ঝিনাইদহ-৩ এমপি শফিকুলের সম্পদ বেড়েছে ১৫৩ গুণ

ঝিনাইদহ-৩ এমপি শফিকুলের সম্পদ বেড়েছে ১৫৩ গুণ

ঝিনাইদহ-৩ (মহেশপুর-কোটচাদপুর) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য (এমপি) শফিকুল আজম খাঁন চঞ্চল দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতস্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। তিনি নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর দশম নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। পরে একাদশ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নিয়ে আবারও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৫ বছরে দুবারের এমপি হিসেবে শফিকুল আজম খান চঞ্চলের নগদ অর্থ বেড়েছে ৫৫ গুণ। ১৫ বছর আগে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কোনো টাকা না থাকলেও বর্তমানে তার ব্যাংকে ৯৬ লাখ ২২ হাজার ৪৭৮ টাকা জমা রয়েছে। ১৫ বছর আগে তার স্ত্রীর নামে কোনো টাকা না থাকলেও বর্তমানে স্ত্রীর নামে ব্যাংকে জমা রয়েছে ৪০ লাখ ৭ হাজার ১৩২ টাকা। সেই সাথে ১৫ বছরে আয় বাড়ার পাশাপাশি অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে ১৫৩ গুণ। নবম, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি শফিকুলের হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

বর্তমানে এমপি শফিকুলের বার্ষিক আয় ৫১ লাখ ৩২ হাজার ১২৪ টাকা ও প্রার্থীর ওপর নির্ভরশীলদের আয় ৪ লাখ ১৯ হাজার ৪১৯ টাকা। ১৫ বছর আগে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হলফনামা অনুযায়ী তার বার্ষিক আয় ছিল ১ লাখ ষাট হাজার টাকা। তার ওপর নির্ভরশীলদের কোনো আয় ছিল না। ১৫ বছর আগে শেয়ার, সঞ্চয়পত্র/ব্যাংক আমানত থেকে তার কোনো বার্ষিক আয় না থাকলেও এ খাত থেকে বর্তমানে তার বার্ষিক আয় ৪১ লাখ টাকা। ১৫ বছর আগে কৃষিখাত থেকে ১৫ হাজার টাকা আয় হলেও বর্তমানে আয় ১ লাখ টাকা। ১৫ বছর আগে আইন ব্যবসা থেকে তার বার্ষিক আয় ৮৫ হাজার টাকা, বর্তমানে এ খাত থেকে আয় ৯ লাখ টাকা। ১৫ বছর আগে মেয়র পদের সম্মানীভাতা ৬০ হাজার টাকা পেয়েছেন বর্তমানে ব্যাংকসুদ থেকে আয় ৩২ হাজার ১২৪ টাকা। সেক্ষেত্রে ১৫ বছরে এমপি শফিকুলের আয় বেড়েছে ৩২ গুণ।

বর্তমানে এমপি শফিকুল নগদ অর্থ রয়েছে ২৭ লাখ ৬৬ হাজার ১০৮ টাকা ও তার স্ত্রীর নগদ অর্থ ২০ লাখ ৬৫ হাজার ২৮১ টাকা। নবম জাতীয় সংসদের হলফনামা অনুযায়ী সে সময় তার হাতে নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ৫০ হাজার টাকা ও তার স্ত্রীর কোনো নগদ অর্থ ছিল না। ১৫ বছরে তার নগদ অর্থ বেড়েছে ৫৫ গুণ। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এমপি চঞ্চলের রয়েছে ৯৬ লাখ ২২ হাজার ৪৭৮ টাকা তার স্ত্রীর রয়েছে ৪০ লাখ ৭ হাজার ১৩২ টাকা। ১৫ বছর আগে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এই সংসদ সদস্য ও স্ত্রীর নামে কোন টাকা জমা ছিল না। পোস্টাল, সেভিং সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রে বা স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগে স্ত্রীর নামে রয়েছে ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। ১৫ বছর আগে স্ত্রীর নামে এ খাতে কোনো বিনিয়োগ ছিল না। বাস ট্রাক মটরগাড়ী ও মটরসাইকেল ইত্যাদি বিবরণে ৭৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকা থাকলেও ১৫ বছর আগে ৪৫ হাজার টাকা দামের একটি মটর সাইকেল ছিল। হলফনামা অনুযায়ী বর্তমানে এমপি শফিকুলের নিজের ৭২ হাজার টাকা মূল্যের ৮ ভরি স্বর্ণ ও স্ত্রীর ২ লাখ টাকা মুল্যের ২৫ ভরি স্বর্ণ রয়েছে। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফ অনুযায়ী নিজের কোনো স্বর্ণ না থাকলেও স্ত্রীর নামে ৮ ভরি স্বর্ণ ছিল। বর্তমানে এমপির ৫৩ হাজার ৪০০ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও ২৪ হাজার ৪০০টাকার আসবাবপত্র ও স্ত্রীর ২লাখ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্র রয়েছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় এমপি শফিকুলের নামে মোট অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ২ কোটি ৮ লাখ ৩ হাজার ৩৮৬ টাকার। সেক্ষেত্রে ১৫ বছরে এই সংসদ সদস্যেরে অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে ১৫৩ গুণ। বর্তমানে স্ত্রীর নামে মোট অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৯৯ লাখ ৭২ হাজার ৪১৩ টাকা। ১৫ বছরে নিজের পাশাপাশি স্ত্রীরও অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে ১৭৬ গুণ। এছাড়া দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের হলফ নামায় এমপি চঞ্চলের নিজ নামে ১.১০ একর কষি ও ৭.৭৫ কাঠা অকৃষি জমি ও স্ত্রীর নামে ০.৯৬ একর কৃষি জমি ও নিজ নামে ২ কক্ষের একটি বাড়ি উল্লেখ করেছেন।