কয়েক হাজার অজ্ঞাতনামা আসামির খোঁজে মাঠে নেমেছে পুলিশ

কয়েক হাজার অজ্ঞাতনামা আসামির খোঁজে মাঠে নেমেছে পুলিশ

রাজধানীর নয়াপল্টনে গত ৭ ডিসেম্বর বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষে একজন নিহত ও পুলিশসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। ‘পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা’ দেওয়ার অভিযোগে রাজধানীর পল্টন ও রমনা থানায় পরদিন ৮ ডিসেম্বর তিনটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। এসব মামলায় ৪৭৩ জনের নাম উল্লেখ করে আরও কয়েক হাজার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এবার এসব আসামির খোঁজে মাঠে নেমেছে পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, গত কয়েকদিনের উত্তপ্ত পরিস্থিতি এখন আর নেই। যে কারণে বিএনপির কার্যালয়টিও দলটির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ৭ ডিসেম্বরের ঘটনার পর চারদিন পার হয়েছে। বিএনপির কার্যালয় ও আশে পাশের এলাকা থেকে যে ৪৭৩ জনকে আটক করা হয়েছিল, তাদের নাম উল্লেখ করা হয় মামলার এজাহারে। এরপর গ্রেফতার দেখিয়ে পুলিশ তাদের আদালতে পাঠায়। অজ্ঞাতনামা হিসেবে উল্লেখ করা কয়েক হাজার আসামির খোঁজে রবিবার (১১ ডিসেম্বর) থেকে মাঠে নেমেছে পুলিশ ও গোয়েন্দারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, পুলিশের ওপর হামলা ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেফতার করতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনলাইন মনিটরিং সেল থেকে তাদের নজরদারি শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে নয়াপল্টনসহ আশপাশের এলাকা থেকে সিসিটিভি ফুটেজ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করা হয়েছে। পর্যালোচনা করা হচ্ছে কে বা কারা পুলিশের ওপর হামলায় অংশ জড়িত ছিল। এছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসা নেতাকর্মীদের ওপর নজরদারিতে রাখা হয়েছে। ‍ফুটেজে আসা নেতাকর্মীদের কার্যালয়ের সামনে থেকে গ্রেফতার না করে আশপাশের এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতারের পরিকল্পনা রয়েছে গোয়েন্দাদের।

গত ৭ ডিসেম্বর রাস্তা থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের সরিয়ে দিতে গেলে দুপুর ২টার দিকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন দলটির দলটির নেতাকর্মীরা।এক পর্যায়ে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশ টিয়ার শেল ও গুলি ছোড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য। এসময় বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশের ওপর বোমা হামলা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে বলে পুলিশ অভিযোগ করে। পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসার পর ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (অপারেশন) বিপ্লব কুমার সরকারের নেতৃত্বে বিএনপির কার্যালয়ে বিশেষ অভিযানে নামে পুলিশ। তার সঙ্গে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরাও ছিলেন। বিএনপি কার্যালয়ে পাঁচ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালিয়ে দলের সিনিয়র ছয় নেতাসহ ৪৭০ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। পরের দিন ৮ ডিসেম্বর মামলা দায়েরের পর রাতেই বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। তাদেরও এ মামলায় পুলিশের ওপর হামলার ইন্ধনদাতা হিসেবে গ্রেফতার দেখানো হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য অনুযায়ী নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলায় মতিঝিলের উপ-কমিশনার (ডিসি) হায়াতুল ইসলাম খানসহ আহত হয়েছেন ৪৭জন পুলিশ সদস্য। এরমধ্যে ১৭ জনের অবস্থা গুরুতর হলেও বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আর বিএনপির এক কর্মী নিহতসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পরের দিন কাকরাইল নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত বিএনপির কার্যালয়ের আশেপাশে সিসিটিভি বসায় পুলিশ। বর্তমানে ওসব সিসিটিভি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে।

ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হায়াতুল ইসলাম খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় কয়েকটি মামলা হয়েছে। ওসব মামলার অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন ফুটেজ ও তথ্য পর্যালোচনা করে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করেছে। মামলাগুলোর তদন্ত করছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

তিনি আরও বলেন, নয়াপল্টনের বিএনপি কার্যালয় ও আশপাশের এলাকার বিভিন্ন গলির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। বিশেষ করে যেসব গলিতে বিএনপির নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়ে পুলিশের ওপরে হামলা করেছিলো। এছাড়া ডিবি পুলিশ এটা নিয়ে কাজ করছে। এর পাশাপাশি থানা পুলিশও সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অপরাধীদের শনাক্তে কাজ করছে।