• রবি. অক্টো ১৭, ২০২১

দ্বিতীয় দিন চলছে দেশজুড়ে ট্রাক মালিক-শ্রমিকদের কর্মবিরতি

সেপ্টে ২২, ২০২১

দেশজুড়ে চলছে ট্রাক মালিক-শ্রমিকদের কর্মবিরতি। ১৫ দফা দাবিতে সারা দেশে ৭২ ঘণ্টার কর্মবিরতির দ্বিতীয় দিন পালন করছে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) এ কর্মবিরতিতে চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। বেনাপোল বন্দরে আটকে আছে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক। পণ্যপরিবহন বন্ধ রয়েছে।

এদিকে কর্মবিরতিতে সাতক্ষীরা ভোমরা স্থলবন্দরে কোনো প্রভাব পড়েনি। ভোমরা বন্দরে আমদানি- রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতে চলছে। লোড আনলোড ও পণ্যপরিবহন চলছে স্বাভাবিকভাবেই। তবে নিশ্চিত ক্ষতির মুখে না পড়ে যায় এই উৎকণ্ঠা রয়েছে আমদানিকারক প্রতিনিধিদের মধ্যে। আর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীসহ দিন আনা দিন খাওয়া বন্দরের ১০ হাজার শ্রমিকদের মধ্যেও। যদিও সাতক্ষীরা ট্রাক মালিক সমিতির কার্যকরী সভাপতি মোনায়েম খান চৌধুরী সান্টু বলেছেন, এ কর্মবিরতির সঙ্গে ট্রাক মালিক সমিতির সম্পৃক্ত না থাকায় ভোমরা বন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। এদিকে রাজধানীতে গতকাল বাংলাদেশ ট্রাকচালক শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি তালুকদার মো. মনির এ সময়ের মধ্যে দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। কর্মবিরতিতে ব্যাহত হচ্ছে সুলভমূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রিও। এদিকে এই সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে দীর্ঘমেয়াদে রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা জানিয়েছে বিজিএমইএও। মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা থেকে বুধবারও ঠাঁয় দাঁড়িয়ে রয়েছে জরুরি পণ্য পরিবহন কাজে নিয়োজিত ট্রাক-পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান। কারণ ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৭২ ঘণ্টার কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ ট্রাকচালক শ্রমিক ফেডারেশন। সংগঠনটির নেতাদের দাবি, নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া ও নবায়ন করাসহ সড়কে নানামুখী হয়রানি বন্ধে দীর্ঘদিনেও কোনো সমাধান না পেয়ে এমন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছেন তারা। এবার সমাধান না এলে আরও বড় কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি সংগঠনটির নেতাদের।
 বাংলাদেশ ট্রাকচালক শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি তালুকদার মো. মনির বলেন, যে ট্রাকচালকের লাইসেন্সটার মেয়াদ শেষ হয়েছে সেটা পুনরায় দেওয়ার কথা। কিন্তু সেটা দিচ্ছে না। আর নতুন কোনো লাইসেন্স দিচ্ছে না। কাগজপত্র চেকের নামে হয়রানি নির্যাতন ও টাকা দাবি করে। ১৫টা সমস্যা আমরা চিহ্নিত করেছি। যদি আমাদের এ দাবি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মানা না হয় তাহলে আমরা লাগাতার আন্দোলন করব। করোনা ধাক্কা সামলে যখন স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে রপ্তানি আদেশ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তখন আবারও বাংলাদেশকে ভাবমূর্তি সংকটে ফেলতে পারে এ রকম কর্মসূচি। এমন আশঙ্কা তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর। বিজিএমইএর সহসভাপতি শহীদুল্লাহ আজীম বলেন, আমরাদের সেক্টরটা সময় মেপে চলার একটা সেক্টর। বায়াররা সময় মেপে দেয়, সে মাফিক আমাদের কাজ করতে হয়। বাংলাদেশে পরিবহন সেক্টরে ৭২ ঘণ্টার কর্মবিরতি চলছে এটা যদি বেশি সময়ে চলে যায়, তাহলে বায়াররা- আমার মনে হয় জেনে শুনে তারা কাজ দেবে না। তাদের সঙ্গে বসে একটা সিদ্ধান্তে আসা উচিত। এ কর্মবিরতি চলমান থাকলে টিসিবির সুলভমূল্যের পণ্য বিক্রির স্বাভাবিক কার্যক্রম চালানো সম্ভব না বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।  টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ন কবীর বলেন, আমাদের সব ডিলারের ট্রাক নেই। এ রকম ধর্মঘট থাকে সেক্ষেত্রে আমাদের স্বাভাবিক কাজের গতিতে বাধা পড়বে। দাবির যৌক্তিকতা বিবেচনায় সরকার দ্রুত সমাধান করবে এ কর্মবিরতির- এমন প্রত্যাশা শ্রমিকদের।