পেট্রাপোলে চার কোটি রুপির স্বর্ণ জব্দ

পেট্রাপোলে চার কোটি রুপির স্বর্ণ জব্দ

চার কোটি রুপির স্বর্ণ পেট্রাপোলে জব্দ করল বিএসএফ। জানা গেছে, ৭ মে সন্ধ্যায় ৩০ টি সোনার বিস্কুটসহ এক ভারতীয় ট্রাক চালককে গ্রেফতার করেছে আইসিপি পেট্রাপোল, ১৪৫ ব্যাটালিয়নের কর্মীরা। এছাড়া ৮ মে সকালে আলাদা দুটি ঘটনায় বাংলাদেশি নারী যাত্রীকে দুটি সোনার বিস্কুটসহ আটক করা হয়েছে।

আইসিপি পেট্রাপোল থেকে বিস্কুটের সঙ্গে বর্ডার পোস্ট হরিদারপুরের জওয়ানরা মোট ১৮টি সোনার বিস্কুটসহ আরও দুই পাচারকারীকে কলকাতায় যাওয়ার সময় আটক করে।

বিএসএফ-এর মুখপাত্র জানিয়েছেন, ০৭ মে ২০২৪-এ, আইসিপি পেট্রাপোল, বিএসএফের ১৪৫ ব্যাটালিয়নের বিএসএফ জওয়ানরা গোয়েন্দাদের কাছ থেকে সোনা পাচারের বিষয়ে খবর পান। এরপরই একটি ট্রাকে (WB 25E-8484) তল্লাশি চালিয়ে চালকের কেবিন থেকে ৩০টি সোনার বিস্কুট উদ্ধার করা হয়।

এছাড়া ৮ মে সকালে যাত্রী টার্মিনালে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে একজন বাংলাদেশি নারী  যাত্রীকে পরীক্ষা করার সময় জওয়ানরা শরীরে লুকানো ধাতুর চিহ্ন দেখতে পান। তারপর ওই নারীর থেকে দুটি সোনার বিস্কুট উদ্ধার করা হয়।

একই সীমান্ত চৌকি হরিদাসপুরে, ০৫ ব্যাটালিয়নের জওয়ানরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১৮টি সোনার বিস্কুটসহ দুই পাচারকারীকে গ্রেফতার করে, যারা কলকাতায় যাচ্ছিল।

গ্রেফতার হওয়া ট্রাক চালকের নাম উজ্জ্বল মণ্ডল। পিতা: দিলীপ মণ্ডল, গ্রাম: পলতা। বাস থেকে আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- তাপস রায়, পিতা: হরিপদ রায়, গ্রাম: ধাকপাদা এবং অভিজিৎ সাহা, পিতা: অনুপ কুমার সাহা, গ্রাম: রামনগর রোড। এরা সবাই উত্তর ২৪ পরগনার অধিবাসী। এদিকে আটক বাংলাদেশি নারীর নাম দিলরুবা আক্তার, স্বামী: আব্দুল হোসেন মোল্লা, জেলা: শরিয়তপুর, বিভাগ: ঢাকা, বাংলাদেশ।

জিজ্ঞাসাবাদে ট্রাক চালক উজ্জ্বল মণ্ডল জানিয়েছেন, ৩ মে কার্গো গেট হয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে যান তিনি। মঙ্গলবার বেনাপোল বাংলাদেশের বাসিন্দা মনু শেখের কাছ থেকে সোনার বিস্কুটের চালান তাকে দেওয়া হয়। ভারতে অজ্ঞাত এক ব্যক্তিকে চালানটি দিতে বলা হয়। এই সোনা ভারতে পাচারে সফল হলে ১০,৫০০ রুপি পেতেন বলে স্বীকার করেছেন উজ্জ্বল।

এদ্কি, অভিজিৎ সাহা ও তাপস রায় জানিয়েছেন, তারা দুজনেই কুলপুর রাইস মিলের কাছে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির কাছ থেকে সোনার এই চালানটি পেয়েছিলেন। চালান পাওয়ার পর দুজনেই কলকাতার বাস ধরেন। চালানটি সঠিকভাবে সরবরাহ করতে পারলে প্রতিটি বিস্কুটের জন্য ১০০ রুপি পেতেন তারা।

বাংলাদেশি নারী দিলরুবা আক্তার বলেন, তিনি যখন চিকিৎসার জন্য ভারতে আসছিলেন, তখন গ্রামের এক অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে ১০,০০০ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে দুটি সোনার বিস্কুট দেয়। কিন্তু আইসিপি পেট্রাপোলে চেক করার সময় বিএসএফ তাকে ধরে ফেলে।

এইসব সোনার বিস্কুট বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল। উদ্ধার করা সোনার বিস্কুটগুলোর মোট ওজন ৫৮৩৯.৪৮ গ্রাম এবং আনুমানিক বাজার মূল্য ৪,৩০,৬৬,১৬৫ রুপি।

বিএসএফ, দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তের জনসংযোগ আধিকারিক, ডিআইজি একে আর্য বিএসএফের সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। সোনা চোরাচালান সম্পর্কিত কোনও তথ্য পেলে বিএসএফের বর্ডার সাথি হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করতে সীমান্তে বসবাসকারী মানুষদের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

এ ব্যাপারে ১৪৪১৯ নম্বরে বিএসএফকে তথ্য দেওয়া যেতে পারে। দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তের আরেকটি ৯৯০৩৪৭২২২৭ নম্বরও দেওয়া হয়েছে। যাতে সোনা চোরাচালান সংক্রান্ত হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ বা ভয়েস মেসেজ পাঠানো যায়। সঠিক তথ্য প্রদানকারী ব্যক্তিকে উপযুক্ত পুরস্কারের আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর পরিচয় গোপন রাখার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।