দেশের মাটিতে পা রাখলেন সানা-দিয়া

জহির রায়হানের হারের মধ্য দিয়ে টোকিও অলিম্পিকে বাংলাদেশের যাত্রা শেষ হয়েছে। তার হারের দিনই (০১ আগস্ট) দেশে ফিরেছেন দুই আর্চার রোমান সানা ও দিয়া সিদ্দিকী, সঙ্গে ছিলেন কোচ ফ্রেডরিক মার্টিন ও অলিম্পিকে বাংলাদেশ আর্চারি দলের টিম লিডার ও ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজিব উদ্দিন আহমেদ চপল।

টোকিও অলিম্পিকে আশার পারদ খুব বেশি না থাকলেও দুই আর্চার রোমান সানা ও দিয়া সিদ্দিকীকে নিয়ে ভালই স্বপ্ন দেখেছিল বাংলাদেশ। কেউই আর প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। শূন্য হাতেই বিদায় নিতে হলো তাদের। একই পরিণতি বাংলাদেশের অন্য চার অ্যাথলিটের।  রোমান সানা সবচেয়ে বেশি স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন বাংলাদেশকে। পুরুষদের আর্চারির ব্যক্তিগত ইভেন্টের শেষ ষোলোতেও উঠেন তিনি। শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিতে রোমান ৭-৩ সেটের বড় ব্যবধানে হারান গ্রেট ব্রিটেনের টম হলকে। শেষ ষোলোয় কপাল পুড়ে বাংলাদেশী আর্চারের, কানাডার ক্রিসপিন ডুয়েনাসের কাছে মাত্র ২ পয়েন্টের কারণে হেরে যান তিনি। দিয়া সিদ্দিকী অবশ্য ব্যক্তিগত ইভেন্টে শেষ বত্রিশের বাধাই পেরোতে পারেননি, এক পয়েন্টের ব্যবধানে হারেন দক্ষিণ কোরিয়ার কারিনার সাথে। আর রোমানের সঙ্গে জুটি বেধে মিশ্র ইভেন্টের র্যাং কিং রাউন্ডে হারেন দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে।  অলিম্পিকে রোমান-দিয়া খুব ভেশি আলো ছড়াতে না পারলেও অনেকেই তাদের এ পারফরম্যান্সেই বেজায় খুশি। এই দলের ক্রীড়াপ্রেমীরা যুক্তি দেখাচ্ছেন, সানা-দিয়া দুজনেই এখনও অল্প বয়সী। অদূর ভবিষ্যতে যে তারা বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করবে না তার নিশ্চয়তা কে দিতে পারে! সানা অবশ্য নিজের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন। পদক জেতার জন্য তিনি টার্গেট করেছেন ২০২৮ অলিম্পিককে। এ জন্য শুধু রোমানের প্রচেষ্ঠাই যথেষ্ট না, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিতে হবে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকেও। রোমান নিজ যোগ্যতার মাধ্যমে অলিম্পিকে সরাসরি টিকেট নিশ্চিত করেছিলেন। টুর্নামেন্টে পদক জিততে না পারলেও নিজেকে প্রমাণ করে এসেছেন এই আর্চার। ১৭ বছর বয়সী দিয়া অবশ্য খেলেছেন ওয়াইল্ড কার্ড নিয়ে। এই দুই আর্চারের সামনেই এখনও এক জীবন আছে, অনেক কিছুই করার সুযোগ পাবেন তারা। বাংলাদেশিদের মধ্য এবারের আসর থেকে সবার আগে বিদায় নেন শুটার আব্দুল্লাহ হেল বাকী। বাছাইপর্বে হেরে যাওয়ায় তিনি সবার আগে দেশেও চলে আসেন। সাঁতার ও অ্যাথলেটিক্স দল আসবে ৩ আগস্ট।