পাকিস্তানে ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ

ভারতের একটি নিরস্ত্র সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র পাকিস্তানে গিয়ে আঘাত হেনেছে। বুধবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় হরিয়ানার সিরসা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি উড়ে এসে পাকিস্তানের ভূখণ্ডের ১২৪ কিলোমিটারের মধ্যে পড়েছে।

এটি ছিল চল্লিশ হাজার ফুট উচ্চতার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। এতে ভারত-পাকিস্তান দুই দেশেরই যাত্রীবাহী ফ্লাইট, বেসামরিক নাগরিক ও সম্পদ ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছিল।

এ নিয়ে উচ্চ-পর্যায়ের একটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে ভারতীয় সরকার। পাকিস্তানের আইএসপিআরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল বাবর ইফতিখার বলেন, পাঞ্জাব প্রদেশের মিয়া চান্নুতে এসে ক্ষেপণাস্ত্রটি পড়েছে। এতে পাকিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করা হয়েছে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটির আঘাতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। যেখানে সেটি পড়েছে সেখানে কোনো স্পর্শকাতর স্থাপনা নেই। ২০০৫ সালে সই হওয়া ভারত-পাকিস্তানের চুক্তি অনুসারে, দুই দেশই কোনো ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করতে চাইলে প্রতিবেশী দেশকে তা অন্তত তিন দিন আগে জানাতে হবে। উৎক্ষেপণ স্থল দুই দেশের আন্তর্জাতিক সীমারেখার চল্লিশ কিলোমিটারের মধ্যে হতে পারবে না। আর পরীক্ষার কোনো প্রভাব যাতে ৭৫ কিলোমিটারের মধ্যে না পড়ে, তাও নিশ্চিত করতে হবে। বাবর ইফতিখার বলেন, এ দুর্ঘটনা যে কারণেই ঘটুক না কেন, ভারতকে তার ব্যাখ্যা দিতে হবে। এভাবে গর্হিত আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছে পাকিস্তান। ভবিষ্যতে এ রকম ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর মুখপাত্র তারিক জিয়া বলেন, ক্ষেপণাস্ত্রটির ধ্বংসাবশেষ পাওয়ার পর আমরা জানতে পারি, এটি সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র। শুক্রবার ভারত জানিয়েছে, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের সময় কারিগরি ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনাবশত পাকিস্তানে একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এ রকম ঘটনা খুবই দুঃখজনক। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, যা অবশ্য স্বস্তিদায়ক।

 

Related Posts