নরসিংদীর সড়ক দুর্ঘটনায় মা-ছেলেসহ নিহত ৬

নরসিংদীতে কাভার্ডভ্যান ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে মা-ছেলেসহ ৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৭ জন। শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে পাঁচদোনা-টঙ্গী আঞ্চলিক মহাসড়কের ভাটপাড়া চাকশাল মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার গ্রামের সাইফুল ইসলামের স্ত্রী ঝরনা বেগম (৩০) ও তার ছেলে আলামিন (১০), গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার মোজাফফর হোসেনের ছেলে চাঁন মিয়া (৫৫), লেগুনাচালক নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার নোয়াগাঁও এলাকার আ. হান্নানের ছেলে আমান মিয়া (২৩) ও অজ্ঞাত দুই জন পুরুষ।

পুলিশ জানায়, পাঁচদোনা থেকে একটি কাভার্ডভ্যান টঙ্গীর দিকে যাচ্ছিল। কাভার্ডভ্যানটি পাঁচদোনা-টঙ্গী আঞ্চলিক মহাসড়কের ভাটপাড়া চাকশাল মোড়ে পৌঁছলে বিপরীত দিক ঘোড়াশাল থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী লেগুনার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় লেগুনার সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে রাস্তার পাশে গিয়ে ছিটকে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই ২ জন মারা যান। আহত হন আরও ১১ জন।  আহতদের পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে নেয়ার পর আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়। এদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় নরসিংদীর বেলাব উপজেলার বটশ্বের গ্রামের খলিলুল্লাহ পাঠানের ছেলে হাফিজুল্লাহ পাঠানকে (৪৫) ঢাকা নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নেয়া হয়। দুর্ঘটনার পর প্রায় এক ঘণ্টা এ পথে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকে। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার কাজ করে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করে।

পাঁচদোনা ফাঁড়ির ইনচার্জ ইউসুফ মিয়া বলেন, দুর্ঘটনাস্থলে ২ জন ও হাসপাতালে আরও ৪ জন মারা যান। ঘাতক কাভার্ডভ্যানটি আটক করা হয়েছে।

নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) ইনামুল হক সাগর জানান, এ দুর্ঘটনায় মা-ছেলেসহ মোট ৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৭ জন। এদের মধ্যে ৪ জনের নাম-ঠিকানা পাওয়া গেছে। বাকি হতাহতদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহের চেষ্টা করছে পুলিশ। নিহতদের মরদেহ নরসিংদী সদর হাসপাতালে রয়েছে।

Related Posts