দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের সময় প্রবল স্রোতে প্রাণ গেল ৮ জনের

প্রতিমা বিসর্জনের সময় পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার মালবাজারের মাল নদীতে প্রাণ গেল আটজনের। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

গতকাল রাত নয়টার দিকে জলপাইগুড়ির মালবাজারের মাল নদীতে চলছিল দুর্গা বিসর্জন পর্ব। এদিন এখানে বৃষ্টি ছিল না। নদীও শান্ত ছিল। আর এরই পরিপ্রেক্ষিতে মালবাজারের বিভিন্ন বারোয়ারি পূজার প্রতিমাসহ এলাকার চা–বাগানের বিভিন্ন সর্বজনীন পূজার প্রতিমা বিসর্জনের জন্য নিয়ে আসা হয় মাল নদীর তীরে। সেখানে ভক্তরা বিভিন্ন ট্রাকে করে আনা দুর্গাপ্রতিমা নামিয়ে তা বিসর্জন দিচ্ছিলেন।

হঠাৎ এ সময় কাছের পাহাড় থেকে প্রবল বেগে পানি এসে জলোচ্ছ্বাস বা হড়কা বানে ভেসে যায় অনেকে। অনেকে আশ্রয় নেয় মাল নদীর মাঝখানে থাকা ছোট্ট একটি দ্বীপে। পরে অবশ্য দ্বীপে আশ্রয় নেওয়া লোকজনকে উদ্ধার করেন জলপাইগুড়ির পুলিশ এবং ভারতের দুর্যোগ মোকাবিলা দল বা এনডিআরএফেএর সদস্যরা।

সর্বশেষ খবরে আজ বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যে এ দুর্যোগের মুখে পড়া আটজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ভেসে যাওয়া ১১ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মালবাজার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। আরও বহু মানুষ তীব্র স্রোতে ভেসে গেছে।

জলপাইগুড়ির জেলা প্রশাসক মৌমিতা গোদারা বসু বলেছেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসন দ্রুত উদ্ধারের ব্যবস্থা নেয়। এখন পর্যন্ত আটজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ভাটির দিকে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।

জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার দেবর্ষি দত্ত বলেছেন, জেলার পুলিশ, এনডিআরএফের সদস্য এবং স্থানীয় লোকজন তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। তিনিও মনে করেন, বহু মানুষ প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে ভাটির দিকে। পাহাড় থেকে প্রচণ্ড বেগে পানি নেমে আসায় মাল নদীতে এই হড়কা বানের সৃষ্টি হয়। আর তাতে ভেসে যায় বহু মানুষ। এ ঘটনার কথা শুনে দুর্ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন রাজ্যের অনগ্রসর দপ্তরের মন্ত্রী ও স্থানীয় বিধায়ক বুলু চিক বড়াইক।

এদিকে এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। রাজ্যের বিরোধী দলের নেতা শুভেন্দু অধিকারী ও সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমও শোক প্রকাশ করেছেন।

Related Posts