চাপ বেড়েছে বাসে কক্সবাজার ছাড়ছেন পর্যটকেরা, বিমান বন্ধ থাকায়

চাপ বেড়েছে বাসে কক্সবাজার ছাড়ছেন পর্যটকেরা, বিমান বন্ধ থাকায়

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে সাগরের উত্তাল ঢেউ আছড়ে পড়ছে উপকূলে। রবিবার (২৬ মে) দুপুরে জোয়ারে পানি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কক্সবাজারে বেড়াতে আসা পর্যটকদের সাগরে না নামতে নিষেধ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছুসংখ্যক পর্যটক কক্সবাজার ছেড়েছেন।

আবহাওয়ার তথ্যমতে, রিমাল উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে। এটি কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করে এবং ১২০ কিলোমিটার গতিতে আঘাত হানতে পারে বলে আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছেন। আবহাওয়া অধিদফতরের সর্বশেষ বার্তায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৯ নম্বর বিপদসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

শনিবার (২৫ মে) বিকালের পর থেকে কক্সবাজারে রিমালের প্রভাব শুরু হয়েছে। থেমে থেমে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি আর দমকা হাওয়া বইছে। তবে কোথাও ঝোড়ো হাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। কিছু কিছু জায়গায় উপকূলের বাসিন্দারা ছুটছেন আশ্রয়কেন্দ্রে।

এদিকে, রিমালের প্রভাবে কক্সবাজার থেকে বিমান ওঠানামা বন্ধ ঘোষণা করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। কক্সবাজার বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক গোলাম মর্তুজা বলেন, ‘দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বিমান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে চালু করা হবে।’

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে পর্যটন নগরী কক্সবাজার ছাড়ছেন পর্যটকেরা। সে কারণে কক্সবাজারে দেখা দিয়েছে বাসের টিকিট-সংকট। কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না টিকিট।

কক্সবাজারের কলাতলী ডলফিন মোড়ের কাউন্টার মালিক শফিউল্লাহ বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ের কারণে পর্যটকদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা কক্সবাজার ছেড়ে যাচ্ছেন। দূরপাল্লার বেশির ভাগ বাস চলে গেছে। আজ কোনও টিকিট নেই। সব টিকিট বুকিং হয়ে গেছে। বিমান চলাচল বন্ধ করায় বাসের টিকিটের চাহিদা আরও বেড়েছে।’

এদিকে, কক্সবাজারের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে অনুরোধ জানাচ্ছে প্রশাসন। কক্সবাজারে ৬৩৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। মহেশখালীতে মানুষজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া শুরু হয়েছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান জানিয়েছেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সিপিপির ৮ হাজার ৬০০ এবং রেড ক্রিসেন্টের ২ হাজার ২০০ জনসহ ১০ হাজার ৮০০ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৬৩৮টি আশ্রয়কেন্দ্র। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে খোলা হয়েছে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। এ ছাড়া সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

রিমালের প্রভাবে সেন্টমার্টিন ও বঙ্গোপসাগরে পানি বেড়েছে। শনিবার রাতে কয়েকটি গ্রামে পানি ঢুকেছে। দ্বীপের বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়েছে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, ‘শনিবার রাতে জোয়ারের সঙ্গে বঙ্গোপসাগরে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছিল। এখনও দমকা হাওয়া সাগরের পানির উচ্চতা বেশি মনে হচ্ছে। দ্বীপের লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে।’

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় রিমাল কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছে। দমকা হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। বাতাসের গতিবেগ ১৩০ কিলোমিটার। বর্তমানে ঘূর্ণিঝড়ের বেগ ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারী বর্ষণের প্রভাবে কক্সবাজারের পাহাড়ি অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে। সবাইকে নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে।’ তবে এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত কক্সবাজার জেলার কোথাও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।