নির্বাচন নিয়ে মুখোমুখি আওয়ামী লীগ ও বিএনপি

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে মুখোমুখি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। নির্বাচনকালীন সরকার ইস্যুতে উত্তপ্ত রাজপথ। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারিও দিচ্ছে দলটি। কিন্তু বিএনপির এসব হুমকি আমলে নিচ্ছেন না ক্ষমতাসীনরা। দলটির নেতারা বলছেন, সংবিধানের বিদ্যমান ধারাতেই হবে আগামী নির্বাচন। এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।

এমনকি এ ইস্যুতে বিএনপির সঙ্গে আলোচনায় বসতেও রাজি নয় দলের হাইকমান্ড। কাজেই এ ইস্যুতে সংবিধানের বাইরে কোনো আলোচনা নয়। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা চান সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক।

সেক্ষেত্রে সংবিধানের মধ্যে থেকে বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি অনুযায়ী সব ধরনের সুবিধা দেওয়া হবে। তবে কাউকে নির্বাচনে আনতে বিশেষ কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে না। উলটো নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চালানো হলে তা কঠোর হাতে প্রতিহত করা হবে। যদিও বিগত দুটি নির্বাচনে বিএনপিকে ভোটে আনতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, সংবিধানে যেভাবে আছে সেভাবেই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর বাইরে যাওয়ার তো কোনো সুযোগ নেই।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপি আন্দোলনে নামলে আওয়ামী লীগ কী করবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিএনপি তো আন্দোলন করে না। আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য করে। অতীতেও সেটাই করেছে। এবারও যদি আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য করতে চায়, তাহলে সরকার বসে থাকবে না। জনগণের জান-মাল রক্ষায় যা করণীয় তাই করবে। আওয়ামী লীগ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রতিহত করবে।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীনরা বিএনপিকে নির্বাচনমুখী করতে একাধিক প্রস্তাব দিয়েছিল। ২০১৩ সালের ২৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে ফোন করে তার বাসভবন গণভবনে এসে আলোচনার আমন্ত্রণও জানিয়েছিলেন।

কিন্তু তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। সেই নির্বাচনের আগে যে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়েছিল, সেই সরকারে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় বিএনপিকে দেওয়ার কথা বলেছিল আওয়ামী লীগ।

২০১৮ সালে বিএনপি ২০ দলীয় জোটের পাশাপাশি নতুন জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট করেছিল। একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রীর ডাকা সংলাপে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে অংশ নিয়েছিল বিএনপিও। নির্বাচনেও গিয়েছিল তারা।

এদিকে এবার দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে লাগাতার বিক্ষোভ সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালন করছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। উপনির্বাচন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোও বর্জন করে আসছে তারা।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ ৯ দফা দাবিতে ১২ তারিখ থেকে সাংগঠনিক বিভাগে সমাবেশ করবে দলটি। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপিকে ভোটে আনতে বিশেষ কোনো উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই আওয়ামী লীগের।

ক্ষমতাসীন দলের নেতারা মনে করেন যতই হুমকি-ধমকি দিক না কেন বিএনপি শেষ পর্যন্ত ভোটে আসবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও একাধিকবার বলেছেন-তারা চান সবাই নির্বাচনে আসুক, কিন্তু কেউ ভোটে আসতে না চাইলে তাদের কিছু করার নেই।

এর আগে ভারত সফর নিয়ে ১৪ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সবাই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক এটাই আমরা চাই। আর যদি কেউ না করে, সেটা যার যার দলের সিদ্ধান্ত।

এর জন্য আমাদের সংবিধান তো আমরা বন্ধ করে রাখতে পারি না। সংবিধানের যে ধারা, সে অনুযায়ী গণতান্ত্রিক ধারাটা অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে বিএনপিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদি কেউ না আসে (নির্বাচনে), সেখানে আমাদের কী করণীয়। হারার ভয়ে আসবে না। একেবারে সবাইকে লোকমা তুলে খাইয়ে দিতে হবে; জিতিয়ে দিতে হবে; তবেই আসব। এটা তো হয় না।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম যুগান্তরকে বলেন, আমরা চাই এবং মনে করি বিএনপি নির্বাচনে আসবে। তারা এলে আমরা স্বাগত জানাব। তিনি আরও বলেন, বিএনপি নেতারা নিরপেক্ষ সরকার, তত্ত্বাবধায়ক সরকার অনেক কথাই বলে। সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বলে কিছু নেই। উচ্চ আদালতের রায়ে এটা বাতিল হয়েছে। সুতরাং এটার আর কোনো সুযোগ নেই। সংবিধানের বিধান অনুযায়ীই নির্বাচন হবে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, বিএনপি যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি করছে, তা বিএনপিই প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল। দেশের জনগণও তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায় না। বিএনপি এখন আবার ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে। পরে জবাব জনগণই দেবে। তিনি আরও বলেন, যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে তারা নির্বাচনে আসবে। আর যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না তারা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র করবে।

Related Posts