• রবি. অক্টো ২৪, ২০২১

বলাকৈর পদ্মবিল দেখে মুগ্ধ পর্যটকরা

সেপ্টে ২২, ২০২১

গোপালগঞ্জের বলাকৈ গ্রামের বিল শরতে পদ্মফুলে ছেয়ে যায়। এসময় বিলে ফোটে গোলাপি ও সাদা পদ্ম ফুল। এই সৌন্দর্য সেখানে আগত পর্যটকদের বিমোহিত করে। উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকলেও শরৎ আসতেই হাজারও পর্যটকের ভিড় জমে এই বিলে।

গোপালগঞ্জ শহর থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে বলাকৈর গ্রামের অবস্থান। শহর থেকে অটোরিকশা ও টেম্পুতে করে পর্যটকরা সেখানে ঘুরতে যান। এরপর নৌকায় করে ঘুরে বেড়ান বিলে। পুরো গ্রামটিই একটি জলাশয়। মাঝে মাঝে ছোট বড় বাড়ির দেখা মেলে প্রতিবছর শরতে এই বিলবেষ্টিত গ্রামে ফোটে সাদা ও গোলাপি পদ্ম ফুল। যা দেখতে গোপালগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন হাজারও পর্যটক সেখানে ভিড় জমান। একইসঙ্গে স্থানীয় নৌকাচালক ও দোকানির ব্যবসা-বাণিজ্যও জমে ওঠে। আষাঢ় থেকে কার্তিক মাস এই এলাকায় কোনো কাজ থাকে না। তখন পদ্মফুলই তাদের ভরসা। আগত দর্শনার্থীদের নিয়ে নৌকায় ভ্রমণ করে তারা উপার্জন করে। খুশি হয়ে কেউ বাড়তি টাকা দিলে সেটাই তাদের কাছে অনেক বড় কিছু। নৌকার এক মাঝি হাসমত মোল্লা জানান, ‘প্রতিদিন অনেক মানুষ এখানে আসেন। তারা চিপস, পলিথিন ও বিরানির প্যাকেট ফেলে পরিবেশ নষ্ট করছেন। এটা ঠিক নয়। আমাদের পরিবেশ আমাদের রক্ষা করতে হবে।’ পদ্মবিল দেখতে আসা রত্না চৌধুরী বলেন, ‘হিন্দুদের দুর্গা, মনসাসহ বিভিন্ন পূজায় প্রয়োজন হয় পদ্মফুল। তাই একশ্রেণির গ্রামবাসী ফুল সংগ্রহ করে শহরে নিয়ে বিক্রি করেন। যা তাদের উপার্জনের একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে। গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা বলেন, ‘বলাকৈড় পদ্মবিলে জুলাই-আগষ্ট থেকে নভেম্বর-ডিসেম্বর পর্যন্ত পদ্ম ফোটে। এটি গোপালগঞ্জের একটি অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র। বিলে পর্যটকদের যাতায়াত সহজ করার জন্য রাস্তা বড় করা হচ্ছে।’ তিনি আরও জানান, ‘পর্যটন দপ্তরকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য গেষ্ট ও রেষ্ট হাউজ তৈরির পরিকল্পনা আছে। আর দর্শনার্থীরা যেন বিলে ময়লা অবর্জনা না ফেলে সেজন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে।’