রা জানান, শনিবার দুপুরে তারাছা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মংবাইতং পাড়া এলাকায় দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলি বিনিময় হয়। তখন ঘর থেকে ভয়ে কেউ বের হননি। পরে খবর পেয়ে রোববার সকালে পুলিশ ও সেনা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ মরদেহগুলো উদ্ধার করেন। রোববার রোয়াংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান  বলেছিলেন, গুলিবিদ্ধ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। একইদিন বান্দরবানের পুলিশ সুপার জেরিন আখতার বলেন, মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

এদিকে, চলতি বছরেই বান্দরবানে দুই নারীসহ ১৮ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এতে জেলার আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা করছেন অনেকে। এ বিষয়ে বান্দরবানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল বলেন, পাহাড় ও সমতলের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা এক নয়। দুই নারী ও পাড়াপ্রধান লংরুই ম্রোসহ তার পরিবারের পাঁচজনকে হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। বাকি হত্যাকাণ্ডগুলো আঞ্চলিক সংগঠন জেএসএস, ইউপিডিএফ, মগ লিভারেশন পার্টি এদের ক্ষমতার আধিপত্য বিস্তারের ধন্ধে হয়েছে। পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, পাহাড় তাদের জন্য যত সহজ আমাদের জন্য তত কঠিন। যাতায়াত দুর্গমতার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তারা এ অপকর্মগুলো চালিয়ে যাচ্ছে। তবে খুব দ্রুত সেনাবাহিনীর সহায়তায় যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে সন্ত্রসীদের নির্মূল করা হবে।

Related Posts