প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সশরীরে যোগ দেবেন জাতিসংঘ সম্মেলনে

আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় ৭৬তম জাতিসংঘ সম্মেলনে সশরীরে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন সোমবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

১৪ সেপ্টেম্বর থেকে নিউইয়র্কে সীমিত আকারে দুই সপ্তাহব্যাপী জাতিসংঘ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্ব নেতারা বক্তব্য দেওয়া শুরু করবেন। করোনা সংকটের কারণে প্রায় ১৯ মাস পর প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরে যাবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এবারের সম্মেলন খুব সীমিত আকারে হবে। জাতিসংঘ অনেক কম লোকজনকে নিয়ে যেতে বলেছে। কোন কোন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধান আসবেন আমরা তা জানি না। তবে আমরা আশা করছি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের নেতৃত্ব দেবেন। এবারে কোনো সাইড ইভেন্ট জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ভেতরে হবে না। তিনি বলেন, দুটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হবে। একটি পরমাণু শক্তি নিয়ে, যাতে গতবার প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আমি অংশ নিয়েছিলাম। আর একটি হবে বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ২১ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এবার সেখানকার কমিউনিটির সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ হবে না। হলেও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে হতে পারে। আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলব। কারণ জাতিসংঘও এ বিষয়টি মেনে চলতে বারবার তাগিদ দিচ্ছে। রোহিঙ্গাদের বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাবে বাংলাদেশের না : এদিকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সমাজে অন্তর্ভুক্ত বা রেখে দেওয়ার জন্য বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাবে বাংলাদেশ রাজি নয় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন। একই আয়োজনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমাদের অগ্রাধিকার ইস্যু হচ্ছে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন, রোহিঙ্গারা ফিরে যাবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংক একটা রিপোর্ট তৈরি করেছে, এটা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, ১৬টা দেশের জন্য। যেসব দেশে রিফিউজি আছে সেখানে তাদের হোস্ট কান্ট্রিতে ইন্টিগ্রেট করার বিষয়ে। যেহেতু রোহিঙ্গারা রিফিউজি না, আমরা এটা পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছি। এই রিপোর্টের সঙ্গে আমাদের চিন্তাভাবনার মিল নেই। রোহিঙ্গাদের ক্ষণিকের জন্য আশ্রয় দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা মনে করি, রোহিঙ্গাদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য একমাত্র পথ হচ্ছে নিজের দেশে ফিরে যাওয়া। চীনের সিনোফার্মের সঙ্গে চুক্তি করবে বাংলাদেশ : এ সময় যৌথভাবে করোনাভাইরাসের টিকা উৎপাদনে চীনের সিনোফার্মের সঙ্গে বাংলাদেশ চুক্তি করতে যাচ্ছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বাণিজ্যিক চুক্তির পাশাপাশি এ চুক্তি হবে বলে জানান তিনি। এর আগে চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সিনোফার্ম বাংলাদেশকে নিরবচ্ছিন্নভাবে টিকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিনোফার্মের কাছ থেকে টিকা কেনা শুরুর পর এক মাসে ৭০ লাখ টিকা পেয়েছি আমরা। চলতি মাসেও আসবে। চীনের টিকার বিপুল চাহিদা রয়েছে। এজন্য আগেই বাড়তি টিকার সংখ্যা জানাতে চেয়েছিল চীন। আমরা সেটা দিয়েছি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগামী আগস্ট থেকে তুরস্কের সঙ্গে যৌথ উৎপাদনে যাচ্ছে সিনোফার্ম। আমার সঙ্গে আলোচনার পর চীনের রাষ্ট্রদূত যৌথ উৎপাদনের খসড়া সমঝোতা স্মারক তাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। এই চুক্তি সইয়ের পর উৎপাদন শুরু করতে দুই মাস লাগতে পারে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।