• মঙ্গল. অক্টো ২৬, ২০২১

ফেসবুক লাইভে এসে ‘এসপির গদি’ ভাঙার হুমকি কাদের মির্জার

সেপ্টে ২, ২০২১

নিজের এক অনুসারীকে গ্রেপ্তারের পর নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) ‘গদি’ ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। একই সঙ্গে এসপি যাতে নোয়াখালী থেকে সম্মান নিয়ে যেতে না পারেন, সেই ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ফেসবুক লাইভে এসে এসব হুঁশিয়ারি দেন কাদের মির্জা।আবদুল কাদের মির্জা সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পৌর নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণাকালে জাতীয় নির্বাচন, দলের সাংসদ, বৃহত্তর নোয়াখালীর ‘অপরাজনীতি’ নিয়ে কথা বলে আলোচনায় আসেন কাদের মির্জা। একপর্যায়ে তিনি বড় ভাই ওবায়দুল কাদের ও তাঁর স্ত্রী ইশরাতুন্নেসা কাদেরের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ তোলেন।

কাদের মির্জার কথিত এসব ‘সত্যবচনের’ পর কোম্পানীগঞ্জ আওয়ামী লীগে বিভক্তি দেখা দেয়। মির্জা ও মির্জাবিরোধী পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় এক সাংবাদিকসহ দুজন নিহত ও অনেকে আহত হন। সম্প্রতি পুলিশ ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে সংঘর্ষের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুপক্ষের বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে।

ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে আবদুল কাদের মির্জার ঘনিষ্ঠ অনুসারী ও চর কাঁকড়া ইউনিয়নে তাঁর (মির্জা) ঘোষিত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন ওরফে বাদলকে (৪২) জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর কাদের মির্জার অনুসারীরা রাত ৯টার দিকে বসুরহাট ও টেকেরবাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন। নিজামের বিরুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জ থানায় বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অনুসারীকে গ্রেপ্তারের পর ফেসবুক লাইভে আসেন আবদুল কাদের মির্জা। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টার লাইভে তিনি বলেন, ‘এই এসপি, যেই এসপি, যাঁর কোনো জেলাতে চাকরি ছিল না। আজকে ষড়যন্ত্র করে তাকে এখানে পাঠিয়েছে, আমার কর্মীদের নির্মূল করার জন্য। সে আজকে রবিউলকে (ডিবির পরিদর্শক) দিয়ে আমার ছেলেকে গ্রেপ্তার করিয়েছে। তার গায়ের ওপর যদি একটা আঙুল দেওয়া হয়, তাহলে পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হবে। এসপি, তুমি বেশি বাড়াবাড়ি করছ। কাল রাতে আমার সাথে যেই ব্যবহার করেছ। তুমি এসপি, আমি ডিএস সমমর্যাদার প্রথম শ্রেণির পৌরসভার মেয়র। কাকে ভয় দেখাও? আবদুল কাদের মির্জাকে?’

কাদের মির্জা আরও বলেন, ‘আমি আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করি না। আমি রক্তচক্ষুকে ভয় করি না। আমি জেল খেটেছি ১৯৮২ সাল থেকে, বারবার। কাকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখাও। সাবধান করে দিচ্ছি, নোয়াখালীতে এসব অপকর্ম করলে এই এসপি, তোমাকে সাবধান করিয়ের (করছি)। আমাদের কাছে অস্ত্র নেই, কিন্তু কিল আছে। নোয়াখালীর মানুষ কিল কয়। কিল মানে মানুষ আছে, মানুষসহ নেমে তোমার এই গদি আমরা ভেঙে দিব। তুমি এই নোয়াখালী থেকে যাতে সম্মান নিয়ে না যেতে পারো, সেই ব্যবস্থা আমরা করব।’

কাদের মির্জা বলেন, ‘পুলিশের এত বড় ঔদ্ধত্য, মন্ত্রীর এলাকায় নৈরাজ্য। বরিশালে এত বড় ঘটনা ঘটল, পাঁচ দিনের মধ্যে সমাধান হয়ে গেছে। আমরা তো কারও আত্মীয়ও হতে পারলাম না। আমাদের অভিভাবক নাই। আমাদের এলাকায় আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর মতো নেতার জন্ম হয় নাই। এটাই হচ্ছে আমাদের দুর্ভাগ্য। এখানে আজ ইউএনও, এসি ল্যান্ড যেভাবে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে লুটপাট শুরু করেছে। আজকে এসপি এসে একরাইম্যা (সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরী) থেকে অর্থ নিয়ে আমার কর্মীদের ওপর যে অত্যাচার শুরু করেছে, আজকে কাকে বলব? কে শুনবে? কী চলছে এগুলো।’

কাদের মির্জার বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, তিনি ফেসবুক লাইভে দেওয়া কাদের মির্জার বক্তব্য শুনেছেন। পুরো বক্তব্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে, কেন তিনি এমন বক্তব্য দিলেন।

সূত্র : প্রথম আলো