পদ্মার গর্ভে চলে গেলো ৮৪ বছর আগের বিদ্যালয়

গত বছরও বিদ্যালয় থেকে পদ্মার দূরত্ব ছিল আধা কিলোমিটার; আর এখন পদ্মার পেটে বিদ্যালয়ের একাংশ। এ অবস্থা মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার চরাঞ্চলের ৪১নং সুতালড়ী রামচন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। প্রমত্তা পদ্মা নদীর ভাঙনে গিলতে বসেছে ৮৪ বছর আগে গড়া মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার চরাঞ্চলের ৪১নং সুতালড়ী রামচন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি।

শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিদ্যালয়টির এক-তৃতীয়াংশ নদীগর্ভে চলে গেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বিদ্যালয়টির সম্পূর্ণ অংশ পদ্মার গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৩৭ সালে বিদ্যালয়টি উপজেলার ধুলশুড়াতে স্থাপিত হয়। পরে পদ্মানদীর অব্যাহত ভাঙনের কবলে পড়ে বিদ্যালয়টি ২০০৭ সালে উপজেলার সুতালড়ী ইউনিয়নে স্থানান্তরিত হয়। পরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুনর্বাসন/পুনঃনির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ৪৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১২ ফুট প্রস্থবিশিষ্ট দু’তলা পাকা ভবন নির্মিত হয়। তখন নদীর সীমানা ছিল বিদ্যালয় থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে। বর্তমানে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা ২৬ জন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, প্রতি বছরের মতো এ বছরও পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে প্রায় দুই মাস পূর্বে ভাঙন শুরু হয়। প্রথমে ভাঙনের তীব্রতা কম থাকলেও গত ১৫ দিন ধরে ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে বেশি। ভাঙনের ফলে গত বুধবার রাতে বিদ্যালয় ভবনের এক-তৃতীয়াংশ ভেঙে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারলে রক্ষা করা সম্ভব হবে না চিরচেনা বিদ্যালয়টিকে।  স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত এক মাসে ওই এলাকার শতাধিক পরিবার নদীভাঙনে তাদের বসতভিটা হারিয়েছেন। ভাঙনের ভয়ে ঘরবাড়ি অন্যত্র স্থানান্তর করেছেন অনেকে। এছাড়াও কৃষিজমি, বিভিন্ন ফলের বাগান ও স্থাপনাও নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

স্থানীয় বালিয়াগোপা গ্রামের আব্দুর রব মোল্লা জানালেন, দিন পনেরো আগেও বিদ্যালয় থেকে নদীর  দূরত্ব ৫০-৬০ ফুট ছিল। গত ১ তারিখ থেকে বিদ্যালয় ভাঙন রোধে বালুভর্তি জিওব্যাগ ডাম্পিং করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তাতেও বিদ্যালয়টির শেষ রক্ষা হচ্ছে না। তার মতে আরও বেশিসংখ্যক  জিওব্যাগ ফেলা হলে হয়তো বিদ্যালয়টি  শেষ রক্ষা করা যেত। ঠিক একই ধরনের অভিমত, সুতালড়ী রামচন্দ্রপুর গ্রামের রুস্তম খাঁর। তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড যদি আগে থেকে বিদ্যালয়টি রক্ষার উদ্যোগ নিত, তাহলে হয়তো বিদ্যালয়টিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পদচারণা পেত। দিকে শুক্রবার সকালে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাপস কুমার অধিকারী, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিনসহ কয়েকজন বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে আসেন।  এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, গত বছরেও সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে এসেছিল। তখন পদ্মা নদী থেকে বিদ্যালয়টির দূরত্ব ছিল প্রায় আধা কিলোমিটার।

Related Posts