চট্টগ্রামে বাসায় টিকা দেওয়ার ছবি পোস্ট করে আটক, এক

চট্টগ্রামের পটিয়ায় স্বাস্থ্যকর্মীর টিকাকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নগরের খুলশী এলাকার একটি বাসায় নিয়ে টিকা দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। টিকার জন্য হাহাকারের মধ্যেই খোদ বাসার ভেতর টিকা গ্রহণের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাতে আটক হতে হয়েছে এক যুবককে।

রোববার (৮ আগস্ট) মধ্যরাতে নগরের খুলশী থানার জাকির হোসেন রোডের বাইলেনের একটি অভিজাত বাসা থেকে আটক করা হয় টিকাগ্রহণকারী হাসান নামে পোস্টদাতাকে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খুলশী থানার ওসি মো. শাহীনুর রহমান।
এর আগে শনিবার ‘এমডি হাসান’ নামে নিজ ফেসবুক পেজে টিকা গ্রহণের ছবি পোস্ট করে হাসান লেখেন ‘ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। অশেষ ধন্যবাদ প্রিয় বন্ধু মো. মোবারক আলীকে কোভিড ভ্যাকসিন প্রদানে সহায়তা করার জন্য। আলহামদুল্লিাহ মর্ডানার ১ম ডোজ সম্পন্ন।’

বিষয়টি গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ ও স্বাস্থ্যবিভাগের নজরে আসলে রোববার রাতেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয় হাসানকে। যদিও হাসান নিজেই তার আইডি থেকে সেই পোস্ট সরিয়ে নেন।

পুলিশ জানায়, খুলশীর জাকির হোসেন রোডের বাইলেনে পিএডিএল গার্ডেনিয়া ভবনের বাসিন্দা মো. হাসান শনিবার নিজ বাসায় টিকা গ্রহণ করছেন এমন ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন।
জিজ্ঞাসাবাদে হাসান জানান, তার এক ব্যাংকার বন্ধু এ টিকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।
যদিও সরকারি বিধি অনুযায়ী নির্দিষ্ট টিকা কেন্দ্রের বাইরে গিয়ে বাসাবাড়ি কিংবা অন্য কোনো স্থানে টিকা দেওয়া সম্পূর্ণ অবৈধ। তবে হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে রাতেই পুলিশ ব্যাংকার বন্ধুকে এবং টিকা প্রদানকারীকে খুঁজতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

পুলিশ ও হাসানের পোস্ট সংশ্লিষ্ট তথ্য বলছে, মোবারক আলী স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা। মোবারক আলী বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে যুক্ত থাকার পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়। হাসানের দেওয়া পোস্টে ‘আলী সিটিজি’ নামে এক ব্যক্তিকে ট্যাগ করেন। পুলিশের ধারণা, আলী সিটিজি ব্যক্তিই হয়ত সেই মোবারক আলী। যিনি এ ভ্যাকসিনের যোগান দিয়েছেন।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর রহমান বলেন, মো. হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তার জিজ্ঞাসাবাদে এক ব্যাংকারের নাম বলেছেন। তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এরসঙ্গে যারাই জড়িত থাকবে তাদের আটক করা হবে। এ বিষয়ে পরবর্তীতে জানানো হবে।

গত ২ আগস্ট চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) মো. রবিউল হোসেনের বিরুদ্ধে টিকাকরণে অনিয়মসহ নানা বিষয়ে আগে থেকেই অভিযোগ উঠেছিল।
এর মধ্যে রয়েছে তার স্ত্রী স্বাস্থ্য সহকারী কুলসুমা আকতার অনুপস্থিত থাকলে তিনি নিজেই হাজিরা দিয়ে দেন এমন অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। মাসখানেক আগে ঊর্ধ্বতনের কাছে লিখিতভাবে এসব অভিযোগ করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কর্মকর্তা (ইউএইচএফপি)।  
পরে গত শুক্র ও শনিবার সরকারি নির্দেশনা না মেনে আগেভাগে হুইপের ইউনিয়ন পটিয়ার শোভনদণ্ডীতে টিকাকরণ করেন তিনি। উপজেলার সব টিকা তার হেফাজতেই থাকে। ইউনিয়নে আগেভাগে দুই হাজার টিকাকরণের ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর বিষয়টির তদন্ত শুরু করেছে চট্টগ্রামের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

Related Posts