পরীমনির মাদক মামলা চালাতে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল, শুনানি মঙ্গলবার

চিত্রনায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে বনানী থানায় দায়ের করা মাদক মামলা তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন হাইকোর্ট। এরপর এই আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ সোমবার (৭ মার্চ) আপিল করে। যার শুনানির জন্য মঙ্গলবার (৮ মার্চ) দিন ঠিক করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত।

সোমবার আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের চেম্বার জজ আদালত এ দিন ঠিক করে আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মিজানুর রহমান। তিনি জানান, আপিল আবেদনটি আজ শুনানির জন্য ছিল। কিন্তু পরীমনির আইনজীবীর সময় আবেদনের কারণে মঙ্গলবার দিন ঠিক করা হয়েছে।

পরীমনির আইনজীবী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম (জেডআই) খান পান্না ও অপর আইনজীবী মো. শাহিনুজ্জামান শাহীন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে ১ মার্চ ওই মামলা এবং অভিযোগ গঠনের আদেশের কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মামলায় অভিযোগ গঠনের আদেশ ও মামলা কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়। হাইকোর্টের বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. সেলিমের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মিজানুর রহমান বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৫ জানুয়ারি পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে হওয়া মামলা বাতিলের আবেদন খারিজ করে ঢাকার ১০ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম অভিযোগ গঠন করেন। এরপর ৩০ জানুয়ারি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১ ধারায় আবেদন করেন পরীমনি।

এ মামলার অন্য দুই আসামি হলেন- আশরাফুল ইসলাম দিপু ও কবির হোসেন। ২০২১ সালের ১৫ নভেম্বর এই তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ। একই সঙ্গে মামলাটি বিশেষ জজ আদালত ১০-এ বদলি করা হয়। ওই বছর ৪ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক কাজী মোস্তফা কামাল আদালতে পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একই বছরের ৩১ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ শুনানি শেষে প্রতিবেদন দাখিল হওয়া পর্যন্ত পরীমনির জামিন মঞ্জুর করেন। পরদিন গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে মুক্ত হন এই নায়িকা ২০২১ সালের ৪ আগস্ট পরীমনিকে তার বনানীর বাসা থেকে আটক করে র‌্যাব। পরদিন ৫ আগস্ট বিকেলে পরীমনি, চলচ্চিত্র প্রযোজক রাজ ও তাদের দুই সহযোগীকে বনানী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর র‌্যাব বাদী হয়ে বনানী থানায় পরীমনি ও তার সহযোগী দীপুর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে। সেই মামলায় পরীমনিকে আদালতে হাজির করা হলে প্রথমে চারদিনের রিমান্ড ও পরে আরও দুই দফায় তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। মামলা সূত্রে জানা যায়, পরীমনি ২০১৬ সাল থেকে মাদকসেবন করতেন। এ জন্য বাসায় একটি ‘মিনিবার’ তৈরি করেন। সেখানে নিয়মিত ‘মদের পার্টি’ করতেন। চলচ্চিত্র প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজসহ আরও অনেকে তার বাসায় অ্যালকোহলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকের সরবরাহ করতেন ও পার্টিতে অংশ নিতেন।

Related Posts