অলিম্পিক ফুটবলে মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল-স্পেন

টোকিও অলিম্পিক ফুটবলের ফাইনালে শনিবার (৭ আগস্ট) ব্রাজিলের মুখোমুখি হচ্ছে স্পেন। ইয়োকোহামা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৫টায়।

সেলেসাওদের সামনে টানা দ্বিতীয় স্বর্ণ জয়ের সুযোগ। অন্যদিকে, লা ফিউরা রোজারা ভাঙতে চায় ২৯ বছরের খরা। ঘরের মাঠে ২০১৬-তে স্বপ্ন পূরণ হয়েছিল সেলেসাওদের। রিওতে জার্মানিকে হারিয়ে সেবার প্রথমবারের মতো অলিম্পিক ফুটবলের স্বর্ণ গলায় পরেছিলেন নেইমাররা। আনন্দে ভেসেছিল সাম্বার দেশ। ৪ বছর পেরোতেই, আরও একবার সেই মুহূর্তের অপেক্ষায় ব্রাজিল। টোকিও অলিম্পিকের ফিনিশিং টাচ ছোয়ার অপেক্ষায় দানি আলভেস-রিচার্লিসনরা। ব্রাজিলের জাপান মিশন শুরু হয়েছিল জার্মানদের হারিয়ে। রিচার্লিসনের হ্যাটট্রিকে আগেরবারের ফাইনালিস্টদের নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করে হলুদ শিবির। কিন্তু পরের ম্যাচেই থেমে যায় তাদের জয়রথ। গ্রুপের শেষ ম্যাচে আবারও জ্বলে উঠেন রিচার্লিসন, জয় পায় সাম্বারা।

 টোকিওতে ব্রাজিলের জয় মানেই তাই রিচার্লিসনের কারিশমা। আর ২ গোল হলেই অলিম্পিকে রোমারিওর রেকর্ড ছুঁবেন এ ফুটবলার। তবে, তার চেয়েও বড় অপেক্ষা দ্বিতীয়বারের মতো স্বর্ণ ছুঁয়ে দেখার। ব্রাজিল দলের অধিনায়ক দানি আলভেস বলেন, ‘আমি ২০২২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে মাঠে নামতে চাই। কিন্তু তার আগে অলিম্পিক স্বর্ণ জিততে চাই। স্পেন শক্ত প্রতিপক্ষ মানছি, কিন্তু অপ্রতিরোধ্য নয়। আমরা প্রতিটি ম্যাচ আধিপত্য ধরে রেখে জিতেছি। ফাইনালেও একইভাবে খেলবো। রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলা ব্রাজিলিয়ানদের রক্তে নেই, আক্রমণ হবে আমাদের মূল শক্তি। রিচার্লিসনের জন্য শুভকামনা থাকবে, যাতে সে দুই গোল করতে পারে।’
এদিকে, অলিম্পিকে স্পেনের শুরুটা ছিল নাটকীয়। ১৯৯২ সালে অলিম্পিকে ইভেন্ট হিসেবে প্রথমবার ফুটবল আসতেই, স্বর্ণ পদকটা পকেটে নিয়ে চলে যায় লা ফিউরা রোজারা। এরপর ২০০০ সালে একবার ফাইনালে উঠেছিল তারা। কিন্তু, দ্বিতীয় স্বর্ণের জন্য অপেক্ষা এখনো শেষ হয়নি স্প্যানিশদের। এবারের স্কোয়াডে থাকা ফুটবলাররা আশা দেখাচ্ছে লাল শিবিরকে। মূল দলের অন্তত ৬ জন ফুটবলার আছেন বয়স ভিত্তিক এ দলটায়।অ্যাসেনসিও, ওলমো, গার্সিয়া, পেদ্রি, ওয়ারজাবালরা জ্বলে উঠলে পদক তাই হাতের মোয়া লা ফুয়েন্তের দলের কাছে।
 তবে, টোকিও মিশনে নির্দিষ্ট একটা পরিকল্পনায় সেঁটে থাকা হয়নি স্পেনের। গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো জিতেছে তারা ধুঁকে ধুঁকে। কিন্তু নকআউটে এসে বদলে যায় তাদের কৌশল। ফাইনালে সে ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই এখন মূল্য চ্যালেঞ্জ। ইউরোর সেরা তরুণ খেলোয়াড় পেদ্রি অলিম্পিকে স্বর্ণ জয়ে মুখিয়ে আছেন, ‘ফাইনালে আমরা সেরা প্রতিদ্বন্দ্বীর বিপক্ষে খেলব। যে দলে দারুণ দক্ষ কিছু ফুটবলার আছে। তাই জিততে হলে আমাদের সেরাটা দিতে হবে। দুইদলই দারুণ। আশা করছি ফাইনালটাও অসাধারণ হবে।’