দেশের ৬ কোটি ৮৩ লাখ মানুষ ভুগছে নিরাপদ পানির অভাবে

নিরাপদ পানির অভাবে ভুগছে দেশের ৬ কোটি ৮৩ লাখ মানুষ। জনসংখ্যার ১১ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষই ব্যবহার করছেন আর্সেনিকযুক্ত পানি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য। দূষিত পানি ব্যবহারে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন গ্রাম ও শহরের বাসিন্দারা। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জানান, শিগগিরই দেশের সবকটি জেলায় চালু করা হবে ওয়াটার টেস্টিং ল্যাব। ঢাকার পার্শ্ববর্তী জনবহুল নীলটেক গ্রাম। একটু খাবার পানির জন্য বাসিন্দাদের প্রতিদিন মাইলের পর মাইল হাঁটতে হয়। গ্রামটির প্রায় অর্ধেকের বেশি নলকূপগুলোর পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি রয়েছে। গ্রামটির এক যুবক বলেন, আমাদের গ্রামের বেশির ভাগ নলকূপের পানিতে আর্সেনিক রয়েছে। কোনো উপায় নেই, তাই বাধ্য হয়ে এই প্রতিদিন ব্যবহার করতে হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে নিরাপদ পানির জন্য হাহাকার চরমে পৌঁছে। এ সময় নলকূপগুলো থেকে পানি উঠানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। কয়েক মাইল দূরের তালুপুর থেকে হেঁটে পানি সংগ্রহ করতে হয় বাসিন্দাদের। এক নারী জানান, বিশুদ্ধ পানি আনতে দূরের এক গ্রামে যেতে হয়। অনেক সময় রান্না বা খাওয়ার পানিও ঠিকমতো পাওয়া যায় না।   নিরাপদ পানির এমন সংকট শুধু গ্রামাঞ্চলে নয়। খোদ রাজধানীর ধানমন্ডিতেও রয়েছে। এ এলাকার বাসিন্দারা জানান, ওয়াসার ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানির কথা। জুরাইন, দনিয়া, যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া ও যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দাদের অভিযোগ তীব্র, একটাই কথা পানি সংকট। আরেকজন জানান, গন্ধযুক্ত পানি আসে, ওয়াসার লোক একদিন এসে বলে গেছেন ঠিক হয়ে যাবে, কিন্তু কিছুই হয়নি তেমনটি আছে এভাবেই চলছে দিন।  ধানমন্ডি এলাকার এক বাড়িওয়ালা জানান, ওয়াসার লোকজন এসে বলে গছে পানি আসে সায়েদাবাদ-মাওয়া থেকে। এর কোনো ব্যবস্থা হয়নি। এভাবেই যাচ্ছে দিন ময়লা পানি দিয়ে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে জনসংখ্যার প্রায় ১২ শতাংশ আর্সেনিকযুক্ত পানি ব্যবহার করে। ইউনিসেফ এর পানি ও স্যানিটেশন বিশেষজ্ঞ নার্গিস আক্তার বলেন, ১১ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ আর্সেনিক ঝুঁকির মধ্যে আছে। গত ১০ বছরে আর্সেনিক কার্যক্রম ধীরগতিতে এগিয়েছে। অবস্থার উন্নয়নে দেশের সব জেলায় দ্রুত ওয়াটার টেস্টিং ল্যাব বসানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, আর্সেনিক যেমন আছে তেমনিভাবে স্যালাইন ওয়াটার আছে, আবার অনেক জায়গাতে কোনোভাবেই পানি পাওয়া যায় না শুষ্ক মৌসুমে। আমরা প্রতিটি জেলায় একটি একটি করে পানি টেস্টিং ল্যাব স্থাপন করছি।  ২০৩০ সালের মধ্যে প্রত্যেক নাগরিককে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধার আওতায় আনতে সরকার নানা উদ্যোগ নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

Related Posts