এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হলেন ফিফার সাবেক প্রেসিডেন্ট

ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ফিফার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন ক্যামেরুনের ইসা হায়াতু। এক বছরের কম সময় ক্ষমতায় থেকেই নাকি তিনি দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছিলেন। এই অভিযোগে মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন তিনি। তার নিষিদ্ধ হওয়ার খবরটি নিশ্চিত করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।

এক বিবৃতিতে ফিফা জানায়, ‘আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিএএফ) সভাপতি থাকাকালে অবৈধ কাজ করেছেন হায়াতু। ২০১৪ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত সময়কালের জন্য তিনি ফ্রান্সভিত্তিক একটি কোম্পানির সঙ্গে মিডিয়া ও মার্কেটিংয়ের চুক্তি করেছিলেন। সার্বিক বিষয় নিয়ে ফিফা বলেছে, কনফেডারেশনের পক্ষ থেকে হায়াতু নিজের ক্ষমতার জোরে অবৈধ চুক্তি করেছিলেন। যার কারণে সিএএফের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছিল। তাই তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সব ধরণের ফুটবল থেকে আগামী এক বছর নিষিদ্ধ থাকবেন। তাকে পরিশোধ করতে হবে জরিমানাও। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এক বছর নিষিদ্ধের পাশাপাশি ইসা হায়াতুকে গুণতে হবে ৩০ হাজার সুইস ফ্রাঁ জরিমানা। দুর্নীতির দায়ে ফিফা তাকে এই শাস্তি দিয়েছে।  হায়াতুর বয়স বর্তমানে ৭৪। ২৮ বছর বয়সে তিনি ক্যামেরুন ফুটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২৯ বছর পালন করেছেন আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের সভাপতি। আফ্রিকান ফেডারেশনের সভাপতি থাকাকালেই ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা ও ফিফার সঙ্গে সখ্য গড়ে উঠতে থাকে তার। ধীরে ধীরে তিনি ফিফার সহসভাপতিও হন। ২০১৭ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে তার ক্ষমতা হস্তান্তর হয়। ২০১০ সালে দারুণ তোপের মুখে পড়েন হায়াতু। ওই সময় তার বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের সুবাদে উপঢৌকন নেওয়ার গুঞ্জন ওঠে। ২০১০ সালে তিনি আফ্রিকান কাপের আগে টোগোকে কনফেডারেশন থেকে নিষিদ্ধ করেন। পরে টোগোই নিজেদের নাম টুর্নামেন্ট থেকে প্রত্যাহার করে নেয়। ওই সময় টোগোর ফুটবলারদের ওপর একটি হামলা হয়, যাতে দুজনের মৃত্যু ঘটে। এই ঘটনার হায়াতুকে নিয়ে প্রচুর সমালোচনা হয়। হায়াতু এখনও আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির অনারারি সদস্য। তার আগে ফিফার সভাপতি ছিলেন সেফ ব্লাটার। ২০১৫ সালে ব্লাটারের বিপক্ষে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে ক্ষমতা পান ইসা। এখন নিজেই দুর্নীনির দায়ে অভিযুক্ত। ওদিকে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সেফ ব্লাটার এখনও নিষিদ্ধ আছেন, যার মেয়াদ ২০২৮ সাল নাগাদ। এরপর মুক্তি পাবেন ৮৫ বছর বয়সী ব্লাটার।